নতুন সংসারে অর্থ ব্যবস্থাপনা

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০১৩, ১৮:২৭
ফিচার নতুন সংসারে অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনেকেই হিমশিম খান। এক খাতে খরচ করতে গেলে দেখা যায় আরেকটি খাতের জন্য কোনো অর্থই অবশিষ্ট থাকে না। এক্ষেত্রে বেতন কম হলে তো সমস্যা আরও বেশি হয়। মাসের অর্ধেক পার হতে না হতেই বেতনের পুরো টাকাটা শেষ হয়ে যায়। শেষমেষ বন্ধুদের কাছ থেকে ধার নিয়ে সংসার চালাতে হয়। সবকিছু মিলে বেশ একটি এলোমেলো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সংসারের খরচ সামলানো এবং বিভিন্ন খাতে অর্থ খরচ করার জন্য কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করতে হয় মাসের শুরু থেকেই। আসুন জেনে নেওয়া যাক সংসারে অর্থ ব্যবস্থাপনার ৫টি উপায়। গুরুত্ব অনুসারে বাজেট করুন প্রতি মাসের শুরুতেই বেতন পাওয়ার পর পর গুরুত্ব অনুসারে খরচ করুন। যে ক্ষেত্রে খরচ বেশি যেমন বাড়ি ভাড়া, সংসার খরচ ইত্যাদি এগুলোর জন্য বেতনের টাকা আলাদা করে রাখুন। এরপর অন্যান্য খরচ যেটার পর যেটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেগুলোর জন্য বাজেট করুন। যেসব খরচ কম গুরুত্বপূর্ণ অর্থাত্ না হলেও চলে সেগুলোর বাজেট একদম শেষে করুন। গুরুত্ব অনুযায়ী বাজেট করলে অহেতুক খরচ হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকাতেই সংসার চালিয়ে নেওয়া যায়। ঋণ শোধ করুন অনেক সময়েই বেতনের টাকা পুরোটা শেষ হয়ে গেলে আমরা বন্ধুদের থেকে বা পরিবারের কারও থেকে ধার নেই। কেউ কেউ আবার অফিসের কলিগদের থেকেও ধার নেন অথবা ব্যাংক লোন নেন। যেখান থেকেই ধার করুন না কেন মাসের প্রথমেই চেষ্টা করুন সেটা শোধ করে দেওয়ার। বেতন পেলেই ধারের টাকাগুলো একে একে শোধ করে দিন। ভবিষ্যতের জন্য জমিয়ে রাখুন প্রতিমাসেই অল্প অল্প করে টাকা জমিয়ে ফেলুন ভবিষ্যতের জন্য। কারণ ভবিষ্যতের নিরাপত্তা ও আর্থিক সচ্ছলতার জন্য সবারই কিছু সঞ্চয় থাকা প্রয়োজন। প্রথমে খুব বেশি সঞ্চয় করতে না পারলেও অল্প অল্প করে সঞ্চয় করুন। ধীরে ধীরে আয় বাড়ার সাথে সাথে সঞ্চয়ের পরিমাণও বাড়িয়ে দিন। সঙ্গীর সাহায্য নিন বেতনের টাকা পেয়ে সঙ্গীকে বুঝিয়ে দিন কোন খাতে কত বরাদ্দ করেছেন। তার হাতেও হিসাবের দায়িত্ব দিতে পারেন। সে হঠাত্ করে দামী কিছু কিনতে চাইলে তাকে বুঝিয়ে বলুন যে সেটা এই মাসেই কেনা সম্ভব না। তবে কয়েক মাস টাকা জমিয়ে তাকে সেটা কিনে দেবেন। আর যদি একেবারেই সামর্থ্য না থাকে তাহলে মিথ্যে আশা না দিয়ে সরাসরি বলেই ফেলুন যে আপনার সামর্থ্য নেই। ক্রেডিট কার্ড লিমিট নির্দিষ্ট করে দিন অনেকেই ব্যাংক থেকে বিভিন্ন সুবিধা পাওয়ার জন্য ক্রেডিট কার্ড নিয়ে থাকে। ফলে যখন যেটা কিনতে হয় ক্রেডিট কার্ড দিয়েই কিনে ফেলে। নগদ টাকা দিতে হয় না বলে এক্ষেত্রে খরচও হয় অনিয়ন্ত্রিতভাবে। তাই ক্রেডিট কার্ড নিলেও সেটার ক্রেডিট লিমিট নির্দিষ্ট করে দিন। তাহলে অতিরিক্ত খরচ হয়ে যাওয়ার ভয় থাকবে না।