সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০১৩, ২০:০৭
বিনোদনের একটি অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে শব্দ। এই শব্দকেই যিনি শ্রোতাদের মাঝে শ্রুতিমধুর করে তুলেন মূলত তিনিই সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার। একজন সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারের কাজ হচ্ছে সাউন্ড রেকর্ডিং, এডিটিং এবং রেকর্ডেট সাউন্ড অথবা লাইভ সাউন্ডকে শ্রোতাদের কাছে ভালোভাবে উপস্থাপন করা। এই পুরো প্রক্রিয়াটাকে বলা হয় শব্দ পরিসঞ্চালন। এই প্রজন্মের কাছে সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং অনেক জনপ্রিয় একটি পেশা। এবারের আয়োজনে থাকছে তেমনই কয়েকজন মেধাবী সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারদের আগামী দিনের স্বপ্ন ও প্রত্যাশার কথা। ‘সফটওয়্যার কিনে একদিনেই হয়তো কেউ সাউন্ডের অনেক কাজ শিখে যেতে পারে। কিন্তু অনুধাবন করার জন্য অনেক সময় দরকার’ রিপন নাথ চিফ সাউন্ড ডিজাইনার, ধ্বনিচিত্র ‘মনপুরা’র কথা মনে আছে নিশ্চয়ই! ‘চোরাবালি’, ‘টেলিভিশন’, ‘থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার’—এতোগুলো সফল কাজের সাউন্ড ডিজাইনার একজন। দেশ-বিদেশে তার নির্দেশনায় সাউন্ড ব্যবহার করা হয়েছে কয়েক হাজার বিজ্ঞাপনচিত্রে! তিনি রিপন নাথ। ধ্বনিচিত্রতে কাজ করছেন চিফ সাউন্ড ডিজাইনার হিসেবে। রিপনের কাছে জানতে চেয়েছিলাম আমাদের দেশে এই ক্ষেত্রে কাজ করার সুযোগ কেমন? তিনি বলেন, ‘রেডিও, টেলিভিশনে ও চলচ্চিত্রে অনেক কাজের সুযোগ রয়েছে। সুতরাং যদি কেউ ঠিক করেই আসে যে এখানে কাজ করবে, করার অনেক জায়গা রয়েছে, নিজে শুধু মন দিয়ে করে গেলেই হলো। তবে খুব তাড়াতাড়ি তো কিছু হয় না! তার নিজের ক্ষেত্রেও হয়নি। তিন-চার বছর তারা বাইরে দেখেছেন, কাজ শিখেছেন, তারপর না আস্তে আস্তে প্রবেশ এই জগতে। সেই সাথে ছিল প্রচুর প্রচুর গান শোনার আর চর্চার অভিজ্ঞতা। সফটওয়্যার কিনে একদিনেই হয়তো কেউ সাউন্ডের অনেক কাজ শিখে যেতে পারে। কিন্তু অনুধাবন করার জন্য অনেক সময় দরকার। একটা গান যে আমরা শুনি, সেটার নাড়ি-নক্ষত্র আবিষ্কার করার বিষয়টা রাতারাতি সম্ভব না। যদি দু’একটি কাজ করেই মনে হয় সব পেয়ে গেছি, তাহলে তো আর এই জীবনটার আর দাম থাকে না! নতুনদের উচিত জানাশোনার পরিধিটা বাড়ানো। আজও আমি প্রতিদিন দেখছি, শুনছি, জানার চেষ্টা করছি। আসলে এভাবেই তো এগিয়ে যায় মানুষ। আমরা দিন দিন প্রযুক্তিগতভাবে যতই উন্নত করতে পারব, ততই মানুষ আমাদের কাজগুলো সবাই আগ্রহ নিয়ে দেখবে ও বুঝতে পারবে।’ ০০০০০০ ‘আমাদের দেশে এই কাজটা যথেষ্ট উপযোগী ও সম্ভাবনাময়’ সুশান্ত কুমার সরকার সিনিয়র সাউন্ড প্রডিউসার, ঢাকা এফএম সময়টা ছিল ২০০৭, তখন সুশান্ত কুমার সরকার একটি বায়িং হাউজে চাকরি করেন। বড় দাদার জুনিয়র বন্ধু নুরে আলম মিলন (ঢাকা এফএম প্রোগ্রাম হেড) তাকে প্রশ্ন করেন যে, এফএম-এ (রেডিও টুডে) সাউন্ড এডিটর হিসেবে কাজ করবেন কি না? প্রশ্ন শোনার সাথে সাথে রাজি হয়ে যান তিনি। আর তখন থেকেই তার এফএম ইন্ডাস্ট্রির সাথে জড়িয়ে পড়া সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। ২০০৭ সালের এপ্রিল থেকে ২০০৮ সালের ৮ জুলাই পর্যন্ত রেডিও টুডেতে, এরপর ২০০৮ সালের জুলাই থেকে ২০১০ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এবিসি রেডিওতে, আর বর্তমানে ঢাকা এফএম-এ সিনিয়র সাউন্ড প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন। পেশা হিসেবে সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার কতটুকু সময়োপযোগী উত্তরে তিনি বলেন, ‘চাকরি জীবনের স্বল্প সময়ের অভিজ্ঞতায় আমার মনে হয় বর্তমানে আমাদের দেশে এই কাজটা যথেষ্ট উপযোগী ও সম্ভাবনাময়। বর্তমানে মিউজিক সফটওয়্যারগুলো যথেষ্ট সহায়ক হওয়ায় অনেকে এখন ভালো কাজ করছে। আমার মনে হয়, যারা এই কাজে আগ্রহী তারা এটিকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে পারে। সবশেষে, ভবিষ্যতে তার স্বপ্ন সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারিংকে ঘিরেই, সাথে তার মায়ের ইচ্ছা পূরণের অদম্য প্রচেষ্টা তো রয়েছেই।