ফিচার
প্রাচীনকাল থেকেই রোগ বালাই থেকে মানুষ নিজেকে সুস্থ রাখতে বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করত। একসময় গাছের লতাপাতা ও ঝাড়ফুঁক দিয়ে মানুষ নিজেকে সুস্থ রাখার চেষ্টা করত। কালের পরিবর্তনে আয়ুর্বেদিক, অ্যালোপ্যাথিক, হোমিওপ্যাথিক বিভিন্ন চিকিত্সা পদ্ধতি আবিষ্কার করেছে মানুষ। বর্তমানে বিনা ওষুধে মানবদেহকে সুস্থ রাখতে ফিজিওথেরাপি বিশ্বে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং কার্যকরী একটি চিকিত্সাপদ্ধতি।
ফিজিওথেরাপির শুরু
প্রথমে হিপোক্রেটস এবং তারপর গ্যালিনস বিশ্বাস করতেন, ব্যায়াম, ম্যাসেজ এবং ম্যানুয়াল থেরাপির মাধ্যমে মানুষ অনেক রোগ থেকে মুক্তি পেতে পারে। সুইডিস জিমন্যাসটিক পার হেনরিক লিং, যিনি সুইডিস ফাদার অব জিমন্যাসটিক হিসেবে পরিচিত। তিনি ১৮১৩ সালে প্রতিষ্ঠা করেন রয়েল সেন্ট্রাল ইনস্টিটিউট অব জিমন্যাসটিকস। ম্যাসেজ, ম্যানিপুলেশন, এক্সারসাইজ ছিল তার উদ্দেশ্য। সুইডেনের বিশ্ববিখ্যাত ফিজিওথেরাপিস্ট যখন নিজের অসুস্থতা নিয়ে ফিজিওথেরাপিকে উন্নয়নের জন্য যুক্ত হন তখন ১৮৮৭ সালে সুইডেনের জাতীয় বোর্ড ও স্বাস্থ্য এবং কল্যাণ দপ্তর ফিজিওথেরাপির অফিসিয়াল অনুমোদন দেয়। তখন থেকেই আমেরিকার অর্থোপেডিক্স সার্জনরা প্রতিবন্ধী শিশুদের ফিজিক্যাল চিকিত্সা অর্থাত্ ম্যাসেজ, ব্যায়াম ও ফিজিক্যাল ট্রিটমেন্টের জন্য মেয়েদের প্রশিক্ষণে নিয়োগ দিতে শুরু করেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় এ পদ্ধতি ব্যাপক কার্যকর প্রমাণিত হয়। এভাবেই দ্রুত বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে চিকিত্সা বিজ্ঞানের এ বিস্ময়কর পদ্ধতি, ওষুধ ছাড়া মানবদেহের নানা জটিল ও কঠিন রোগমুক্তির উপায়।
বাংলাদেশে ফিজিওথেরাপি
বাংলাদেশে ফিজিওথেরাপির ইতিহাস স্বল্প সময়ের। ডা. আর জে গ্র্যাস্ট ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অর্থোপেডিক অ্যান্ড রিহেবিলিটেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠার সাথে সাথে বাংলাদেশে ফিজিওথেরাপি পদ্ধতি জনপ্রিয়তা পায়। আজ চিকিত্সা বিজ্ঞানের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে ফিজিওথেরাপি। ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশে ফিজিওথেরাপির উন্নত চিকিত্সা ও শিক্ষার জন্য গঠিত হয় সিআরপি। প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ব্যাচেলর অব ফিজিওথেরাপি প্রদান করে থাকে। এ ছাড়াও বাংলাদেশে ফিজিওথেরাপির উন্নয়ন, প্রচার, প্রসার, বিকাশে ব্যক্তিগতভাবে যারা কাজ করে যাচ্ছেন তাদের মধ্যে অ্যতম হচ্ছেন ডা. এস চক্রবর্তী। তার নিয়মিত চেষ্টা, শ্রম, অধ্যবসয়ের ফলে আজ ফিজিওথেরাপি চিকিত্সা পদ্ধতি থেকে সকল শ্রেণীর মানুষই উপকৃত হচ্ছেন।
চিকিত্সা সেবা
এখানে কোনো প্রকার সার্জারি ছাড়াই আন্তর্জাতিকমানের ট্রিটমেন্ট পাওয়া যায়। হাঁটু ব্যথা, মেরুদণ্ডে ব্যথা (ব্যাপকপেইন), প্যারালাইসিসহ হোম সার্ভিসের ব্যবস্থাও আছে।
যোগাযোগ : বাংলাদেশে ফিজিওথেরাপিকে সহজলভ্য ও জনপ্রিয় করতে নিজের একান্ত প্রচেষ্টায় ডা. এস চক্রবর্তী প্রতিষ্ঠা করেন একটি বিশেষায়িত স্বয়ংসম্পূর্ণ ফিজিওথেরাপি হাসপাতাল। যার ঠিকানা :স্পেশালাইজড ফিজিওথেরাপি ও আর্থাইটিস রিসার্চ সেন্টার, বাড়ি-৮, আদর্শ ছায়ানীড়, রিং রোড, শ্যামলী, ঢাকা।
