উন্নয়নের সবচেয়ে বড় অন্তরায় দুর্নীতি। অবৈধ উপায়ে বাড়তি আয়ের নেশায় আমরা যেন জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়েছি। নৈতিকতাকে বির্সজন দিয়ে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিচ্ছি। দুর্নীতিবাজদের কঠোর শাস্তি না পাওয়া এ ধরনের প্রশ্রয়কে আরো বেগবান করে তুলছে। দুর্নীতিবাজরা তাদের অপকর্ম ঢাকার জন্য আরো বড় দুর্নীতির জাল সৃষ্টি করে যা নতুন নতুন দুর্নীতির ক্ষেত্র তৈরি করে। এভাবেই আজ সমাজের প্রতিটি অঙ্গন দুর্নীতিতে আক্রান্ত। ব্যাংকে দুর্নীতি, সেতুতে দুর্নীতি, চাকরিতে দুর্নীতি— এ যেন দুর্নীতির রাজ্যে বাস করছি! দুর্নীতি একটি সামাজিক ব্যাধিতে রূপ নিয়েছে। এ ব্যাধি সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়েছে। দুর্নীতির শিকলে আমাদের সকলের ভাগ্য যেন বন্দি। এ বন্দিদশা থেকে আমাদের মুক্ত হতে হবে।
আগামী প্রজন্মকে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশের সংকল্প নিয়ে গড়ে উঠতে হবে। আজকের শিশু আগামী দিনের ধারক ও বাহক। ভোরের সূর্যোদয়ই দিনের আভাস দেয়। তাই শিশুকে ছোট থেকেই সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধ, পারিবারিক শিক্ষা, ধর্মীয় জ্ঞান ইত্যাদির মধ্যে বড় করতে হবে। আর এ ধরনের শিক্ষার অন্যতম ভিত্তি হলো প্রাথমিক শিক্ষা। নৈতিকতা, প্রয়োজনীয় দক্ষতা, জ্ঞান, দৃষ্টিভঙ্গি ইত্যাদি বিষয় প্রাথমিক শিক্ষার মাধ্যমে শিশুর মাঝে রোপণ করা সম্ভব। সামাজিক ও পারিবরিক প্রভাবের ওপর ভিত্তি করে শিশুর মূল্যবোধ তৈরি হয়। শিশুকে শৃঙ্খলা ও নিয়মানুবর্তিতার শিক্ষা দিতে হবে। প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্নকে ফলাও করে দেখাতে হবে। পুথিগত শিক্ষাবাণিজ্য থেকে শিশুকে মুক্ত করে বিশ্ব জ্ঞানের সঙ্গে পরিচিত করাতে হবে। প্রকৃতির মাঝে বড় হতে দিতে হবে শিশুকে। তার স্বপ্নকে লালন করতে হবে তার মতো করে। একটি শিশুর মূল্যবোধ যেন দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দিয়েই শুরু হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
