বন্দরনগরী চট্টগ্রামের পাথরঘাটা (কোতোয়ালী থানা) ব্রিকফিল্ড- আশরাফআলী সড়ক সংলগ্ন মরিয়ম খালটির বর্তমান অবস্থা মৃতপ্রায়। মরিয়ম খাল ভূমিখেকো দস্যুদের ক্রমাগত দখল আর শহরের আবর্জনায় সয়লাব হয়ে এখন চেনাই দুষ্কর। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ১ হাজার ১০৬ কোটি ৩০ লাখ ৭ হাজার টাকার বিশাল অংকের বাজেট ঘোষণা করলেও তাতে নেই জলাবদ্ধতা নিরসনের সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা। বর্ষাকালে খালগুলো সংস্কার করায় বৃষ্টিতে ধুয়ে আবার উত্তোলনকৃত মাটি/পলি/ময়লা খালে গিয়ে পড়ে। সিসিসি (চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন)-র তথ্যানুসারে ১৬টি খাল পুনঃখনন, বক্স ড্রেন নির্মাণ, ৪১৮ কিলোমিটার প্রায় ৪১টি ওয়ার্ডের মধ্যেই খাল-নালা-নর্দমা থেকে মাটি তোলা হয়েছে। চট্টগ্রামের প্রধান ১৭টি খাল—চাক্তাই খাল, রাজা খাল, মহেশ খাল, মরিয়ম খাল, নাছির ছড়া খাল, গয়নার ছড়া খাল, চশমা খাল, ডোম খাল, শীতল ঝরনা খাল, মির্জা খাল, বামন শাহী খাল, নয়া খাল, কালি খাল, বির্জা খাল, খন্দকিয়া ছড়া খাল, হিজড়া খাল ও কাজির খাল— প্রত্যেকটির অবস্থা করুণ। এই খালগুলো দখলবাজদের কবলে পড়ে দুইপাড়ের প্রশস্ততা কমে গিয়েছে এবং শহরের ময়লা-পলিথিনে খালগুলোকে মৃত মনে হয়। এমনিতে নগরীর নিচু এলাকা সামান্য বৃষ্টিতে ও জোয়ারে তলিয়ে যায়। তার ওপর খালগুলো দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। নগরীর আগ্রাবাদ, মোগলটুলী, মাদারবাড়ি, কদমতলী, বড়পোল, ছোটপোল, এক্সেসরোড, হালিশহর, প্রর্বতক মোড়, বাদুড়তলা, বহদ্দারহাট মোড়, কাতালগঞ্জ, মেহেদীবাগ, হামজারবাগ,কাপাসগোলা, মুরাদপুর, চকবাজার, বাকলিয়া, পাথরঘাটা তলিয়ে যায় সামান্য বৃষ্টিতে। আবার চাক্তাই খালে দেখা মিলবে বড় বড় গাছের গুঁড়ি ফেলে স্রোতকে বাধা দেওয়া হচ্ছে। ভাটার সময় পানি নিচের দিকে গড়ায়। তখন খালের পানি দেখলে মনে হবে কালো রং মেশানো পানি নির্গত হচ্ছে। খাল ও নালা ঠিকভাবে সংস্কার এবং পরিষ্কার না করার কারণে প্রতি বছরই নগরীতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। পলি ও ময়লা তুলে খালের পাশে রাখা হয় যা বৃষ্টি বা জোয়ারের পানিতে আবার খালে গিয়ে পড়ে। এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং খালগুলোর যথাযথ সংস্কার ও জলাবদ্ধতা দূর করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানাচ্ছি।
ছবি ও লেখা: শোভন দাশ বাবু, চট্টগ্রাম
