বাজিতপুর উপজেলায় গতকাল সোমবার বিএনপির হরতালকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে ৪০ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। ব্যাপক সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় আহত হয়েছে দেড় শতাধিক মানুষ। আহতদের মধ্যে থানার ওসিসহ ১০ পুলিশ সদস্য রয়েছে।
জানা যায়, হরতালের পক্ষে একটি মিছিল বাজিতপুর বাজারের মাঝামাঝি আসলে পুলিশ মিছিলে বাধা দেয়। একই সময় আওয়ামী লীগের একটি মিছিল বের হলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহতরা হচ্ছে শরীফ, রফিক, বাবুল, মেরাজ, তামিম, রাফিকুল, রমজান, উজ্জ্বল, কাউছার, শহীদ, আমিনুল, রাজু, মহিউদ্দিন, ফরিদ, কাজল, সুমন, আলম, সবুজ, আলমগীর। এদের জহুরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া গুলিবিদ্ধ কমপক্ষে ২০ জনকে গোপনে চিকিত্সা দেয়া হয়। বাজিতপুরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সরারচরে রেললাইনে আগুন লাগিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। রেললাইন অবরোধের কারণে আন্তঃনগর এগারসিন্দুর ট্রেন সরারচর স্টেশনে সকাল সাড়ে ১১টা থেকে ১ ঘন্টা এবং পৌনে ১টা থেকে আরো ১ ঘন্টা হালিমপুর স্টেশনে আটকা পড়ে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ৯১ রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। সকাল ৯টা থেকে টানা তিন ঘন্টার সংঘর্ষ চলার পর দুপুরে পাঁচ প্লাটুন দাঙ্গা পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। উপজেলা প্রশাসন জানায়, এ পরিস্থিতিতে বাজিতপুরে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিয়াউল আহসান তালুকদার, বাজিতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন, এসি (ল্যান্ড) মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাসউদ, বাজিতপুর সার্কেলের এএসপি খন্দকার সাঈদ আহমেদসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
