মুঠোফোন, ল্যাপটপ, এমপি-থ্রি প্লেয়ার, আইপড কিংবা ডেস্কটপ কম্পিউটারে গান শোনার অন্যতম এক মাধ্যম হিসেবে ব্যবহূত হয়ে আসছে বিভিন্ন ধরনের হেডফোন বা ইয়ারফোন। রাস্তায় মুঠোফোন আর বাসায় কম্পিউটারে গান শোনার জন্যই এগুলোর ব্যবহারটা বেড়েছে। ব্যবহারকারীদের মধ্যে তরুণদের সংখ্যাই বেশি। তাই হেডফোনের নকশাতেও এসেছে তারুণ্যের পছন্দ অনুযায়ী নানা বৈচিত্র্য। এসব নিয়ে আমাদের এ আয়োজন। লিখেছেন রিয়াদ খন্দকার ও ছবি তুলেছেন সাফাওয়াত খান সাফু
প্রায় নজরে পড়ে আশপাশে কেউ না কেউ কানে ইয়ারফোন গুঁজে আইপড, এমপি৩ অথবা মোবাইলে গান শুনছে। অনেকেই হেডফোনে গান শুনতে শুনতে প্রতিদিনের স্বাভাবিক কাজও করছে। এটা এখন ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। মুঠোফোনে গান শোনার জন্য ইয়ারফোনের চাহিদাই এখন সবচেয়ে বেশি। আবার কম্পিউটারে গান শোনার জন্য হেডফোনকেই এক নম্বরে রাখে তরুণেরা। কম্পিউটারে গান শোনার জন্যই শুধু নয়, আরও একটি বড় প্রয়োজনে আজকাল হেডফোনের কদর বেড়েছে। গান শোনার পাশাপাশি ইন্টারনেটে ইয়াহু মেসেঞ্জার, স্কাইপ, গুগলটকসহ বিভিন্ন সফটওয়্যারে বন্ধু বা আপনজনের সঙ্গে কথা বলার জন্যও ব্যবহার হচ্ছে হেডফোন। গান শোনার ক্ষেত্রে ভালো শব্দ পেতে অনেকেই আজকাল ভালো মানের হেডফোন কিনছেন। আবার ইন্টারনেটে কথা বলাটা সাবলীল রাখতেও ভালো মানের হেডফোন ব্যবহার হয়। হেডফোনের মধ্যে আবার রকমফের আছে। যারা গান শোনার সঙ্গে সঙ্গে কথা বলার জন্য হেডফোন ব্যবহার করতে চান, তারা মাইক্রোফোনসহ হেডফোন কিনতে পারেন। আবার যারা শুধুই গান শোনার জন্য হেডফোন ব্যবহার করতে চান, তাদের ক্ষেত্রে মাইক্রোফোন ছাড়া হেডফোনগুলোই ভালো।
অনেক হেডফোন ও ইয়ারফোন একাধারে কম্পিউটার, আইপড, এমপি থ্রি প্লেয়ার ও মুঠোফোনে ব্যবহার করা যায়। তবে এ ক্ষেত্রে হেডফোন বা ইয়ারফোনের পোর্টগুলো একই হতে হয়। যেহেতু হেডফোন বা ইয়ারফোন কানে লাগিয়ে ব্যবহার করা হয়, তাই ভালো মানের পণ্য ব্যবহার করা উচিত। কেননা ভালো মানের এসব পণ্য ছাড়া কানের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। হেডফোন বা ইয়ারফোনের সঙ্গে কোমল আবরণ লাগানো থাকলে কানের ওপর চাপটা কম পড়ে ও কান গরম হয় কম। যারা অনেকক্ষণ ধরে এসব ব্যবহার করেন তাদের জন্য এই আবরণ সহায়ক। ইয়ারফোন কিনতে আইডিবিতে এসেছেন দুই বন্ধু—হুমায়রা ও নজিয়া। তারা জানান, পছন্দের গানগুলো মনমতো করে শুনতে হেডফোনের তুলনা হয় না। আবার ইন্টারনেটে কথা বলার জন্য হেডফোনও ব্যবহার করেন তারা। মূলত গানের শব্দ ঠিকমতো শুনতেই হেডফোন বা ইয়ারফোনের ব্যবহারের কথা বললেন তারা। তবে এর অন্য একটি বড় সুবিধাও রয়েছে। চলার পথে বা বাসার সবার সামনে উচ্চৈঃস্বরে গান শুনলে অনেকে বিব্রত বোধ করেন। সে ক্ষেত্রে ভালো সমাধান হেডফোন বা ইয়ারফোন। জোরে শোনার আনন্দ আছে, তেমনি মনের স্বাধীনতাও এখানে শতভাগ! বাজারে গিয়েও এখন হেডফোন বা ইয়ারফোনের চাহিদার কথা বোঝা যায়। বিভিন্ন দোকানে নানা ব্র্যান্ডের এসব পণ্য পাওয়া যাচ্ছে। এসব ব্র্যান্ডের হেডফোন বা ইয়ারফোনের দাম নির্ভর করে মান, ব্র্যান্ড ও শব্দ শোনার ধরনের ওপর। বিভিন্ন মডেলের ডিজাইন ও রকমারি রঙের এসব পণ্য বাজারে পাওয়া যায়। হেডফোনের মধ্যে কোনোটার ব্যান্ড চিকন, কোনোটা আবার প্রশস্ত ধরনের। আবার সাদামাটা হেডফোন যেমন দেখা যায়, তেমনি বাঁকানো হেডফোনও মিলছে। কোনো কোনো হেডফোন আবার ভাঁজ করেও রাখা যায়। ইয়ারফোনেও নানা ধরনের রং ও বিচিত্রতা লক্ষ করা যায়।
ব্র্যান্ডের হেডফোনের মধ্যে ক্রিয়েটিভ ব্র্যান্ডের বিভিন্ন মডেলের হেডফোন পাওয়া যাচ্ছে ৭৫০ থেকে ১৪৫০ টাকার মধ্যে। এফোরটেক ব্র্যান্ডের হেডফোন পাওয়া যাচ্ছে ৫০০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে। লজিটেকের বৈচিত্র্যময় হেডফোন পাওয়া যাচ্ছে ১২০০ থেকে ১২ হাজার টাকার মধ্যে। এই ব্র্যান্ডের কিছু হেডফোন কম্পিউটারের গেম খেলার জন্যও ব্যবহূত হয়। ইনটেক্স ব্র্যান্ডের হেডফোন মিলছে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে। কসোনিক ব্র্যান্ডের হেডফোন পাওয়া যাচ্ছে ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে। বাজারে নন ব্র্যান্ডের বিভিন্ন হেডফোন পাওয়া যাবে ২৫০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে। এসবের মধ্যে তারহীন কিছু হেডফোন বাজারে পাওয়া যায়। সর্বোচ্চ ১০ মিটারের মধ্যে গান শোনার জন্য এই হেডফোনগুলো ব্যবহার করা যায়। এগুলোর দাম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা। এ ছাড়া বিভিন্ন ইয়ারফোনের মধ্যে লজিটেক ব্র্যান্ডের দাম এক হাজার ২০০ টাকা, এই ব্র্যান্ডের আলটিমেট মডেলের ইয়ারফোনের দাম পড়বে এক হাজার ৩০০ টাকা থেকে দুই হাজার ৬০০ টাকা। অ্যালটেক ব্র্যান্ডের এয়ারফোনের দাম পড়বে এক হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার টাকা। ঢাকার আগারগাঁওয়ের বিসিএস কম্পিউটার সিটি, এলিফ্যান্ট রোডের কম্পিউটার বাজারসহ বিভিন্ন কম্পিউটার পণ্যের দোকানে এসব পণ্য কিনতে পাওয়া যায়। গান শোনা বা কথা বলার জন্য আপনার সঙ্গীও হতে পারে এসব হেডফোন বা ইয়ারফোন।
সতর্কতা
শব্দের মাত্রা বা ভলিউম এবং শোনার সময়—এ দুটো বিষয় হেডফোন ব্যবহারের সময় বিবেচনা করা দরকার। কারণ শ্রবণ নিরাপত্তা ব্যাহত করতে পারে এই দুটো জিনিস।
আইপড, এমপিথ্রি অথবা মোবাইলে সর্বোচ্চ ভলিউম বাজানো হলে একসময় আপনার শ্রবণশক্তি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এসব যন্ত্রপাতি ব্যবহার করার ব্যাপারে কিছু পরামর্শ :
৯০ মিনিট ধরে শুনবেন, ভলিউমের শতকরা ৮০ ভাগ শক্তি।
আরও বেশি সময় গান শুনতে ভলিউমের শতকরা ৬০ ভাগ শক্তি ব্যবহার করতে হবে।
ভলিউম বাড়ানোর সময় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, কারণ বাইরের আওয়াজের তো আর অভাব নেই। এ ছাড়া সময়ের বিবর্তনে দেখা যাবে আপনি একটি নির্ধারিত ভলিউমে গান শোনায় অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এর চেয়ে বাড়ালে আপনার ক্ষতি হতে পারে।
গানের ভালো কপির জন্য সিডির দোকান থেকেই অ্যালবাম কেনা উচিত। পাঠকের সুবিধার জন্য কয়েকটি সিডি দোকানের ঠিকানা দেওয়া হলো :
লেজার ভিশন :৩০০/৫/এ/১, হামিদ প্লাজা, বীর উত্তম সি আর রোড, ঢাকা ১২০৫
ফাহিম মিউজিক-১,২, কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বনানী, ঢাকা
গাংচিল :৮৪/ ৮৬ মুন কমপ্লেক্স (২য় তলা) ওয়াইজঘাট, পাটুয়াটুলী, ঢাকা- ১১০০
সংগীতা :৩৭, সংগীতা কমপ্লেক্স, পাটুয়াটুলি, ঢাকা- ১১০০
মেলোডি অ্যান্ড কোং :দোকান নং ৪, জব্বার টাওয়ার (নিচতলা), ৪২ গুলশান এভিনিউ, ঢাকা।
সাউন্ডটেক অডিও কমপ্লেক্স :৬২, রাবেয়া ইলিয়াস ম্যানশন (২য় তলা), পাটুয়াটুলী রোড, ঢাকা- ১০০০।
গীতাঞ্জলি :৭৩, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, দোকান# ৫,৬ ও ৭, লেভেল# ৬, ব্লক# ডি
অগ্নিবীণা :৮২/১-২ ল্যাবরেটরি রোড, ঢাকা
সাউন্ড মেশিন :৩৫৫ দিলু রোড, মগবাজার, ঢাকা। প্রোটিউন :দ্য গ্র্যান্ড প্লাজা শপিং মল, ২২৭ আউটার সার্কুলার রোড, বড় মগ বাজার, ঢাকা।
অনুপম :১০/১১ ওয়াইজঘাট রোড, মুন কমপ্লেক্স (২য় তলা), পাটুয়াটুলী, ঢাকা- ১১০০
গান ডাউনলোডের কিছু ওয়েবসাইট সংগ্রহে রাখুন
এখানে আছে হিন্দি, বাংলা, ইংলিশ গান ডাউনলোডের কিছু ওয়েবসাইট দেওয়া হলো :
বাংলা গানের জন্য
http://www.doridro.com/
http://www.gaanwala.com/
http://www.music.com.bd/
http://musicfrombd.com/
http://www.banglasangeet.com/
http://www.mytunebd.com/
হিন্দি গানের জন্য
http://www.songspk.pk/
http://www.mp3hungama.com/
http://www.musicmaza.com/
http://www.songslover.pk/
http://www.musicdownload.net.in/
http://www.masti4india.com/
ইংরেজি গানের জন্যে
http://beemp3.com/
http://www.songslover.pk/
