হরতালে নিহত ৪

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৫৬
নির্দলীয় সরকারের দাবিতে প্রধান বিরোধীদল বিএনপির নেতৃত্বে ১৮ দলীয় জোটের ডাকা তিন দিনের হরতালের প্রথমদিন গতকাল রবিবার রাজপথে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। দেশের বিভিন্নস্থানে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ-যুবলীগ কর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষ ও হামলার এসব ঘটনায় ৪টি জেলায় ৪ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানীতেও বিচ্ছিন্নভাবে ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। দেশের বিভিন্নস্থানে আওয়ামী লীগ কর্মী ও পুলিশের সঙ্গে হরতালকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে যশোরের অভয়নগরে নওয়াপাড়া পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন শিমুল (৩৫) নিহত হয়েছেন। ফরিদপুরের নগরকান্দায় হরতালকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন নগরকান্দা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্চাসেবক দলের সহ-সভাপতি মারুফ হাসান (২১)। পিরোজপুরের জিয়ানগরে হরতাল সমর্থকরা পায়ের রগ কেটে স্বপন শীল (৩৫) নামে যুবলীগ কর্মীকে হত্যা করেছে। পাবনার ঈশ্বরদীতে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে জুলহাস হোসেন মুন্নাফ (৩০) নামে একজন জামায়াত কর্মী নিহত হয়েছেন। অভয়নগরে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নিহত যশোর অফিস ও অভয়নগর (যশোর) সংবাদদাতা জানান, তিন দিনের হরতালের প্রথমদিন নওয়াপাড়া পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন শিমুলকে (৩৫) খুন করেছে হরতালকারীরা। সকাল সাড়ে আটটার দিকে যশোরের শিল্প শহর নওয়াপাড়ায় হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির পরিত্যক্ত ভবনে তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে। এ সময় সন্ত্রাসীরা আলমগীর হোসেন শিমুলের সাথে থাকা অপর চারজনকে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে। আহতদেরকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় শিমুলকে বহনকারী মাইক্রোবাসটিতে অগ্নিসংযোগ করে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১২ রাউন্ড শটগানের গুলি ও ৫ রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এলাকার পরিস্থিতি থমথমে ছিল। পুলিশ জানায়, আলমগীর হোসেন শিমুল তার সঙ্গীদের নিয়ে নিজস্ব মাইক্রোবাসযোগে হরতালের বিপক্ষে যশোর-খুলনা মহাসড়কে অবস্থান নিতে নওয়াপাড়া হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সামনে পৌঁছলে হরতালকারীরা অতর্কিতভাবে ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এ সময় শিমুল পুলিশ ফাঁড়ির একটি পরিত্যক্ত ভবনে আশ্রয় নিলে তারা সেখানেই তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে। তার সঙ্গীদেরকেও কুপিয়ে আহত করে। আহতরা হলেন আরমান হোসেন (৩০), মাইক্রোবাস চালক লিমন হোসেন (৩২), ইনামুল ইসলাম (২৮) ও বায়েজিদ হোসেন (২৫)। পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে যশোর মর্গে পাঠিয়েছে। এলাকায় বিজিবি ও র্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। আতংকে নওয়াপাড়া এলাকার সকল স্কুল কলেজ বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনার পর পরই উপজেলা আওয়ামী লীগ বিক্ষোভ মিছিল বের করে। বিকাল ৩টার দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। অভয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক বলেন, বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে যুবলীগ নেতা আলমগীর হোসেন শিমুলকে খুন করেছে। অভয়নগর থানার ওসি কাজী আব্দুস ছালেক বলেন, হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারে অভিযান চলছে। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে পুলিশ ১০ জনকে আটক করেছে বলে জানান তিনি। খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি রফিকুল ইসলাম, যশোরের জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমান, পুলিশ সুপার জয়দেব কুমার ভদ্র ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। যুবলীগ নেতা শিমুলের বিরুদ্ধে অভয়নগরে একাধিক হত্যাসহ অসংখ্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। কয়েকমাস আগে শিমুল জেল থেকে ছাড়া পায়। তার বিরুদ্ধে হরতালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও নির্যাতন চালানোরও অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির ছত্রছায়ায় থাকায় সে পার পেয়ে যায়। নগরকান্দায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা নিহত ফরিদপুর প্রতিনিধি ও নগরকান্দা সংবাদদাতা জানান, ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় হরতাল সমর্থকদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। পুলিশ, র্যাবসহ আরো ৩০ জনের মতো আহত হয়েছেন। ফরিদপুর শহরের মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনের সড়কে বিএনপির পথসভায় গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। বিএনপির দাবি, আওয়ামী লীগ কর্মীরা এই গুলি করেছে। এতে ২ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। নগরকান্দায় গতকাল সকালে থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট লিয়াকত আলী খান ভুলুর নেতৃত্বে হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করে বিএনপি ও অংঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে জংঘুরদী বাসস্ট্যান্ড থেকে উপজেলা সদরের প্রধান সড়ক দিয়ে উপজেলা পরিষদের দিকে যেতে চাইলে বেইলি ব্রিজ এলাকায় পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এসময় পুলিশের সাথে হরতালকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। হরতাল সমর্থকদের সাথে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার এক পর্যায়ে পুলিশ গুলি ছুঁড়লে বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মারুফ হাসান (২১) নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মারা যায়। নিহত মারুফ নগরকান্দা পৌরসভার মিনার গ্রামের রাবু শেখের ছেলে। তিনি নগরকান্দা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি ছিলেন। অন্য গুলিবিদ্ধরা হলেন- ফাতেমা (১৮), বদুল (১৬), সায়েম (৩০), ফেরদৌস (২০), আহাদ (৩০), সাঈদ (৩০) ও হাফিজুল (২৫)। এদের মধ্যে হাফিজুল ফরিদপুর নিরাময় ক্লিনিকে এবং অন্যরা ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সংঘর্ষের সময় হরতাল সমর্থকদের ইটের আঘাতে নগরকান্দা থানার এসআই খলিলুর রহমান, এসআই কালাম, এসআই কুদ্দুস, এএসআই জহুরুল, নায়েক আজিজুল ও র্যাবের একজন কর্মকর্তাসহ ১১ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কর্মী নিহতের ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে বিএনপি নেতাকর্মীরা ঢাল-সড়কিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ফরিদপুর-নগরকান্দা আঞ্চলিক সড়কের বিভিন্নস্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। বেলা দেড়টা পর্যন্ত থেমে থেমে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ চলে। বেলা দেড়টার দিকে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও র্যাব সদস্য ঘটনাস্থলে গিয়ে লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে বিএনপি নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ফরিদপুর শহরে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে ফরিদপুর-বরিশাল সড়কে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। এসময় দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গুলি বিনিময়ের সত্যতা স্বীকার করেছেন সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বেলা ১২টার দিকে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা শহরের ওই এলাকায় হরতালের সমর্থনে সড়কে সমাবেশ করার প্রস্তুতি নেয়। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মোটর সাইকেল মহড়া দিয়ে সমাবেশস্থলের কাছ দিয়ে যাচ্ছিল। এসময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০ রাউন্ড গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ হন সড়কের পাশের পান ও চায়ের দোকানী আসলাম (৩০) ও অটোচালক জাকির (২৬)। তাদের ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুলিবিদ্ধ আসলামের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিত্সকরা জানিয়েছেন। পরিস্থিতি থমথমে। বিএনপি জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোদাররেছ আলী ঈসা দাবি করেছেন, পুলিশের উপস্থিতিতে আমাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে অতর্কিত হামলা করে গুলি চালায় আওয়ামী লীগের ক্যডাররা। জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক মোকাররম মিয়া বাবু দাবি করেন, বিএনপির কর্মীরা গাড়ি ভাঙচুর করছে এমন খবর পেয়ে সেখানে গেলে বিএনপির কর্মীরাই আমাদের উপর গুলি চালিয়েছে। সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান বলেন, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জিয়ানগরে রগ কেটে যুবলীগ কর্মীকে খুন পিরোজপুর অফিস, জিয়ানগর ও নাজিরপুর সংবাদদাতা জানান, হরতালের প্রথমদিন পিরোজপুরের জিয়ানগর, নাজিরপুর ও সদরে ব্যাপক সহিংসতায় একজন যুবলীগ কর্মী নিহত, সাংবাদিক ও পুলিশসহ অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন। ভোররাত থেকে জিয়ানগর উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে হরতাল সমর্থকরা তাণ্ডব চালিয়ে স্বপন শীল (৩৫) নামে যুবলীগের এক কর্মীর পায়ের রগ কেটে দেয়। এছাড়া আরো ২৫/৩০ জন আওয়ামী লীগ কর্মী-সমর্থককে মারধর করে। এদের মধ্যে ১০/১২ জনের অবস্থা গুরুতর। স্বপনকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে দুপুরে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিত্সকরা। পিরোজপুর শহরে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সাথে ১৮ দলের নেতাকর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশ ১০/১২ রাউন্ড টিয়ারশেল ও শর্ট গানের গুলি ছোঁড়ে। এ সময় শহরের পোস্ট অফিস সড়ক, সদর রোড, ক্লাব রোড রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও পুলিশের গুলিতে বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার সরোয়ারসহ বিএনপি-যুবদল-ছাত্রদলের ১০ নেতাকর্মী আহত হন। পিরোজপুর-নাজিরপুর সড়কে ভৈরমপুরে হরতালকারীদের পুলিশ ধাওয়া করে দুই দফা গুলি চালায়। এতে দুইজন আহত হয়। পিরোজপুরের শংকরপাশায় যুবলীগ-ছাত্রলীগ কর্মীদের হামলায় ডেইলি স্টারের জেলা সংবাদদাতা হাবিবুর রহমান আহত হয়েছেন। জিয়ানগর থেকে সংবাদ সংগ্রহ করে ফেরার পথে শংকরপাশা এলাকায় তাকে পিটিয়ে মারাত্মক আহত করে। ভোররাতে হরতাল সমর্থকরা মিছিল নিয়ে জিয়ানগরের বালিপাড়া বাজার ও আশেপাশে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। এসময় হরতাল সমর্থকরা বাঁশের লাঠি, রড, রাম দা, চেইন স্টিক, হকিস্টিক, চাপাতিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত ছিল। তারা রাতেই উপজেলার মধ্য ইন্দুরকানীতে সড়ক ও জনপথের জিয়ানগর-কলারন সড়কটি কেটে গভীর খাদের সৃষ্টি করে। এছাড়া এই সড়কটিসহ উপজেলার বিভিন্ন সড়কে গাছ কেটে অবরোধ করে রাখলে পুলিশ দুপুরে তা সরিয়ে রাস্তায় চলাচলের ব্যবস্থা করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে বালিপাড়া স্কুলের সামনে যুবলীগ কর্মী স্বপন শীলের (৩৫) বাসায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে তাকে টেনে-হিঁচড়ে রাস্তায় নিয়ে আসে জামায়াত-বিএনপির কয়েক নেতাকর্মী। স্বপন শীলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে জখম করে এবং পায়ের রগ কেটে দেয়। হামলাকারীদের হাত থেকে স্বামীকে রক্ষা করতে ছুটে আসা স্ত্রী বিউটি (৩০) ও তার দুই শিশু সন্তানকেও বেদম মারধর করা হয়। মুমূর্ষু অবস্থায় স্বপনকে প্রথমে মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় পরে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে দুপুরে তার মৃত্যু ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল সকালে চর বলেশ্বর গ্রামের ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা বাপ্পী মোল্লার (২০) বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে পায়ের রগ কেটে দেয়া হয়। বাপ্পীর বাবা আলাউদ্দিন মোল্লাকে (৪৫) কুপিয়ে আহত করে। এ সময় ফকিরহাট এলাকায় লতিফ ঘরামির ছেলে সাকিলকে (২৫) ছাত্রদল কর্মীরা মেরে গুরুতর আহত করে। তার মা সালেহা খাতুন (৫৫) ছেলেকে রক্ষা করতে আসলে তাকেও মারধর করা হয়। হরতাল সমর্থকরা আওয়ামী লীগ নেতা আলী আকবর ফরাজী, যুবলীগ নেতা মাসুদ সেপাই (২৮), ছাত্রলীগ নেতা রুবেলের বাবা আলী আহম্মদ চাপরাশী (৫৫) ও তার মা সেফালী বেগমকে (৪০) পিটিয়ে আহত করে। এরপর হামলাকারীরা ফকিরহাট বাজারের ইউসুফ ঘরামির মুদি দোকান, জব্বার বেপারীর চা ও আজিজ বেপারীর মুদি দোকান, বালিপাড়া বাজারে যুবলীগ সভাপতি নাসিরউদ্দিন সেপাইর ঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে ঘরের মালামাল বের করে আগুনে পুড়িয়ে দেয়। এ সময় বালিপাড়া পাবলিক হল, আওয়ামী লীগ অফিস, শহিদুলের মাছের দোকান, জব্বার ও ফজলুর চায়ের দোকান, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুন চৌকিদারের রাইস ও স-মিল ভাংচুর করা হয়। পশ্চিম বালিপাড়ার আওয়ামী লীগ নেতা শাহ আলম মল্লিক ও চরবলেশ্বর গ্রামের ছাত্রলীগ নেতা কাওছার আহম্মেদের বাড়িতে ভাংচুর ও লুট করে বলে অভিযোগ করেন ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা রুবেল শেখ। তিনি জানান, জামায়াত-বিএনপির সন্ত্রাসীরা বালিপাড়ার পাবলিক হল, স্থানীয় আওয়ামী লীগ অফিস, বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি, একটি মোটরসাইকেল ও টিভি ভাংচুর করে খালে ফেলে দিয়েছে। পাড়েরহাটের টগড়ায় হরতাল সমর্থকরা একটি মোটরসাইকেল ও ইজি বাইক ভাংচুর করে। পুলিশ সুপার এসএম আকতারুজ্জামান জানান, স্বপন শীলকে হত্যার প্রধান আসামি দুলাল খানসহ সহিংসতার সাথে জড়িত ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য গ্রেফতারকৃতরা হল মনির শেখ, মালেক, আল আমিন, ইউনুস, শহিদুল ইসলাম, আবু বকর হাওলাদার ও আব্দুল্লাহ। দুপুরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১৩ রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে হরতালকারীদের হটিয়ে দেয়। নাজিরপুরে হরতাল সমর্থক ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় পুলিশের উপরে হরতালকারীরা ইট-পাটকেল ছুঁড়লে পুলিশ টিয়ারসেল ও গুলি ছুঁড়ে হরতালকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। দুই পুলিশ সদস্য ও ৪ হরতাল সমর্থক আহত হয়েছেন। হরতাল বিরোধীদের মাঠে দেখা যায়নি। ঈশ্বরদীতে জামায়াত কর্মী নিহত, আহত ৫০ ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতা জানান, সকালে হরতালের শুরুতেই ঈশ্বরদীর মুলাডুলিতে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের মধ্যে প্রচণ্ড সংঘর্ষ, বোমাবাজি ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে জুলহাস হোসেন মুন্নাফ (৩০) নামে একজন জামায়াত কর্মী নিহত হয়েছেন। মুন্নাফ মুলাডুলির সড়াইকান্দি গ্রামের শফিউদ্দিনের ছেলে। মুলাডুলিসহ বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছে। মুলাডুলি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা ও ভাংচুর, মোটরসাইকেলসহ যানবাহন ভাংচুর ও ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসানুজ্জামান মিল্টন ও রুবেলের বাড়িসহ ছয়টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যার পর ঈশ্বরদী আওয়ামী লীগ অফিসে বোমা হামলা করে হরতাল সমর্থকরা। পেট্রোল ঢেলে আওয়ামী লীগ অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয়। শহরে থমথমে অবস্থা। পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, সকাল সাড়ে ১০ দশটার দিকে ঈশ্বরদী-নাটোর মহাসড়কে ঈশ্বরদীর মুলাডুলি ইউনিয়নের শেখপাড়ায় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা সড়ক অবরোধ করে পিকেটিং করছিলো। এ সময় মুলাডুলি বাজারে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অফিস ও চারটি মোটরসাইকেল ভাংচুর ও আগুন ধরিয়ে দেয় পিকেটাররা। পাবনা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী আবু তালেব মণ্ডল জানান, উপজেলা শিবিরের সভাপতি শেখ ফরিদ হোসেন (২৭) ও শিবির কর্মী ইসলাম হোসেন (২৫) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এদিকে দলীয় কর্মী নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে মুলাডুলি বাজার, শেখপাড়া, সড়াইকান্দিসহ বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে জামায়াত-শিবিরের সমর্থকরা হামলা চালায়। এ সময় ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসানুজ্জামান মিল্টনের দুইটি বাড়ি এবং রুবেলের বাড়িসহ ছয়টি বাড়িতে আগুন দেয়া হয়। ঈশ্বরদীর আরো কয়েকটি স্থানে বিচ্ছিন্ন হামলা, দোকান ও বাড়িঘর ভাংচুরের খবর পাওয়া গেছে। সকালে আওতাপাড়া হাটে সাহাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতিয়ার রহমান ভোলার উপর হামলা হলে তিনি গুরুতর আহত হন। বেলা ১২টার দিকে পাকশীর রূপপুর মোড়ে বিএনপি’র বিক্ষোভ মিছিল থেকে ৩টি বাস কাউন্টার ও একটি দোকান ভাংচুর করা হয়। রাজধানীতে ১৬ মামলা বিরোধী দলীয় জোটের তিনদিনের হরতালের আগে গত শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভাংচুর-অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ১৬টি মামলা করেছে পুলিশ। তবে এসব মামলায় আসামির সংখ্যা জানা যায়নি। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সহকারী কমিশনার (মিডিয়া) আবু ইউসুফ জানান, শনিবার রাতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় গাড়ি ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, ককটেল বিস্ফোরণ ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে এসব মামলা দায়ের করা হয়েছে।