‘মানুষের মুক্তির সংগ্রাম শেষ হবার নয়’

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৩৫
গণমানুষের মুক্তি ও অধিকার আদায়ের যে লক্ষ্য নিয়ে ৪৫ বছর আগে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী যাত্রা শুরু করেছিল আজো তারা সে পথ থেকে সরে আসেনি। এখনো মুক্তিযুদ্ধের লালিত স্বপ্ন পূরণে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে, মানুষের অধিকার আদায়ে, অন্যায়ের প্রতিবাদে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর শিল্পীরা গানে, কথায় প্রতিবাদ জানায়। স্বপ্ন দেখে সুন্দর আগামীর। উদীচীর শত শত শিল্পী, শুভ্যার্থী ও সদস্যদের কণ্ঠে আবারো উচ্চারিত হলো সেই পথে চলবার শপথ। গতকাল মঙ্গলবার উদীচীর নবীন-প্রবীণ সদস্যরা গানে, ঢোলের বাদ্যে, নৃত্যের তালে আর নানা অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে পালন করলো তাদের ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। তাদের মাঝে ছিল প্রাণের উচ্ছ্বাস, সংগ্রামের দীর্ঘ ইতিহাসের উত্তরাধিকার বহন করার প্রত্যয়। বিকালে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। ‘লড়াই তো চলছেই - নিশ্চিত জেনো, বিজয় আসবেই’ এ স্লোগানকে সামনে রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বরে উদীচীর অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্যরা। এরা হলেন- বদরুল আহসান খান, তসলিম উদ্দিন, তমিজ উদ্দিন, আব্দুল হালিম ও মজিবুর রহমান। এছাড়া ৪৫টি প্রদীপ প্রজ্বলন ও বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। সবার পক্ষে উদ্বোধন ঘোষণা করেন বদরুল আহসান খান। উদ্বোধনী বক্তৃতায় বক্তারা বলেন, সমাজের পরিবর্তনের মাধ্যমে একটি লোকায়ত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করে চলেছে উদীচী। মানুষের মুক্তির এই সংগ্রাম শেষ হবার নয়। এটা চলতেই থাকবে। আমরা মানচিত্র পেয়েছি। কিন্তু মানুষের অধিকার, সুখ, নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার জন্য, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত্ত এ সংগ্রাম চলতেই থাকবে। আলোচনা পর্ব শেষে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শিল্পীরা সমবেত কণ্ঠে একে একে গেয়ে শোনান ‘আমরা মানুষের জয়গান গাই’, ‘হুঁশিয়ার, ও সাথী কিষাণ মজদুর ভাইসব হুঁশিয়ার’, ‘ধর ধর ধর রাজাকার রে ধর’, ‘গ্রাম থেকে জেগে ওঠো’ প্রভৃতি গান। সমবেত কণ্ঠে সঙ্গীত পরিবেশন করে উদীচী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ ও গেন্ডারিয়া শাখা। একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন সুরাইয়া পারভিন, আশরাফুল আলম ও বিপ্লব রায়হান। নৃত্য পরিবেশন করেন উদীচীর কাফরুল শাখার শিল্পীরা। একক আবৃত্তি করেন বেলায়েত হোসেন, অলক বসু প্রমুখ। দলীয় আবৃত্তি করেন উদীচীর আবৃত্তি বিভাগের শিল্পীরা।