বন্দর ও মহাসড়কে আটকা পণ্য বোঝাই হাজারো ট্রাক

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৩৯
হরতালসহ সহিংস রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সর্বশেষ গত রবিবার শুরু হওয়া টানা ৬০ ঘন্টার হরতালে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। হরতালের কারণে রপ্তানি বাণিজ্যের সাথে সংশ্লিষ্টরা বন্দরে তাদের পণ্য পাঠাতে পারেননি। অনেকে কারখানা থেকে পণ্য চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্যেশ্যে পাঠালেও পথে আটকা পড়ে আছে সেগুলো। ইতিমধ্যে পণ্যভর্তি বেশকিছু পরিবহনে আগুন দেয়া হয়েছে। শুধু চট্টগ্রাম বন্দর নয়, বেনাপোলসহ দেশের অন্য স্থলবন্দরগুলোতেও একই অবস্থা। এসব বন্দরের দু’পাশে খালাসের অপেক্ষায় আটকে আছে কয়েক হাজার পণ্য বোঝাই ট্রাক। শুধু রবিবার ভারত থেকে ৩৬৪টি পণ্য বোঝাই ট্রাক বেনাপোল বন্দরে এসেছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, পণ্য না পৌঁছায় অনেক বিদেশি জাহাজ জায়গা খালি রেখেই চট্টগ্রাম বন্দর ত্যাগ করেছে। আবার অনেক ব্যবসায়ীর আমদানি করা পণ্য পড়ে আছে বন্দরে। অনেকের রপ্তানি পণ্যের স্তূপ পড়ে আছে কারখানায়। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কাঁচামাল আনতে না পারায় ঢাকা ও তার আশপাশের কারখানাগুলোয় উত্পাদন ব্যাহত হচ্ছে। পণ্য খালাসে বিলম্বের কারণে বিদেশি জাহাজগুলোও চট্টগ্রাম বন্দরে আসতে চাইছে না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন রপ্তানিকারক ইত্তেফাককে বলেছেন, কারখানা থেকে পণ্যভর্তি ট্রাক হরতালের আগের দিন চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্যেশে পাঠানো হলেও সেগুলো বন্দরে পৌঁছাতে পারেনি, পথে আটকা পড়ে আছে। যে জাহাজে পণ্যগুলো পাঠানোর কথা ছিলো সেই জাহাজ ইতিমধ্যে বন্দর ছেড়ে গেছে। তবে তিনি পণ্য পৌঁছানোর জন্য ক্রেতার কাছ থেকে আরো এক সপ্তাহ সময় বাড়িয়ে নিয়েছেন বলে জানান। তিনি বলেন, ‘সামনে কি হবে জানি না। পরের সপ্তাহে যদি পণ্য পাঠাতে না পারি তাহলে এসব অর্ডার বাতিল হবে।’ পরিবহন ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা গেছে, হরতালের কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কয়েকশ’ পণ্য বোঝাই ট্রাক আটকা পড়েছে। বন্দরে বা বেসরকারি কন্টেইনার ডিপোতে আমদানি করা পণ্য পড়ে থাকলে তার বিপরীতে বাড়তি টাকা গুণতে হয়। এ জন্য উদ্যোক্তারাও চান দ্রুত পণ্য খালাস করতে। কিন্তু হরতালের কারণে সেটিও সম্ভব হচ্ছে না। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দেশের পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ভেংগে পড়েছে। শুধু রপ্তানি বা আমদানির ক্ষেত্রেই নয়, দেশের উত্পাদিত পণ্য বিভিন্ন জায়গায় বিতরণের ক্ষেত্রেও উদ্যোক্তারা সমস্যায় পড়েছেন। রাস্তায় গাড়ি আক্রান্ত হওয়ায় অনেকে পণ্য পরিবহনে উত্সাহিত হচ্ছেন না। এতে করে সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেয়ায় বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে। রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের কাঁচাবাজারগুলোতে পণ্যের সরবরাহ কমে গেছে। স্বাভাবিক সময়ে কারওয়ান বাজারে প্রতিরাতে কাঁচামাল ভর্তি পাঁচশ’ ট্রাক আসলেও হরতালের মধ্যে আসছে হাতেগোনা কয়েকটি।