পথে-ঘাটে

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৪০
‘কাঁচা মরিচ ১৩০ টাকা কেজি। বেগুন ৫০ টাকা। পেঁয়াজ ১০০ টাকা।’ কাঁচা তরকারির দাম জিজ্ঞাস করতে এমনই উত্তর দিল বিক্রেতা। ‘হরতাল হলেই তোমাদের দাম বাড়াতে হবে। নিয়ন্ত্রণ নেই তো। যা ইচ্ছে তাই করতে পার।’ শান্তিনগর বাজারের এই ক্রেতা একটু রাগত স্বরে বললেন। পেছন থেকে আর একজন ক্রেতা এই কথায় যোগ দিলেন। - বাজারে একটা তরকারিতে হাত দেয়ার মত নেই। - দাম আরো বাড়বে। সময় আসতেছে। আগে থেকে মজুদ করে রাখতে হবে। - ব্যবসায়ীদের মওকা। - না খেয়ে মরতে হবে আমাদের। - ফ্রিজে এখনো কোরবানির গরুর মাংস আছে বলে আমিষ পাচ্ছি। না হলে শুধু আলু দিয়েই চলতে হতো। - আলু আর ভাত তো একই জিনিস। - আবার আলু খাওয়ার জন্য আমাদের তৈরি হতে হবে। - ভাতের বদলে আলু খাওয়ার সেই তোড়জোড় আবার করতে হবে। উপায় তো আর নেই। - যে পথে যাচ্ছে তাতে তো তাই মনে হচ্ছে। - হরতালটা ছাড়লেও জিনিসের দাম কমবে বলে মনে হয় না। এবার বিক্রেতার দিকে নজর দিলেন উনি। ‘আড়াইশ বেগুন আর আড়াইশ সিম দাও। কাঁচা মরিচ দাও একশ গ্রাম।’ অল্প অল্প জিনিস চাইলেন বিরক্তির সাথে। পাশের জন তার কথায় যোগ দিলেন। - এই তিন দিনে একটানা হরতালে যে লোকসানটা হইছে তা তো পোষায় নেবে। সেই ক্ষতি পোষাতেই দাম আরো বাড়তি থাকবে। - সামনের সপ্তাহে আরো হরতাল আসছে। তাহলে বোঝেন জিনিসের দাম কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে। - এইবার আগের মত হতে থাকলে আলু বেশি করে খাওয়াবে। - যাদের টাকার অভাব নেই তাদের তো কোন অভাব নেই। দেশে যুদ্ধ বেঁধে গেলেও তারা খাবার ঠিকই পাবে। টাকা থাকলে খাবার ভূতে যোগাবে। - হ্যাঁ। আমাদের তো সীমিত ইনকাম। মাস গেলে তো আর একটু বেশি করে টাকা দেবে না। ফাইল আটকে যে বেশি করে ঘুষ খাব সে চাকরিও তো করি না। আমাদের মরণ দেখে কে? - জনগণের জন্যেই তো হরতাল হচ্ছে। আমরা তো সেই জনগণ। আমাদের উপকারই তো হচ্ছে। বেশি টাকা খরচ করার একটা সুযোগ তৈরি হচ্ছে। - ভাই যে যেই দল করুক না কেন এই ক্যাচালে বেশিরভাগ মানুষ ভিকটিম হয়ে বিপদে পড়ে। বিএনপির লোকদের যেমন খেতে হবে। আওয়ামী লীগের লোকদেরও তেমনই খেতে হবে। দুই দলেই সাধারণ মানুষের সংখ্যা বেশি। নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের সংখ্যা বেশি। তাদের দিকে তাকিয়ে কি কোন কর্মসূচি কেউ দেয়? - আরে খালেদা-হাসিনার কি আর বাজারে যাওয়া লাগে? তাদের কি আর খাওয়ার চিন্তা করা লাগে? সেই চিন্তাই যদি ওই দুজনের বা উনাদের আশপাশের কারো করা লাগতো তবে এই ধরনের কর্মসূচি কেউ দিত না। - হাসিনা এখন প্রতিজ্ঞা করুক যে সে বিরোধী দলে গেলে হরতাল দেবে না। অকারণে জিনিসের দাম বাড়াবে না। তা তো করবে না। - এমন একটা তরকারি নেই যার দাম ৫০ টাকার নিচে আছে। এটা একটা হলো? মানুষ খাবে কি? একশ টাকার তরকারি কিনলে কয়েক পদ কেনা যেত। আর এখন থলির নিচেও একশ টাকার তরকারি লেগে থাকে না। নিজেই নিজের সাথে বলতে বলতে পলিথিনে কিছু তরকারি নিয়ে হাঁটা দিল সে।