চলন্ত বাস, ট্রাক কিংবা স্টেশনে অপেক্ষমান ট্রেনে আগুন, ভাংচুর। হঠাত্ ককটেল আর হাতবোমার বিকট শব্দে বিস্ফোরণ। সড়ক-মহাসড়কে ঘন ঘন সাইরেন বাজিয়ে পুলিশের গাড়ি আর অ্যাম্বুলেন্সের ছুটোছুটি। হরতাল শব্দটি শুনলে এখন চোখের সামনে যে চিত্রটি ভেসে ওঠে—তা এমনই। হরতালের আগের দিন রাত থেকে যে ধ্বংসলীলা শুরু হয় তা অব্যাহত থাকে হরতালের সারাদিন। কখন কোথায় কী অঘটন ঘটবে কেউ জানে না। ভয়ে সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হয় না। আর যারা অনন্যোপায় হয়ে জীবিকার তাগিদে বের হয় তাদের মধ্যে কতজনের ততক্ষণে ঠাঁই মেলে হাসপাতালের বিছানায় হয় বোমার স্প্রিন্টারে আহত হয়ে অথবা বাসের আগুনে দগ্ধ হয়ে। দিনশেষে হরতালের ডাক দেওয়া দলের মুখপাত্র জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে বলেন. “জনগণ শান্তিপূর্ণ ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে হরতাল পালন করেছে। হরতাল সফল হয়েছে”! এই আমাদের বিচিত্র দেশের এক অদ্ভুত রাজনৈতিক কর্মসূচি। যেখানে নিজেদের স্বার্থোদ্ধারের জন্য রাজনৈতিক দলসমূহ ব্যাক্তিগত ও গণসম্পদ ধ্বংস করে, জনগণকে আহত-নিহত করে। ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে সর্বসাধারণকে কপাটবদ্ধ থাকতে বাধ্য করে।
জ্বালাও পোড়াও আর আতঙ্ক ছড়াও—গণতান্ত্রিক অধিকার ও রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে হরতালের সাইনবোর্ডে এমন ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর কোনোটিরই তুলনা নেই। পাল্লা দিয়ে উন্নয়ন কাজ করতে তারা না জানলেও, জানে পাল্লা দিয়ে কীভাবে হরতাল করতে হয়। প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল নামে ভিন্ন হলেও তাদের অকাজ আর অপকর্মের প্রকৃতি অভিন্ন। ক্ষমতায় গিয়ে বিরোধীদলের আমলে শুরু হওয়া সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ড স্থগিতকরণ দিয়ে শুরু, তারপর বিরোধী দল ও ভিন্নমত দমন, রাজনৈতিক হয়রানিমূলক বলে দলীয় অপরাধীদের মামলা প্রত্যাহার করা আর বিরোধী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে উপর্যুপরি মামলা দায়ের, প্রশাসনের সর্বত্র ন্যক্কারজনক দলীয়করণ, দলীয় ক্যাডার আর নেতাদের মাঝে কোটি কোটি টাকার টেন্ডার বিতরণ, দুর্নীতির মাধ্যমে আর তদবিরের বিনিময়ে নির্বাচনে বিনিয়োগকৃত টাকা উসুল অতঃপর জনসমর্থন হারিয়েও ক্ষমতায় টিকে থাকার অন্যায় ও অপরাধমূলক অপচেষ্টায় লিপ্ত হওয়া। সবগুলোই বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ের চরিত্র। আবার একই দল যখন বিরোধী শিবিরে থাকে তখন তারা লাগাতার সংসদ বর্জন করে, জনবিমুখ ইস্যুতে হরতাল ডেকে ভাংচুর করে জনজীবন অস্থির করে তোলে। সারকথা—দুই দল ও তাদের অপরাজনীতির বেড়াজালে আটকে গেছে বাংলাদেশ। তাদের অব্যাহত রাজনৈতিক অত্যাচারে জনগণ অতিষ্ট, জনমন তিক্ত। দেশের মানুষ শান্তিতে বাঁচতে চায়। অগ্নিদগ্ধ হয়ে, বোমার আঘাতে কিংবা বন্দুকের গুলিতে নয়, মানুষ স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চায়।
আশা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ
