দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দুই প্রধান রাজনৈতিক দল তথা জোট মুখোমুখি। সমগ্র দেশবাসীর ইচ্ছা—সংঘর্ষ পরিহার করে সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করে সকল দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান। ইতিমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেত্রী বিপরীতমুখী দুটি রূপরেখা প্রস্তাব করেছেন। আমি উভয় প্রস্তাবের মাঝামাঝি একটি প্রস্তাব বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করছি—
চলতি সংসদের অধিবেশনে একই সময়ে সরকারি দল ও বিরোধী দল ১১টি বিভিন্ন শ্রেণি/ পেশার মানুষের মধ্য থেকে প্রতি শ্রেণি বা পেশায় সরকারি দল ১০০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির তালিকা করবে। একইভাবে বিরোধী দল ঐ শ্রেণি বা পেশার সম সংখ্যা বিশিষ্ট ব্যক্তির তালিকা স্পিকারের কাছে উপস্থাপন করবে। দেখা যাবে যে এই তালিকায় এক বা একাধিক ব্যক্তির নাম দুই তালিকায়ই আছে। দুই তালিকায় থাকা ব্যক্তি ঐ শ্রেণি বা পেশায় মনোনীত বলে ধরা হবে। প্রথম তালিকা থেকে মনোনীত না করা গেলে এই ২০০ জনকে বাদ দিয়ে একইভাবে নতুন তালিকা তৈরি করতে হবে ।
শ্রেণি বা পেশাগুলো হতে পারে—চিকিত্সক, প্রকৌশলী, কৃষিবিদ, আইনজীবী, আলেম-ওলামা, শিক্ষাবিদ, অর্থনীতিবিদ, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা বা পুলিশের আইজিপি, অবসরপ্রাপ্ত সচিব, ব্যবসায়ী নেতা, নারী সংগঠক, খেলোয়াড়, সংস্কৃতি কর্মী, লেখক-কবি-সাহিত্যিক, সমাজ উন্নয়ন কর্মী ও সাংবাদিক।
মনোয়নের ক্ষেত্রে যোগ্যতা হতে হবে—
১) বয়স ৬৫ বছর ঊর্ধ্ব এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী।
২) স্ব স্ব পেশায় স্বনামধন্য।
৩) তাঁদের বিরুদ্ধে কখনো কোনো ধরনের মামলা ছিল না। ্্্্্্্্
৪) কোনো ধরনের ঋণখেলাপি, বিলখেলাপি এবং করখেলাপি ছিলেন না।
৫) সরাসরি দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।
এই রকমভাবে মনোনীত ১১ জন ব্যক্তিকে বর্তমান সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী ১১টি দল একযোগে মনোনয়ন দেবে। বর্তমান সংসদের প্রতি দল থেকে ১ জন করে সদস্য পদত্যাগ করবেন। শূন্য হওয়া আসনগুলোতে সর্বদল মনোনীত প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন।
উপনির্বাচন শেষ হওয়ার পরে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রীসভা পদত্যাগ করবেন। মহামান্য রাষ্ট্রপতি নব নির্বাচিত ১১ জন সাংসদের মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠ সাংসদকে প্রধানমন্ত্রী এবং বাকি ১০ জনকে মন্ত্রী হিসাবে নিয়োগ দেবেন। নতুন প্রধানমন্ত্রী মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে সংসদ ভেঙে দেওয়ার অনুরোধ জানাবেন ।
এই প্রক্রিয়ায় নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হলে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন নেই। সরকারি দল ও বিরোধী দল উভয়ই বিজয়ী হবে। কেননা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাব করেছেন সর্বদলীয় সরকার। এই ১১ জন সাংসদ সর্বদল মনোনীত। পক্ষান্তরে বিরোধী দলীয় নেত্রী নির্দলীয় সরকার দাবি করেছেন। যেহেতু এই ১১ সাংসদ দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন তাই এটা নির্দলীয় সরকার। আবার যেহেতু তাঁরা উপনির্বাচনে বিজয়ী হয়ে এসেছেন তাই এই সরকার একই সময়ে নির্বাচিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও বটে।
ঢাকা
