দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমমানের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে পর্যালোচনা করেছেন পাঁচ রাষ্ট্রদূত। রবিবার বিকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন মেঘনায় এ পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তৈরি পোশাক শিল্পের কর্মপরিবেশ উন্নয়নে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও রাষ্ট্রের সহযোগিতায় নেয়া সরকারের কর্মপরিকল্পনা পর্যালোচনা করা হয়।
বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক সাংবাদিকদের জানান, মূলত গার্মেন্ট শিল্প সংশ্লিষ্ট ইস্যুগুলো নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে রানা প্লাজা ধস পরবর্তী শ্রমমান ও শ্রমিক নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, নিরাপদ কর্মক্ষেত্র প্রতিষ্ঠায় বন্ধু-উন্নয়ন সহযোগীদের পরামর্শ ও সহায়তায় নেয়া সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ ও কর্মসূচি পর্যালোচনা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, এ শিল্পের উন্নয়নে বাংলাদেশ একটি কমপেক্ট সই করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দেশের পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা ফিরে পেতে আমাদের একটি জিএসপি ওয়ার্ক প্ল্যান রয়েছে। নিরাপদ গার্মেন্ট শিল্প প্রতিষ্ঠায় জাতীয় একটি ওয়ার্কপ্ল্যানও আছে। এসব পর্যালোচনায় আমরা অনানুষ্ঠানিকভাবে নিয়মিত বসি এবং একে অন্যের সঙ্গে অগ্রগতি শেয়ার করি। এটাও এরকম একটি বৈঠক। সেখানে অতিসম্প্রতি আইএলও’র সহযোগিতায় শ্রমমান উন্নয়নে নেয়া প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, সার্বিকভাবে চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতির ধারাবাহিকতা রক্ষায় বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
বৈঠকে যোগ দেয়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম হানা বলেন, এটি একটি ইতিবাচক আলোচনা। শ্রমমান উন্নয়নে গৃহীত কর্মসূচিতে এই কয়েক মাসে বাংলাদেশে যে অগ্রগতি হয়েছে তা প্রতিবেদন আকারে জেনেভাস্থ হেডকোয়াটারে তুলে ধরা হবে। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও ডাচ রাষ্ট্রদূত অংশগ্রহণ করেন। পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে শ্রম ও বাণিজ্য সচিবসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে স্থগিত হওয়া অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা (জিএসপি) ফেরত দিতে বাংলাদেশেকে একটি অ্যাকশন প্ল্যান বাস্তবায়নের শর্ত দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ওই বিষয়ে অগ্রগতি নিয়ে আগামী ডিসেম্বর নাগাদ দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর (ইউএসটিআর) পর্যালোচনা করবে। এ জন্য আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে ওই অ্যাকশন প্ল্যানের অগ্রগতি জানানো হবে যুক্তরাষ্ট্রকে। রবিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আন্ত:মন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে বাণিজ্য সচিব মাহবুব আহমেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। ১৬টি বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য বাংলাদেশকে বলা হয় ওই অ্যাকশন প্ল্যানে।
পর্যালোচনা বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও গার্মেন্টস খাতের উদ্যোক্তাসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে বাণিজ্য সচিব মাহবুব আহমেদ উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, জিএসপি ফেরত দেয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া অ্যাকশন প্ল্যানের দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নভেম্বরের ১০ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যে এ বিষয়ে আমাদের অগ্রগতির একটি প্রতিবেদন যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাবে। তাদের দেয়া ডেটলাইনের মধ্যে (ডিসেম্বর) প্রয়োজনীয় সব ক্ষেত্রে অগ্রগতি হবে। অগ্রগতি পর্যালোচনায় আগামী ৮ বা ১০ নভেম্বরের বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি করা হবে।
