ঠাকুরগাঁওয়ে শুরু হয়েছে আগাম ধান কাটার মহোত্সব। ফলন আশানুরূপ পেয়ে আনন্দে ধান সংগ্রহ করছেন কৃষকরা। বর্তমানে বাজারে ধানের দাম ভালো ও বেশি দামে ধানের খড় বিক্রি করার কারণে কৃষকরা অনেক খুশি।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ঠাকুরগাঁওয়ে ৫টি উপজেলায় আমন মৌসুমে ১ লাখ ৩২ হাজার ৬শ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের আমন ধানের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে দেশীয় উদ্ভাবিত স্বল্প জীবনকালের ধান বিনা-৭, ব্রি ধান ৩৩ ও বিভিন্ন প্রকার উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড ধানের চাষ হয়েছে মোট আবাদের শতকরা ১০ ভাগ অর্থাত্ ১৩ হাজার ২৬০ হেক্টর। ইতোমধ্যে এসব আগাম ধান কাটা শুরু হয়েছে। অন্য বছরের তুলনায় এ বছর লাভবান হতে পারছেন বলে কৃষকরা জানিয়েছে।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল গনি বলেন, এ মৌসুমে ৪ বিঘা জমিতে বিনা-৭ জাতের ধানের চাষ করেছি। কাটা-মারাই শেষের দিকে। বিঘা প্রতি ২০ থেকে ২২ মণ ফলন হচ্ছে। গত বছরও একই জমিতে একই জাতের ধানের চাষ করে ফলন কম পেয়ে ৯শ টাকা দরে বস্তা (৭৫ কেজি) বিক্রি করেছিলাম। তবে এ বছর ফলন কিছুটা বেশি, দামও অনেক ভাল। ১৩৮০-১৪০০ টাকা দরে বস্তা বিক্রি করছি। তাছাড়া এবছর গবাদিপশু খাদ্য খড়ের চাহিদাও বেশি, বাড়িতে ভাল দামে বিক্রি হচ্ছে খড়। ফুল সিজনে (মৌসুমে) শ্রমিকের সমস্যা থাকলেও এখন শ্রমিকের সমস্যা অনেকটা কম।
ফকদনপুর পটুয়া এলাকার কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ৩ একর জমিতে আগাম জাত বিনা-৭ ধানের চাষ করেছি। শ্রমিক দিয়ে ধান কেটে (খড়সহ ধান) শুকাতে দিছি জমিতে। দিন কয়েক পরে ধান বাড়িতে নিয়ে যাব আর জমিতে আলুর চাষ করবো। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে বাজারে ধানের যে দাম আছে সে দামে ধান বিক্রি করতে পারলে লাভ হওয়ার আশা করছি।
ঠাকুরগাঁও কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বেলায়েত হোসেন বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চাষীরা ভাল ফলন পাচ্ছেন। বর্তমানে বাজারে ধানের দামও ভাল। স্বল্প সময়ে আগাম ধান বাজারে বিক্রি করে কৃষকরা তাদের পরিবারের বিভিন্ন ধরনের চাহিদা পূরণ করতে পারছে। তাছাড়া আগাম ধান কাটার পর আবার একই জমিতে আগাম গোল আলু ও তৈল জাতীয় ফসল সরিষার চাষ করা যাবে।
বিশ্বনাথেও ধান কাটার ধুম
বিশ্বনাথ (সিলেট) সংবাদদাতা জানান, হেমন্তকালের শুরু থেকেই সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় আগাম স্থানীয় বিনা-৭, বাইশমুঠি ও ৩২ আমন ধান কাটার ধুম পড়েছে। অভাবের সময় ধান কাটতে পেরে খুশি কৃষকেরা। তারা জানান, উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে পশ্চিম শ্বাসরাম, দিঘলী, ভূরকী, ইশিবপুর, জাগিরালা, সুড়িরখাল, তাতিকোনা, ইসলামপুর, মোহাম্মদপুর, রামপুর, মাধবপুর, বরুণী, শিমুলতলা, খুরমা, ধরারাই, টেংরা, গোমরাগুল, কামালপুর, বাইশঘর, শর্মেমর্দান গ্রামে প্রায় ৩১৪ হেক্টর জমিতে কৃষকেরা স্থানীয় জাতের ধান চাষ করেন। এছাড়া প্রায় সব গ্রামে বিনা-৭ পাইজাম, হরি, স্বর্ণলতা, তুলসিমালা, ব্রি-ধান-৪৯ জাতের ধান চাষ করে।
বিশ্বনাথে নতুন ধান পেয়ে ঘরে ঘরে নবান্নের উত্সবের আমেজ শুরু হয়েছে। কৃষকরা হাসি মুখে ধান ঘরে তুলছেন। এ বছর পরিবেশ অনুকূল থাকায় ফলন ভালো হবে বলে জানিয়েছেন কৃষক আতাউর রহমান আতা। কৃষক হেলালউদ্দিন জানান, ইতিমধ্যে ১ একর বিনা-৭ জাতের ধান কেটেছেন। একর প্রতি কমপক্ষে ৪৫ মণ হারে ধান পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাইশমুঠি ধান প্রতি মণ ৭ থেকে সাড়ে ৭শত টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
সাধুরগাঁও গ্রামের আব্দুল আলিম বলেন, ৫/৬ বছর আগে ভারত থেকে ১৫ কেজি বাইশমুঠি বীজধান বাংলাদেশে আনেন। পরে এই ধান ধীরে ধীরে বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. খায়রুল আমিন জানান, বিনা-৭ জাতের ধান কাটা শুরু করেছেন কৃষকরা। আগাম ফসল কাটার পর কৃষকরা সরিষা লাগাতে পারবেন। এতে তারা বাড়তি সুবিধা পেয়েছেন। এবার একর প্রতি কমপক্ষে ৪৫ মণ ধান হবে বলে তিনি আশাবাদি।
