বিদেশি ভূত উত্সব

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০১৩, ১৮:২৮
আমেরিকায় শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে তরুণ-তরুণীদের যদি জিজ্ঞেস করা হয়, সবচেয়ে মজার উত্সব কোনটি, সবাই এক বাক্যে বলবে, তাদের সবচেয়ে মজার উত্সব হলো—হ্যালোউইন। শত শত বছর ধরে চলে আসা পুরোনো এই উত্সব শুরু হয়েছিল ক্যাল্টিক দেশে অর্থাত্ পশ্চিম ইউরোপীয় দেশগুলোতে। এসব দেশে সেসময় এই উত্সব ছিল নবান্নের উত্সব। সময়ের হাত ধরে তার ধারা বদলে গিয়েছে। হ্যালোউইনের এই উত্সব নিয়ে আজকের আয়োজনটি লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম হ্যালোউইন একটি ছুটির দিন, যা প্রতি বছর ৩১ অক্টোবরে পালিত হয়। হ্যালোউইন উত্সবে পালিত কর্মকাণ্ডের মধ্যে আছে ট্রিক-অর-ট্রিট, ভূতের ট্যুর, বনফায়ার, আজব পোশাকের পার্টি, আধিভৌতিক স্থান ভ্রমণ, ভয়ের চলচ্চিত্র দেখা ইত্যাদি। আইরিশ ও স্কটিশ অভিবাসীরা ১৯ শতকে এই ঐতিহ্য উত্তর আমেরিকাতে নিয়ে আসে। পরবর্তীতে বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলোও হ্যালোউইন উদযাপন করা শুরু করে। বর্তমানে পশ্চিমা বিশ্বের অনেকগুলো দেশে হ্যালোউইন পালিত হয়, যেমন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, আয়ারল্যান্ড, পুয়ের্তো রিকো এবং যুক্তরাজ্য। এ ছাড়া এশিয়ার জাপানে এবং অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডেও কখনও কখনও হ্যালোউইন পালিত হয়। সম্প্রতি হ্যালোউইনের এ উত্সবের ছোঁয়া আমাদের দেশেও দেখা যাচ্ছে। হ্যালোউইনের ইতিহাস :রোমান নিয়মের সাথে, সাহেইনকে (৩১ অক্টোবর) ফসল কাটা, পোমোন উদযাপনের সমতুল্যে অঙ্গীভূত হয়েছিল এ উত্সব। আইরিশ, যুক্তরাজ্য, ওয়েলশ সম্প্রদায়ের লোকেরা বিশ্বাস করত যে প্রত্যেক নতুন বছরের আগের রাতে সাহেইন, মৃত্যুর দেবতা, আঁধারের রাজপুত্র, সব মৃত আত্মাদের ডাক দেয়। এই দিন মহাশূন্য এবং সময়ের সমস্ত আইনকানুন মনে হয় স্থগিত করা হয় এবং জীবিতদের বিশ্বে যোগদান করতে মৃত আত্মাদের অনুমোদন করা হয়। তারা আরও বিশ্বাস করত যে, মৃত্যুর কারণে তারা অমর যুবক হয়ে একটি জমিতে বসবাস করত এবং আনন্দে ডাকা হতো, ‘তির নাম ওগি’। তারা বিশ্বাস করত যে, স্কটল্যান্ড এবং আয়ারল্যান্ড অঞ্চলের ছোট পাহাড়ে কখনও কখনও মৃতরা পরীদের সাথে থাকে। একটি লোককাহিনীতে বর্ণিত আছে যে, সমস্ত মৃত ব্যক্তিরা ৩১ অক্টোবর রাতে জীবিতদের বিশ্বে আসে আগামী বছরের নতুন দেহ নেওয়ার জন্য। এজন্য গ্রামবাসীরা এই খারাপ আত্মাদের থেকে বাঁচার জন্য ব্যবস্থা নেয়। এই প্রথাটি ছিল পবিত্র বেদিতে আগুন বন্ধ করা এবং নতুন আগুন জ্বালানো হতো পরবর্তী প্রভাতে। আইরিশ, যুক্তরাজ্যবাসী কেল্টদিগের পুরোহিতরা তারা মিলিত হতো একটি অন্ধকার ওক (পবিত্র গাছ হিসেবে বিবেচনা করা হতো) বনের ছোট পাহাড়ে নতুন আগুন জ্বালানোর জন্য এবং বীজ ও প্রাণী উত্সর্গ করত। আগুনের চারদিকে নাচত এবং গাইত প্রভাত পর্যন্ত, পথ অনুমোদন করত সৌর বছর এবং আঁধার ঋতুর মধ্যে। যখন প্রভাত হয়, আইরিশ, যুক্তরাজ্যবাসী কেল্টদিগের পুরোহিতরা প্রতি পরিবার থেকে জ্বালানো অগ্নির কয়লা পরিধান করত। প্রতিবছর ৩১ অক্টোবর, শীতের হিমেল হাওয়ায় দিনের আলো শেষ হতে হতে কম বয়সী ছেলেমেয়েরা টর্চ হাতে বেরিয়ে পরে ‘ট্রিক অর ট্রিট’ করার জন্য। আর রেওয়াজ মতো অনেকেই মুখে মুখোশ এঁটে গায়ে অদ্ভুত পোশাক পরে বেরিয়ে পড়ে। হ্যালোইনের এ উত্সবে বাজারেও নানা ধরনের পোশাক আনা হয়। যে ধরনের পোশাক সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় তার মধ্যে রয়েছে, ডাইনী, জলদস্যু, ভ্যাম্পায়ার, স্পাইডারম্যান, জম্বি এবং ব্যাটম্যান। অন্যদিকে গায়িকা কেটি প্যারির আদলেও পোশাকআশাকও অনেক তরুণীই কেনে। যেমন খুশি তেমন খুশি সাজে—কেউবা রাজকুমারী, প্রজাপতি বা উইনি দ্য পু-এর টিগার সাজাতে ভালোবাসে। হ্যালোউইনের পরিবেশ তৈরি করার জন্য অনেকে বাড়ির সামনেরটা সাজাতে ভালোবাসে। মাকড়শার জাল বিছিয়ে কঙ্কাল টাঙ্গিয়ে ভুতুড়ে একটা পরিবেশ তৈরি করে রাখে। বড় বড় মিষ্টি কুমড়ো হ্যালোউইনের সময় প্রায় প্রত্যেকটি বাড়ির সামনে রাখা হয়। কুমড়োর ভেতরটা ভালো করে পরিষ্কার করে এর আবার মুখ-চোখ বানানো হয়। তারপর ভেতরে ভরে দেওয়া হয় বাতি। টিমটিম করে বাতি জ্বলতে থাকে আর বাড়ির ভেতরটা ঘুটঘুটে অন্ধকার করে চকলেট নিয়ে অপেক্ষা করা হয় ছেলেমেয়েদের জন্য। এরপর শুরু হয় চমকে দেওয়ার পালা—কে কাকে আগে চমকাবেন। এইভাবে সারা সন্ধ্যা ছেলেমেয়েরা বাড়ি বাড়ি যায়, সংগ্রহ করে আনে ব্যাগ ভর্তি চকলেট।