তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, নির্বাচনকালীন সরকার সর্বদলীয় না নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক হবে তা নিয়ে আলোচনার দরজা এখনো খোলা রয়েছে। কিন্তু বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট অহেতুক হরতাল ডেকে সেই আলোচনাকে বাধাগ্রস্ত করছে। গতকাল শনিবার দুপুরে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ মিলনায়তনে ‘গণসংলাপ : শান্তি উন্নয়ন গণতন্ত্রের অভিযাত্রা’ শীর্ষক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। গণযোগাযোগ অধিদপ্তর ও তথ্য মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এই সংলাপের আয়োজন করে। মন্ত্রী বলেন, গায়ের জোরে হরতাল-নাশকতার মাধ্যমে আন্দোলন করে খালেদা জিয়া সংলাপ ভণ্ডুল ও যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের ২১ লক্ষাধিক শিক্ষার্থী জেএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরমধ্যে হরতাল ডেকে বিরোধী দল দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। শর্ত দিয়ে সরকারকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করা যাবে না।
হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘হেফাজত ও জামায়াতের ট্রেনে থাকলে খালেদা জিয়াকে মনে রাখতে হবে এই ট্রেনের যাত্রা পাকিস্তানের দিকে। অতএব হেফাজত-জামায়াতকে ত্যাগ করে নির্বাচনের ট্রেনে উঠুন।’ তথ্যমন্ত্রী বলেন, মহাজোট সরকারের বিকল্প সামরিক শাসন নয়। বিএনপি ক্ষমতায় আসলে তাদের ঘাড়ে চেপে হেফাজত-জামায়াত তালেবানি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করবে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার কওমী মাদ্রাসা দখল করছে বলে আল্লামা শফী যে অভিযোগ এনেছেন তা সঠিক নয়। বরং কওমী মাদ্রাসাগুলোকে একটি কাঠামোর মধ্যে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত কওমী মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ সনদ দেবে। তবে এ প্রস্তাবনাটি সরকারের বিবেচনাধীন বলে জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, দেশের একটি বিশেষ মুহূর্তে দিগন্ত টিভি ও ইসলামী টিভির সম্প্রচার বন্ধ করা হয়েছে। তবে তা সাময়িক। এ নিয়ে চ্যানেল দুটির কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ-আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।
গণসংলাপে অন্যান্যের মধ্যে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক তাছির আহম্মাদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক শামীম মোহাম্মাদ আফজাল, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
