গল্প নয় সত্যি

এটিএম কার্ড

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০১৩, ২০:২০
ডালাসের এক ব্যাংকে টাকা তোলার জন্য লম্বা লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন ডন ওয়েটজেল। লম্বা লাইন দেখে মহাবিরক্ত তিনি। কুটেল কোম্পানির প্রোডাক্ট প্লানিংয়ের প্রেসিডেন্ট তিনি। অটোমেটেড ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং ইকুয়েপমেন্ট তৈরি করা তার কোম্পানির কাজ। এখন লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা তুলতেই যদি দিনের অর্ধেক চলে যায় তাহলে কাজ করবেন কখন। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভাবতে ভাবতেই একটা মেশিনের কথা কল্পনা করেন তিনি, যেটা দিয়ে শুধু তার চেক আইডেন্টিফিকেশন মার্ক ঢুকিয়ে দিলেই তার চাহিদামতো টাকা তিনি তার অ্যাকাউন্ট থেকে পেয়ে যাবেন। আইডিয়াটা নিয়ে তিনি চিফ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার টম বারনেস আর ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার জর্জ চ্যাস্টাইনের সঙ্গে আলাপ করেন। তারপর তিনজন মিলে ৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করে দাঁড় করান বিশ্বের প্রথম এটিএম মেশিনখানি। ঘটনাটা ১৯৬৮ সালের। তবে, কাজ চালানোর মতো মেশিনটি আসে ১৯৬৯ সালে। আর ডকুটেল এজন্য পেটেন্ট পায় ১৯৭৩ সালে। প্রথম এটিএম মেশিনটি বসানো হয়েছিল নিউইয়র্ক-ভিত্তিক কেমিক্যাল ব্যাংকে। এ ব্যাপারে ভিন্নমত রয়েছে, তবে ডন ওয়েটজেলের মত এটাই। কোনো লবিতে না, প্রথম এটিএম মেশিনটি বসানো হয়েছিল ব্যাংকের বাইরের দেয়ালে। বৃষ্টি থেকে বাঁচানোর জন্য উপরে একটা ঢাকনার মতো দিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেটা এতই উপরে ছিল যে, বৃষ্টির পানি তাতে মানত না। একবার তো মেশিনে পানি ঢুকে একাকার অবস্থা। তখন আবার মেশিন মেরামত করতে হলো। এটা পুরোপুরি এটিএম মেশিনও ছিল না। এ দিয়ে শুধু ক্যাশ টাকা তোলা যেত। আজকের যে আধুনিক এটিএম, সেটা এলো ১৯৭১ সালে। এই মেশিন দিয়ে টাকা জমা রাখা, টাকা তোলা, চেকিং থেকে সেভিংস বা উল্টোটা—সবই করা যায় এ মেশিন দিয়ে। প্রথমদিকের এটিএম মেশিন ছিল অফ-লাইন মেশিন। অর্থাত্ একটা অ্যাকাউন্ট থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টাকা তোলা যেত না। তখন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট কম্পিউটার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এটিএম-এর সাথে যুক্ত ছিল না। ফলে, ব্যাংকগুলো প্রথমদিকে শুধু নির্বাচিত লোকদেরই, বিশেষ করে ক্রেডিট কার্ড হোল্ডারদের এই সুবিধা দিত। পরে ওয়েটজেল আর তার দুই সহযোগী মিলেই প্রথম এটিএম কার্ডও বানিয়ে ফেলেন, যাতে একটি ম্যাগনেটিক স্ট্রিপ আর কার্ড হোল্ডারের পার্সোনাল আইডি নম্বর দেওয়া থাকত।