ঝন্টু চাকমা
ডাকনাম :ঝন্টু
জন্মতারিখ ও স্থান :১ নভেম্বর, খাগড়াছড়ি
মায়ের নাম :নীলিমা চাকমা
বাবার নাম :যতীন কুমার চাকমা
প্রথম স্কুল :উত্তর খবংপুড়িয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়
প্রিয় মানুষ :মা
প্রিয় উক্তি :যতটা সম্ভব ন্যায় পথে চলা।
প্রিয় পোশাক :জিন্স, টি-শার্ট
অবসর কাটে যেভাবে :কম্পিউটার গেমস খেলে, সিনেমা দেখে
সাফল্যের সংজ্ঞা :পরিশ্রম ও নিজের যোগ্যতাকে কাজে লাগানো।
শুরুতে তার জানা ছিল না কী করবেন। মিডিয়ার কাজ সম্পর্কেও ঠিক তেমন ধারণা ছিল না। যখন ঢাকায় এলেন, তখন চিত্রশিল্পী ও পরিচালক খালিদ মাহমুদ মিঠুর হাত ধরে মিডিয়া জগতে তার পদার্পণ। বলছিলাম মেধাবীজন ঝন্টু চাকমা সম্পর্কে। বর্তমানে তিনি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে চাকরি করছেন। এখানে সমাজ পরিবর্তনে স্ব-উদ্যোগে কাজ করছেন এমন মানুষদের নিয়ে ‘পরিবর্তনের মানুষ’ নামে একটি অনুষ্ঠান প্রযোজনা করছেন তিনি। পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার জন্য তথ্যচিত্র, বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাণ করে থাকেন তিনি। তথ্যচিত্র নির্মাণের জন্য পেয়েছেন ইউনিসেফের মীনা শ্রেষ্ঠ পরিচালক পুরস্কার-২০০৬ অ্যাওয়ার্ড। তার শৈশব কেটেছে খাগড়াছড়ির পাবর্ত্য এলাকায়। তাই তার ভালোবাসা আজও বন, পাহাড়, নদী ও প্রকৃতির বৈচিত্র্যকে ঘিরে। কিশোর বয়স থেকে ঢাকাতেই থেকেছেন। কোলাহল, যান্ত্রিক জীবন নিয়েই অনেকদিন ধরে এখানে আছেন তিনি। স্ত্রী হাসি চাকমা ও একমাত্র মেয়ে অদ্রাকে নিয়ে তার পারিবারিক আবহ।
কতটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এই পেশায় এমন প্রশ্নের উত্তরে ঝন্টু চাকমা বলেন, ‘অনেকদিন ধরে কাজ করার ফলে মিডিয়া জগত্ সম্পর্কে এখন অনেকটাই ধারণা হয়ে গেছে। ফলে এখন কাজ করাটা অনেক সহজ হয়ে গেছে, যেটা শুরুতে ততটা ছিল না।’
ক্যারিয়ার হিসেবে মিডিয়া আমাদের দেশে কতটা উপযোগী? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘নতুন নতুন চ্যানেল আসার ফলে এখন এ পেশায় যথেষ্ট কাজের সুযোগ রয়েছে। উপরন্তু বিশেষ করে থ্রিজি আসার ফলে এখন ইন্টারনেট চ্যানেলের সুযোগও তৈরি হয়েছে। ফলে দেশে এবং দেশের বাইরে আন্তর্জাতিক এনভায়রনমেন্টে কাজ করার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।’ আর নতুনদের কাজের সম্পর্কে তার মূল্যায়ন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এখন অনেক সহজেই অনেক কিছু করা যায়, যা আগে এত সহজ ছিল না। ফলে কাজের পরিমাণ ও মান দুটোই বেড়েছে। কিন্তু সাধারণভাবে বললে বা নতুনদের কথা বললে বলতে হয়, টেকনোলজি ও সুযোগের সহজপ্রাপ্তির ফলে কাজের পরিমাণ যতটা বেড়েছে, সেই অনুপাতে কোয়ালিটি কাজ আসছে না। তাই নতুনদের পরিশ্রম এবং সুযোগের মুহূর্তগুলোকে কাজে লাগিয়ে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এগিয়ে যাওয়া জরুরি। পাশাপাশি প্রাযুক্তিক দক্ষতা ও শিল্পবোধ বাড়ানো উচিত। মিডিয়ার কাজটাকে ভালোবাসতে শিখতে হবে। ধৈর্যশীল হতে হবে। কেননা এখানে প্রতিটি ধাপই একেকটি সৃষ্টিশীল কাজ। নিজেদের পড়াশোনা ও দেখার চোখটাকে ভালো করতে হবে। কেননা ভালো সৃষ্টির শেষ বলে কিছু নেই। আরেকটা বিষয়, নিজেকে সব সময় টেকনোলজির সাথে আপডেট রাখতে হবে। অন্যথায় নিজেকে সনাতন হয়েই থাকতে হবে।’
সবশেষে তার ভবিষ্যত স্বপ্ন সম্পর্কে বলেন, ‘মিডিয়াতে যারা কাজ করেন, তাদের সবারই স্বপ্ন থাকে সিনেমা বানানো। আমার স্বপ্নও ব্যতিক্রমী কিছু নয়, আমিও সুযোগ পেলে সিনেমা বানাতে চাই।’
