ছবিতে গিরগিটিসদৃশ যে অদ্ভুত প্রাণীটিকে দেখা যাচ্ছে, তা কতকাল আগের হতে পারে? বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই প্রাণীটির মতো আরও কিছু বিরল প্রাণী লক্ষ লক্ষ বছর আগে পৃথিবীতে ছিলো, তাদের কিছু সংখ্যক এখনও টিকে আছে। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটি পাহাড়ে বিরল প্রজাতির তিনটি প্রাণীর সন্ধান পাওয়া গেছে। যে এলাকায় প্রাণীগুলোকে পাওয়া গেছে, বিজ্ঞানীরা তার নাম দিয়েছেন ‘লস্ট ওয়ার্লড’ বা হারানো পৃথিবী।
জেমস কুক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিজ্ঞানী ড. কনরাড হসকিন এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক/ ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের ফটোগ্রাফার ড. টিম লামান অন্যান্য ক্যামেরা ক্রুসহ এক অভিযানে বের হন। ‘ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক এক্সপেডিশন কাউন্সিল’র অর্থায়নে এই অভিযান পরিচালিত হয়। ২০১৩ সালের মার্চ মাসে তারা হেলিকপ্টারে করে অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় কেপ ইয়র্ক উপদ্বীপের দুর্গম ও এবড়োথেবড়ো বন্ধুর পর্বত কেপ মেলভিলের একটি স্থানে অবতরণ করেন। সেখানে নেমে তারা অনুসন্ধান চালাতে থাকেন এবং কয়েক দিনের চেষ্টায় তিনটি অদ্ভুত প্রজাতির মেরুদণ্ডী প্রাণীর সন্ধান পান। প্রাণীগুলো এতটাই অদ্ভুতদর্শন এবং সম্পূর্ণ আলাদা ধরনের যে, এদেরকে দেখে অভিযাত্রীরা বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যান। এই প্রাণীগুলোর মধ্যে ছিলো—পাতার মতো লেজঅলা অদ্ভুত ধরনের গিরগিটি, সোনালি রঙের এক ধরনের টিকটিকি এবং চমত্কার বর্ণিল এক ধরনের ব্যাঙ, যার সারা শরীরে বাদামি ডোরাকাটা; লাল-হলুদের চমত্কার নান্দনিক মিশেলও রয়েছে স্থানে স্থানে। এ ধরনের প্রাণী আগে কখনও দেখা যায়নি। সেই সাথে আরো কিছু প্রজাতির প্রাণীর সন্ধান পাওয়া গেছে কেপ মেলভিলের ঐ অঞ্চলে, যা বিজ্ঞানের নতুন আবিষ্কার হিসেবে স্বীকৃতি পাবে বলে বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস। প্রাণিবিজ্ঞানী হসকিন বলেন, ‘‘কেপ মেলভিল পর্বতের চূড়োটি একটি ‘হারিয়ে যাওয়া পৃথিবী’। আমার সারা জীবনের আবিষ্কার এই নতুন প্রাণী-প্রজাতিগুলো দেখে আমি এখনও চমত্কৃত এবং বিস্ময়ে অভিভূত।’’
অদ্ভুতদর্শন ও অত্যন্ত প্রাচীন প্রজাতির গিরগিটি লম্বায় ২০ সেন্টিমিটার বা ৭.৯ ইঞ্চি। এর বিশাল চোখ। দেহ লম্বা ও ছিপছিপে—সমজাতীয় প্রাণীদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় এর নাম দেয়া হয়েছে ‘স্যালটুরিয়াস এক্সিমিয়াস’। গিরগিটিগুলো ছদ্মবেশে মাথা নিচু করে নিঃশব্দে বসে থাকে শিকারের আশায়। পাশ দিয়ে কীট-পতঙ্গ এবং মাকড়সা অতিক্রম করতে দেখলেই ব্যস— অমনি আক্রমণ করবে। তবে মজার তথ্য হলো, এরা দিনের বেলায় বের হয় না। পাথরের চাঁইয়ের নিচে লুকিয়ে থাকে। শুধু রাতেই বের হয় ও পোকা-মাকড় শিকার করে।
সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র প্রজাতির ব্যাঙগুলোর বসবাস পাথরের ছোট ছোট চাঁইয়ের নিচে ঠাণ্ডা ও আর্দ্র পরিবেশে। সেখানেই স্ত্রী-ব্যাঙেরা ডিম পাড়ে। পানি না থাকায় ব্যঙাচিগুলো ডিমের মধ্যেই বেড়ে ওঠে? এক সময় পূর্ণাঙ্গ ব্যাঙ হিসেবেই ডিম থেকে বেরিয়ে আসে। টিকটিকিসদৃশ্য প্রাণীদের বসবাসও পাথরের চাঁইয়ের নিচে। এদের বৈজ্ঞানিক নাম দেয়া হয়েছে ‘স্পারোসসিনকাস সল্টাস’। সোনলি রঙের এই প্রাণী দেখতে ভারি সুন্দর। লম্বা দেহের এই প্রাণী দিনের বেলায় পাথরের ওপর দ্রুত চলাফেরা করে এবং কীট-পতঙ্গ শিকার করে খায়।
সূত্র: সায়েন্স ডেইলি ও ইয়াহু নিউজ।
