সিরিয়ার চল্লিশ ভাগ মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০১৩, ২০:২৪
সিরিয়ার প্রায় ৪০ শতাংশ (প্রায় ৯৩ লাখ) মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। আড়াই বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধের কারণেই দেশটিতে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে সংস্থাটি বলেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের এক হিসাবের ফলাফলে সোমবার এ তথ্য জানানো হয়েছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে সংস্থাটির মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভ্যালেরি আমোস বলেন, ‘সিরিয়ার মানবাধিকার পরিস্থিতি ক্রমাগত শোচনীয় হয়ে পড়ছে এবং এ ক্ষেত্রে কোনো প্রতিরোধ গড়ে তোলা যাচ্ছে না।’ আমোসের মুখপাত্র আমান্ডা পিটের মাধ্যমে এসব কথা জানা গেছে। আমোসের বক্তব্যের সারাংশ উদ্ধৃত করে পিট বলেন, ‘আমাদের হিসাব অনুযায়ী সিরিয়ায় মানবিক সহায়তা প্রয়োজন এমন মানুষের সংখ্যা বেড়ে ৯৩ লাখে দাঁড়িয়েছে। এদের মধ্যে, ৬৫ লাখ মানুষ দেশের অভ্যন্তরে অবস্থান করলেও নিজদের ঘর-বাড়ি হারিয়েছেন।’ সিরিয়ার বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ। দেশটির বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষা ও তাদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সাহায্য করার জন্য ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি চাপ দেন আমোস। বেসামরিক নাগরিকদের জন্য চিকিত্সা সামগ্রী, চিকিত্সক ও জীবনধারণে প্রয়োজনীয় অন্যান্য সামগ্রী নিরাপদে পাঠানোর জন্য সিরিয়ার যেসব পক্ষকে প্রভাবিত করলে কাজ হবে, তাদের ওপর সেই ধরনের প্রভাব তৈরির জন্য তিনি নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানান। সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে ম্যালেরিয়া ছড়িয়ে পড়ার পর সরকারি বাহিনী নিয়ন্ত্রিত অংশে অপুষ্টিজনিত পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছিল। ওই সতর্কতায় সাড়া দিয়ে সিরীয় সরকার সোমবার সারাদেশে ওষুধ ও মানবিক ত্রাণ সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। গত আড়াই বছর ধরে চলা সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে এ পর্যন্ত এক লাখেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।