ভর্তুকি দিয়ে হলেও চাল রফতানি করা হবে :অর্থমন্ত্রী

আপডেট : ২০ মে ২০১৯, ০০:৩৯

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, আমাদের কৃষককে বাঁচাতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে যেটা করা সম্ভব, সেটা হলো আমরা চাল আমদানি নিরুত্সাহিত করে সীমিত করতে পারি। সরকারিভাবে আমরা এই কাজটি করব। চাল আমদানি আমরা পুরোপুরে বন্ধ করে দিতে পারি না। তবে ভর্তুকি দিয়ে হলেও চাল রফতানি করা হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

গতকাল রবিবার রাজধানীর শেরে বাংলানগরে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এ সময় আগামী ২০১৯-২০ অর্থ বছরের জাতীয় বাজেট ঘোষণার আগে কৃষি খাতের উন্নয়নে কিছু প্রস্তাব অর্থমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন কৃষি উন্নয়ন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ।

দেশে উত্পাদিত ধানের ন্যায্য দাম কৃষক পর্যায়ে না পাওয়ার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, চলতি বছর ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু এখন চালের দাম আন্তর্জাতিক বাজারেও কম। যার কারণে ধানের দাম নিয়ে কিছু সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, সবজির উত্পাদনও আমাদের অনেক হচ্ছিল। কৃষকরা দাম পাচ্ছিল না এবং এগুলো পচে যাচ্ছিল। আমরা রফতানির ব্যবস্থা করলাম। রফতানি খরচ দিতে পারে না বলে আমরা সেখানে ভর্তুকি দিচ্ছি। ভর্তুকি দিয়ে আমরা সেই কাজটি করছি। এ কারণে সবজি উত্পাদনে বাংলাদেশ এখন চার নম্বরে। রফতানি করার কারণে এর বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়েছে। সবজিতে অন্তত দামটা পাচ্ছে কৃষক। একইভাবে চালও ভর্তুকি দিয়ে রফতানি করা যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব। মন্ত্রী আরো বলেন, একটা সময় ছিল যখন সারা বিশ্বে খাদ্যের জন্য হাহাকার ছিল। কিন্তু বর্তমানে খাদ্যের উত্পাদন অনেকগুণ বেড়েছে। আমাদের যেমন বেশি উত্পাদন হয়েছে, তেমনি আশপাশের দেশেও খাদ্যশস্যের উত্পাদন অনেক বেড়েছে। বাইরে যদি চাহিদা থাকত, তাহলে আমরা রফতানি করতে পারতাম। বাইরেও সেই ভাবে চাহিদা নেই। মন্ত্রী বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে যা যা করা দরকার, সেগুলোর প্রতিফলন আপনারা দেখতে পাবেন। আমার বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রী বিষয়টা অবশ্যই সুবিবেচনা করবেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী চিন্তাভাবনা করেন এবং এসব বিষয়ে তিনি অত্যন্ত বিচক্ষণ। সেই ৯৬ সালে তিনি কৃষি খাতে ১শ কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়ার যে সাহস করেছিলেন, তখন বিষয়টি সত্যই অকল্পনীয় ছিল, কিন্তু তার সুফল এখন আমরা ভোগ করছি। শুধু সবজি নয়, যে বছর যে পণ্য বেশি উত্পাদন হবে, সেগুলোও রফতানির ব্যবস্থা করা হবে। তাহলে চাহিদা ও যোগানের মধ্যে ব্যবধানটা হবে না। ন্যায্য দামটা কৃষক পাবেন।

কৃষি যন্ত্রপাতির বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার নামমাত্র মূল্যে কৃষকদের কৃষি যন্ত্রপাতি দেয়, সেগুলো কৃষকরা নিতে চায় না, জোর করে দেওয়া লাগে। সবাইকে অবহিত করতে হবে-যদি কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহার করেন, তাহলে উত্পাদন বাড়বে, ব্যয়ও কমে যাবে। এই ব্যয় কমানোর জন্যও আমাদের ব্যবস্থা নিতে হবে। আগামীতে যে কাজটি করব, উত্পাদন কম বেশি যাই হোক না কেন আমারা যন্ত্রপাতি ব্যবহার নিশ্চিতকরণে জোর দেব। কৃষি যন্ত্রপাতি আমরা নিয়ে এসে রেখে দেব। যখন লাগবে তখন ব্যবহার করব। উত্পাদন করে তারা যদি উত্পাদনের খরচ না পায়, তাহলে একদিকে তারা নিরুত্সাহিত হবে। অন্যদিকে আমরা মনে করি, এটি সরকারের জন্য একটি অনৈতিক বিষয়। সরকারকে সবদিকেই দেখতে হবে, উত্পাদনও দেখতে হবে, উত্পাদনের জন্য সহায়ক যা আছে, এগুলোরও সমাধান দিতে হবে। এটা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। শাইখ সিরাজের দেওয়া এবারের সুপারিশমালায় সরকারের সরাসরি ন্যায্যমূল্যে ধান ক্রয়ের ব্যাপারে উদ্যোগকে আরো বাস্তবমুখী করার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি শস্যবীমা স্থায়ীভাবে চালু করা, কৃষিপণ্যের উন্নত ও আধুনিক বাজার ব্যবস্থা চালু করা, বীজের মান নিশ্চিত করা, কীটনাশক আমদানি, বাজারজাতকরণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকারের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, ঋণ প্রদানে কৃষি খাতের সুযোগ সুবিধা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।