টানা ৬০ ঘণ্টার হরতালসহ ২৫ অক্টোবর থেকে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীদের হত্যা, নির্যাতন, গ্রেফতার ও ‘মিথ্যা’ মামলা দায়েরের প্রতিবাদে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সারাদেশে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করবে ১৮ দল। এছাড়া গত পাঁচদিনে নিহত নেতা-কর্মীদের স্মরণে আগামী ১ নভেম্বর শুক্রবার বাদ জুমা দেশব্যাপী গায়েবানা জানাজার কর্মসূচি দেয়া হয়েছে। টানা তিনদিনের হরতাল শেষে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দুটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী ও তাদের ছত্রছায়ায় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা ২৫ অক্টোবর থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ১৮ দলের নেতা-কর্মীদের হত্যা, জখম ও নির্যাতন করেছে। অনেকের বাড়ি-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর ও আগুনে জ্বালিয়ে দিয়েছে। এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দেশের সব মহানগর, জেলা, উপজেলা সদরে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ হবে। ওইদিন ঢাকা মহানগরে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ করার জন্য অনুমতি চেয়ে ইতিমধ্যে পুলিশকে চিঠি দেয়া হয়েছে। তিনি জানান, গত পাঁচদিনে শহীদদের স্মরণে আগামী শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টায় নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে গায়েবানা জানাজা হবে।
ফখরুল দাবি করেন, গত ২৫ অক্টোবর থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত ঢাকা মহানগরসহ সারাদেশে বিএনপিসহ ১৮ দলীয় জোটের ১৮ জন নিহত, ৭ হাজার ৫২ জন আহত ও ২ হাজার ৬৩০ জনের অধিক নেতা-কর্মী গ্রেফতার হন। এসময়ে ৮২ হাজারের বেশি নেতা-কর্মীকে বিভিন্ন মামলায় আসামি করা এবং ৪১ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেয়া হয়েছে। এই পরিসংখ্যানের মধ্যে ১৮ দলের শরিক জামায়াতের ৩ জন নিহত, ১৩০ জন আহত ও ১৫২ জন গ্রেফতার হন বলেও দাবি করেন বিএনপির মুখপাত্র।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার, যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা মহানগর সদস্য সচিব আব্দুস সালাম, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক সানাউল্লাহ মিয়া প্রমুখ।
সংলাপ না হওয়ার দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে
এদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার একটি নাটক সাজিয়ে (বিরোধী দলীয় নেতাকে প্রধানমন্ত্রীর ফোনকে ইঙ্গিত করে) এখন সংলাপ-সংলাপ খেলা খেলছে। তারা (সরকার) এরইমধ্যে সেই জায়গায় এসে যাচ্ছে, এটাই তাদের উদ্দেশ্য। এখন সংলাপের উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে। অন্যথায় সব দায়-দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে। টানা ৬০ ঘণ্টার হরতাল শেষে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।
এর আগে সকালে মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের বলেন, সংলাপের আগেই প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতার টেলিফোনে কথোপকথন গণমাধ্যমে প্রকাশ করে সরকার নীতিবহির্ভূত ও শিষ্টাচার বিবর্জিত কাজ করেছে। জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং রাজনৈতিক অসত্ উদ্দেশেই সরকার এ কাজ করেছে। তিনি বলেন, ৭১ টেলিভিশনে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতার টেলিফোনের কথাবার্তা প্রচার করা হচ্ছে। এ কাজ থেকেই বোঝা যায়, সরকার সংলাপের পরিবেশ সৃষ্টি হোক তা চায় না।
