খণ্ডিত আকারে কিছু প্রচার মিথ্যার চেয়ে ক্ষতিকর

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৫৫
কোন বিষয় খণ্ডিত আকারে প্রচার মিথ্যার চেয়ে ক্ষতিকর। এতে জনমনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। আর দুই নেত্রীর সাম্প্রতিক টেলি সংলাপের ক্ষেত্রে এটাই হয়েছে। কাজেই এ নিয়ে সৃষ্ট বিভ্রান্তি নিরসনে টেলি সংলাপ বিস্তারিতভাবে প্রচার ও প্রকাশ দরকার ছিল। এ মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী। গতকাল বুধবার সচিবালয়ের নিজ কার্যালয়ে ইত্তেফাককে তিনি আরো বলেন, বর্তমান অবাধ তথ্যপ্রবাহের যুগে দুই নেত্রীর পূর্ণাঙ্গ টেলি সংলাপ পাওয়া অসম্ভব কিছুই নয়। উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে যে কেউ এই টেলি কথোপকথন পেয়ে থাকতে পারে। তবে একশ্রেণির গণমাধ্যম খণ্ডিত কথোপকথন প্রকাশ করে। এটা খুবই দুঃখজনক। মতিয়া চৌধুরী বলেন, দেশের দুই শীর্ষ নেত্রীর মধ্যে ফোনের আলাপ কোন ব্যক্তিগত বিষয় নয়। তাদের আলাপ ছিল জনগণের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট। আর তাই আলাপের বিষয়টি হুবহু প্রকাশ বা প্রচার হলে তাতে কোন আপত্তি থাকতে পারে না। টেলি সংলাপ প্রচার রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত বলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দাবিকে অযৌক্তিক আখ্যা দিয়ে মতিয়া চৌধুরী বলেন, কিভাবে শিষ্টাচার ভঙ্গ হয়েছে তার ব্যাখ্যা দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া সংলাপে আসবেন এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে মতিয়া চৌধুরী বলেন, সংলাপ নিয়ে সরকার যথেষ্ট আন্তরিক। কারণ বিরোধী দলীয় নেত্রী সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভা থেকে আলোচনার জন্য সরকারকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বিরোধী দলীয় নেত্রীকে ফোন করে সংলাপে বসার প্রস্তাব দেন। প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানে সাড়া না দিয়ে ওই জনসভা থেকে ঘোষিত ৬০ ঘণ্টার হরতাল কর্মসূচি পালন করেছে বিরোধী দল। এরপরও সংলাপের আমন্ত্রণ বহাল রয়েছে। এ নিয়ে প্রস্তুতিও চলছে। এমনকি গণভবন থেকে ইতিমধ্যে ফোন করে বিরোধী দলীয় নেত্রী কি খাবার পছন্দ করেন তার তালিকাও জানতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব। এখন বিরোধী দলীয় নেত্রীকেই সংলাপের দিনক্ষণ জানাতে হবে। মতিয়া চৌধুরী বলেন, সংলাপ নিয়ে আমরা আশাবাদী। তবে নির্বাচনকালীন সরকারে শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী মেনে নির্বাচনে অংশ নেয়া সম্ভব নয় এমন জিদ ধরে বসে থাকলে চলবে না। আলোচনা হলে বিএনপি এই জিদ থেকে সরেও আসতে পারে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদ রয়েছে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। এর মধ্যেই নির্বাচন হবে। তবে নির্বাচন ও সংলাপের ভিত্তি হবে সংবিধান। তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন সরকারের ক্ষণগণনা এখনো শুরু হয়নি। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর গঠিত হবে ছোট আকারের একটি মন্ত্রিসভা। আর তখন থেকেই নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী সরকার কার্যক্রম শুরু করবে।