- ফোন টনিকের মত কাজ দিছে।
- ফোন করাতে হরতাল লুজ হইছে।
- ফোন না করলে হাফ সেঞ্চুরী পার হয়ে যেত।
- এখন তো এমনিতে মাত্র চার-পাঁচটা লাশ পড়ছে।
হরতালে ব্যাংক-বীমা সব খোলা ছিল। তবে পেছনের দরজা দিয়ে। প্রত্যেক অফিসের সামনের দরজা বন্ধ। পেছনের দরজা দিয়ে জরুরি গ্রাহকরা কাজ মেটাচ্ছেন। কাজ কম থাকায় কর্মকর্তারা একে অন্যের সাথে কথা বলে সময় কাটিয়েছেন বেশ। দিলকুশার এমনই একটি অফিসে কানে এল তেমন কিছু আলাপ।
- তক্কে তক্কে ছিল। আজকের হরতালে পিষে দিত। যা মারামারির হাত থেকে বাঁচাইছে শেখ হাসিনা তা আর বলার মত না।
- এই টোনটা ধরে রাখতে পারলে আর বড় ধরনের সমস্যা হবে না।
- বলা যায় না। এখনো তেমন কোন আশার আলো দেখা যাচ্ছে না।
- শেখ হাসিনা তো আর আবার ফোন দেবে না।
- হ্যাঁ। খালেদা জিয়াও তো আর আগ বাড়ায়ে যাবে না।
- বলেই তো দিয়েছে হরতাল শেষ হলে সংলাপের দাওয়াত দিলে খালেদা জিয়া যাবে। আর শেখ হাসিনা তো তার আগেই দাওয়াত দিয়ে বসে আছে।
- দুজন দুজনের স্বার্থেই যাবে।
এসব কথায় দুজন থাকে না। তাল দেয় আশপাশের আরও বেশ ক’জন।
- তবে হরতালটা ভালই হচ্ছে। অন্য হরতালে যেমন গাড়ি চলে তার থেকে কম চলেছে।
- মানুষের মধ্যে ভয় বেশি বলে হরতাল বেশি ভাল হয়েছে।
- শেখ হাসিনা একটা খুব ভাল কাজ করেছে। দৃষ্টান্ত দেখালো কিন্তু সে।
- এক ফোনে হাসিনা হিরো হয়ে গেছে।
- আরে তোমাদের মধ্যে সেই উত্তম যে আগে সালাম দ্বারা কথা বলে। হাদিসের কথা মনে করে হাসিনা ফোন দিছে।
- এই ফোনটা আরো আগে দিলে আরো ভাল হতো। আগে হাদিসের কথা মনে ছিল না।
- এখন দিছে এটাও মন্দ কি?
- ওয়ান ইলেভেনের শিক্ষা মনে থাকলে কথা বলাবলির কালচারে যাবে তারা।
- ফোনে দুইজন কথা বলাতে মানুষের মধ্যে স্বস্তি এসেছে। সবাই ভাবছে কিছু একটা হবে। মোরালি একটা সাপোর্ট তৈরি হয়েছে। এটাই বেশ খানিকটা আগায় দেবে। মানুষ মরা কমাবে।
- বাঙালি তো কিছুদিনের মধ্যে সব ভুলে যায়।
- আগের কথা মনে রাখে না। এতেই সুবিধা।
- যতই লোক দেখানো হোক, আর যাই হোক না কেন হাসিনার ফোনটা দেশের চেহারা পাল্টে দিয়েছে। এ ধরনের আর একটা-দুইটা কাজ করতে পারলেই হাসিনা প্রশংসিত হবে।
- অনেকগুলো জেলায় মারামারি হইছে।
- এখনতো সবাই মাঠে। পিঠ বাঁচাতে আর পিঠ ভাঙ্গতে দুই দলই মাঠে আছে। মারামারি কিছুটা হবে। রোধ করা যাবে না।
- কাল কি খালেদা জিয়া দাওয়াত খেতে যাবে? - নতুন একজন এসে যোগ দিলেন।
- মনে তো হয় না।
- খালেদা তো বলেই দিয়েছে। হরতালের মধ্যে যাবে না। হরতাল শেষ হলে যাবে। কাল তো খেতে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। হরতাল তিনদিনই হবে। বিএনপি যদি হরতাল বাদ দিয়ে রাতে খেতে যায় তবে বল কিন্তু বিএনপির দিকে যাবে। মানুষ এখন আর মারামারি গাড়ি ভাঙ্গাভাঙ্গি চায় না।
- সেইটা যদি বিএনপি বুঝতে পারে।
- হরতাল দেয়ার দিন তো শেষ হয়ে যাচ্ছে না। পরেও দিতে পারবে। এখন যাই হোক খালেদা জিয়ার উচিত রাতে গিয়ে আলোচনা করে আসা। তারপর বলুক যে শেখ হাসিনা কথা রাখেনি বা কিছু একটা। তাতে করে খালেদার ফিল্ড আরো ভাল হবে।
