স্কুল তলিয়ে গেছে পানিতে

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০১৩, ২২:৩৮
বিদ্যালয়ের বারান্দা আর শ্রেণী কক্ষে শুধু পানি আর পানি। খেলার মাঠ ডুবে আছে হাঁটু পানিতে। কক্ষের ভেতরে কয়েকটি বেঞ্চ একত্রিত করে বানানো পাটাতনের ওপর পঞ্চম শ্রেণীর ক্লাস চলছে। পাশে উঁচু স্থানে চলছে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর ক্লাস। পানিতে ডুবে থাকা কাঁচা সড়ক পেরিয়ে দূর-দূরান্ত থেকে বিদ্যালয়ে পৌঁছানই যেন শিক্ষার্থীদের কাছে যুদ্ধের শামিল। এরপর মনোযোগ দিতে হয় ক্লাসের নিয়মিত পড়ায়। আবার পানি ঠেলে সেই পথেই বাড়ি ফিরতে হয়ে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের। এটি সাতক্ষীরার তালা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরের ইসলামকাটি ইউনিয়নের ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিত্যদিনের চিত্র। জলাবদ্ধতায় ডুবে থাকা গ্রামের বাড়ি-ঘর থেকে ছেলে-মেয়েরা বিদ্যালয়ে আসছে অনেক কষ্ট সহ্য করে। কখনো হাঁটু বা কোমর সমান পানি, কখনো কাদা, আবার কখনো নড়বড়ে সাঁকো পেরিয়ে স্কুলে যাওয়া-আসা করতে হচ্ছে তাদের। এই দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায় নিচের শ্রেণীর খুদে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না। এ অবস্থায় সামনে পঞ্চম শ্রেণীর সমাপনী আর স্কুলগুলোর বার্ষিক পরীক্ষার প্রস্তুতিও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ কথা জানালেন শিক্ষক ও অভিভাবকেরা। ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, পঞ্চম শ্রেণীর লাবনী, রেখা, সবুজ, চতুর্থ শ্রেণীর পুস্পিতা, জাকিয়া, অনুপ, তৃতীয় শ্রেণীর শিপ্রা, চন্দন ছাড়াও আরো অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসছে অনেক দুর্ভোগ সহ্য করে। বিদ্যালয়ের বারান্দায় শুকাতে দেয়া গামছাগুলো দেখেই বোঝা যায় প্রতিদিনই তাদের কাদাপানি পেরিয়ে স্কুলে আসতে হচ্ছে। জলাবদ্ধতার মাঝেও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মফিজুল ইসলাম একাই বিদ্যালয়ের সব ক্লাস চালাচ্ছেন। তবে জলাবদ্ধতার কারণে উপস্থিতি কিছুটা কম। ইসলামকাঠি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেল, কোনো বিদ্যালয়ের মাঠে কোমর পানি, কোনো বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষই ডুবে আছে পানিতে। এছাড়া বেশকটি বিদ্যালয়ের ক্লাস চালানো হচ্ছে স্কুলের ভেতরে মাচা বানিয়ে, পাশের কোনো বাড়িতে, মক্তবে, মন্দিরে কিংবা বিদ্যালয়ের পাশে উঁচু স্থানে। ইউনিয়নের ইসলামকাঠি আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ও বারান্দা পানিতে ডুবে আছে। শ্রেণী কক্ষ এক ফুট পানিতে ডুবে আছে। বিদ্যালয়ের ক্লাস চলছে পাশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। একই অবস্থা ইউনিয়নের খরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। শ্রেণী কক্ষ তিন ফুট পানির নিচে। পাশের মন্দির ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ মেম্বরের বাড়িতে ক্লাস চলছে। অনেক বিদ্যালয়ের ক্লাস চলছে বেসরকারি সংস্থা উত্তরণের তৈরি করা টিনশেড ঘরে। ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক বলেন, জলাবদ্ধতা এলাকার মানুষের জন্য বিপর্যয় ডেকে এনেছে। শ্রেণী কক্ষ পানিতে ডুবে যাওয়ার কারণে কয়েকটি বিদ্যালয় বন্ধ হওয়ার উপক্রম। জলাবদ্ধ এলাকার মানুষগুলোর জন্য পর্যাপ্ত সহায়তাও পাওয়া যাচ্ছে না। তালা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ মনিরুল ইসলাম বলেন, কিছু বিদ্যালয়ে পানি উঠেছে। তবে কোথাও ক্লাস বন্ধ করা হয়নি। পাশের বাড়ি, অন্য কোন ভবন, উঁচু স্থান, যেখানেই সম্ভব ক্লাস চালিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সমাপনী ও বার্ষিক পরীক্ষায় যেন কোনো ধরনের অসুবিধা না হয়, সে ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে।