‘মেয়ে শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রের আরো কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন। তাই বিভিন্ন সহিংসতায় নিজেদের গুটিয়ে না নিয়ে মেয়ে শিশু ও তার পরিবারকে আরো বলিষ্ঠভাবে তা রুখে দাঁড়াতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে’। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান সম্প্রতি ঢাকায় আন্তর্জাতিক শিশু স্পন্সরশিপ সংস্থাগুলোর নেটওয়ার্ক আয়োজিত বিশ্ব শিশু অধিকার সপ্তাহ ২০১৩ উদযাপন অনুষ্ঠানে এ আশ্বাস প্রদান করেন।
শিশু সংবেদনশীল উন্নয়নের লক্ষ্যে গঠিত এই নেটওয়ার্কের আওতায় ৬টি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা একশনএইড, ফানদ্যাশন ইন্টারভিদা, প্লান ইন্টারন্যাশনাল, ফুড ফর দ্যা হাংরি এসোসিয়েশন, সেভ দ্যা চিল্ড্রেন ও ওয়ার্ল্ড ভিশন আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিশুরা মেয়ে শিশুদের ওপর নির্যাতন সম্পর্কে বিভিন্ন অভিজ্ঞতা তুলে ধরে। এসময় এই নেটওয়ার্কের আওতাধীন বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার সহযোগিতায় বাল্য বিবাহ বন্ধ কিংবা অতি দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের উচ্চশিক্ষায় সাফল্যের কিছু ঘটনাও উঠে আসে ।
শিল্পকলা একাডেমীতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ড. মিজানুর জানান, বর্তমানে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ১৯২৯ সালে প্রণীত বিদ্যমান বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইনের সংশোধনী খসড়া তৈরি করছে। এই সংশোধনীতে কিছু কঠোর ধারা সংযোজন করে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ নয়, নির্মূল করার ওপর জোর দেয়া হচ্ছে। তাছাড়া এই কমিশন শৈশবকাল থেকেই ছেলে শিশুদের মধ্যে মেয়েদের সম্মান করার অভ্যাস বৃদ্ধির জন্য সাহসী পুরুষ অভিযান পরিচালনা করছে বলে তিনি আরো জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি এসোসিয়েট প্রেস (এপি) এর পরামর্শক ফরিদ হোসেন বলেন, শিশুদের বিশেষভাবে মেয়ে শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও তাদের সফলতা তুলে ধরতে গণমাধ্যমকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। তার মতে, গণমাধ্যম প্রাথমিক বা মাধ্যমিক পরীক্ষায় মেয়েদের ভালো ফলাফলের সংবাদ তুলে ধরলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাদের অন্যান্য সাফল্যের খবর উপেক্ষিত থেকে যায়। তার মতে, গণমাধ্যম মাত্র শতকরা ৩ ভাগ সংবাদ শিশুদের নিয়ে বিশেষ করে মেয়ে শিশু নির্যাতন সম্পর্কিত সংবাদ প্রকাশ করে, অথবা অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে পুরোপুরি শিশু উন্নয়ন বিষয়ক সংবাদ এড়িয়ে যায়। তিনি গণমাধ্যমগুলোকে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে মেয়েদের ঝরে পড়া কিংবা বাল্যবিবাহের কারণে অল্প বয়সী মেয়েরা অপুষ্টির শিকার শিশুর জন্ম দেয়ায় আমাদের জাতীয় উন্নয়ন, জ্ঞান ও সৃজনশীলতা বিকাশে যে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে সেসব বিষয়ে আরো প্রতিবেদন প্রকাশ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে শিশু ফোরাম এর সদস্য শুভলতার সভাপতিত্বে ইয়ান ডি ওয়াল, ন্যাশনাল ডিরেক্টর, ওয়ার্ল্ড ভিশন, ড. সেলিনা আমীন, পরিচালক, কান্ট্রি প্রকল্পসমূহ, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল, টিম ড্যানজ, কান্ট্রি ডিরেক্টর, ফুড ফর ড্যা হাংরি এসোসিয়েশন, ব্রিজেট লুন্ডবাক, ডিরেক্টর, চাইল্ড রাইটস গর্ভন্যান্স, সেভ দ্যা চিল্ড্রেন, স্টিফেন কে হালদার, গ্রুপ ডিরেক্টর, ওয়ার্ল্ড ভিশন, তাজিন হোসেন, ম্যানেজার স্পন্সরশিপ, একশনএইড বাংলাদেশ, জসিম উদ্দিন, ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেটর, ফানদ্যাশন ইন্টারভিদা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এই কর্মসূচিতে ঢাকা এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার শিশুসহ প্রায় ৪০০ জন অংশগ্রহণ করেন।
