ভুলে ভরা ষষ্ঠ শ্রেণির জ্যামিতি

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০১৩, ২১:৩৮
বর্তমানে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা পদ্ধতির নাম সৃজনশীল। কিন্তু ষষ্ঠ শ্রেণির জ্যামিতি বইয়ে ভুলের পরিমাণ দেখে বোঝার উপায় নেই সৃজনশীল পদ্ধতি আসলে কী! আমার কাছে মনে হয়েছে, শিক্ষার্থীরা শুধু বইয়ের ভুল খুঁজে বের করবে এবং যে শিক্ষার্থী যত বেশি ভুল বের করতে পারবে সে তত মেধাবী। নিচে কয়েকটি ভুলের বিবরণ তুলে ধরা হলো: ১। ‘রেখা’, ‘রশ্মি’ ও ‘রেখাংশ’ সম্পর্কে বইয়ে শুধুমাত্র ধারণা দেয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো সংজ্ঞা লেখা নেই। আমরা ৮০-র দশকে রেখা সম্পর্কে যা শিখেছিলাম, তা বর্তমানে রেখাংশের সঙ্গে কিছুটা মেলে। বর্তমান বইয়ের রেখা ও রশ্মি সম্পর্কে আমাদের কোনো ধারণাই ছিল না। ২। কোণের সংজ্ঞায় দুটি রশ্মি একটি বিন্দুতে মিলিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিভিন্ন প্রকার কোণের বর্ণনায় রশ্মির কথা বলা হয়েছে এবং চিত্রে রশ্মি অংকন করা হয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ সম্পাদ্য অংকন করা হয়েছে রেখাংশ দিয়ে। কোনো কোনো স্থানে বর্ণনায় আছে রেখাংশ কিন্তু চিত্রে আছে রেখা বা রশ্মি। যেমন— ক) ১১৫ পৃষ্ঠায় (সম্পাদ্য-৪, পদ্ধতি-৩) সর্বশেষ চিত্রে আছে AB রেখাংশ, কিন্তু বর্ণনায় বলা হয়েছে AB রেখা। খ) ১১৭ পৃষ্ঠায় (সম্পাদ্য-৫, পদ্ধতি-২) চিত্রে আছে PQ রেখা, কিন্তু বর্ণনায় বলা হয়েছে PQ রেখাংশ। গ) ১১৯ পৃষ্ঠায় সম্পাদ্য-৮ এর চিত্রে আছে AD রশ্মি, কিন্তু বর্ণনায় আছে AD রেখাংশ। এ ধরনের ভুল ছাড়াও সম্পাদ্য বর্ণনায় কিছু অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত চিত্র দেয়া হয়েছে। যা বইটিকে সহজ করার পরিবর্তে দুর্বোধ্য করেছে। যেমন- ১১৮ পৃষ্ঠার সম্পাদ্য-৭-এর বর্ণনায় ১ম ও ৩য় চিত্র দুটি অতিরিক্ত এবং ২য় ও ৩য় চিত্রের সঙ্গে কম্পাসের চিত্র দুটি অপ্রয়োজনীয়। এখানে ১ম চিত্রের সঙ্গে বর্ণনার কোনো মিল নেই। চিত্রে আছে একটি রেখাংশের ওপর P একটি বিন্দু। কিন্তু বর্ণনায় আছে “যে কোন একটি রশ্মি PQ নিই।” সম্পাদ্য-৭-এর বর্ণনার সঙ্গে ১ম চিত্রটি উদ্ভট মনে হয়। এছাড়া বইটিতে ‘রেখা’ ও ‘রেখাংশ’ সম্পর্কে যে ধারণা দেয়া হয়েছে, সে অনুসারে দুটি বিন্দু যোগ করলে একটি ‘রেখাংশ’ হওয়ার কথা। কিন্তু বইটির সম্পাদ্যগুলোতে দুটি বিন্দু যোগ করে রেখাংশ অংকনের পরিবর্তে রেখা অংকন করা হয়েছে। এঅবস্থায়, ৬ষ্ঠ শ্রেণির গণিত বইয়ের জ্যামিতি অংশ থেকে ভুলগুলো সংশোধন এবং অপ্রয়োজনীয় চিত্রগুলো বাদ দিয়ে প্রকাশ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। মো. কামাল উদ্দিন বাহাদুর, দাপা ইদ্রাকপুর, ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ