দেশে কীভাবে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০১৩, ২১:১৭
দু’দলই আন্তরিক সহযোগিতার মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব বাংলাদেশের রাজনীতির আকাশ মেঘাচ্ছন্ন। যে কোন সময় নেমে আসতে পারে সিডর বা আইলার মত ঝড়। কেড়ে নিতে পারে হাজারো প্রাণ। ধ্বংস করতে পারে লক্ষ-কোটি মানুষের সুখ, সব কিছুর মূলে একটাই কারণ, তত্ত্বাবধায়ক তথা নিরপেক্ষ সরকার। আমাদের দেশে একদল অন্য দলকে বিশ্বাস করতে পারেনি। শিখেনি ভালোবাসতে কিংবা সম্মান দেখাতে। সুতরাং, এ ধরনের পরিস্থিতিতে তত্ত্বাবধায়ক তথা নিরপেক্ষ সরকারের বিকল্প নেই। হয়তোবা গঠনতন্ত্রে একটু পার্থক্য আনা যেতে পারে। তাছাড়া যে সকল গণ্যমান্য ব্যক্তি অতীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করেছেন, তাদেরকেও কাজে লাগানো যেতে পারে। তবে তত্ত্বাবধায়ক পুরোপুরি বিলোপ করে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে সরকারকে আরো নমনীয় হতে হবে এবং বিরোধী দলকেও আরো চিন্তা-ভাবনা করে এগিয়ে যেতে হবে। এম. এ. রহমান হাওলাদার, বিএসএস (অনার্স), শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমেই একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া সম্ভব গণতান্ত্রিক শাসনে একটি সরকার তার মেয়াদ পূর্ণ করার পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণ তাদের পছন্দের সরকার বেছে নেয়ার সুযোগ পাবে। কিন্তু প্রতিটি নির্বাচনের আগেই যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে তা গণতান্ত্রিক রীতিনীতির সম্পূর্ণ বিপরীত। লক্ষ্য করুণ নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যে বিধান সংবিধানে ৫৮(খ)(গ)(ঘ)(ঙ)তে ছিল, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তা বাতিল করে দেশে এক গভীর রাজনৈতিক সংকট জন্ম দিয়েছে শাসক দল। তাই এখন সকলের প্রশ্ন দেশে কীভাবে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব? বাংলাদেশের রাজনৈতিক চরিত্র সার্বিকভাবে বিশ্লেষণ করলে এবং শতকরা ৯০ ভাগ জনগণের মতামতকে প্রাধান্য দিলে নিঃসন্দেহে বলা যায়, একমাত্র তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব। যেখানে সরকারি দল ও বিরোধী দল উভয়কে জনস্বার্থে সমঝোতায় আসতে হবে এবং সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ থাকতে হবে। মো. মাহবুবুর রহমান, সম্মান ৪র্থ বর্ষ, রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগ, সরকারি বিএল কলেজ, খুলনা মহামান্য রাষ্ট্রপতি যদি পদক্ষেপ নেন তাহলে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের আশা করা যায় আমার দুঃখ হয়, ভয় হয়, কষ্ট হয়, এত জল্পনা-কল্পনার পরও আজো সংলাপে বসার কোন পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন রাষ্ট্রের কূটনৈতিক জাতিসংঘ মহাসচিব বানকি মুন এবং মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী জন কেরি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আওয়ামী, বিএনপি, জাপা, নাজমূল হুদাসহ প্রত্যেকে নির্বাচনী ফর্মূলা দিয়েছেন। কিন্তু আমার প্রশ্ন হচ্ছে এই দেশে কি এমন কেউ নেই যে এই উদ্ভূত পরিস্থিতি থেকে টেনে বের করে একটা অবাধ-নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে। কিন্তু সংবিধানের ৪৮ ধারা হতে প্রাপ্ত ক্ষমতা বলে মহামান্য “রাষ্ট্রপতি” নির্বাচনের জন্য কার্যকরি ভূমিকা রাখতে পারেন এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য দুই নেত্রীকে নিয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন। আমি তরুণ প্রজন্মের পক্ষ হতে বলতে চাই, আপনারা সমঝোতার মাধ্যমে অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে বজায় রাখুন। জনগণই কাউকে না কাউকে ক্ষমতার আসনে অধিষ্ঠিত করবে। মো. জাহাঙ্গীর আলম, আইন বিভাগ (শেষ বর্ষ), স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ নির্বাচন হলো গণতন্ত্রের পথকে প্রশস্ত করার চাবিকাঠি নির্বাচন হলো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অন্যতম একটি মাধ্যম। একটি জাতির গণতন্ত্র লালন এবং সেটির বহিঃপ্রকাশের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো নির্বাচন। কিন্তু আজ সময়ের প্রেক্ষাপটে এসে বাংলাদেশ একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। সরকার পক্ষ বলছে দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে আগামীর নির্বাচন। অপরদিকে বিরোধী দল বলছে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনেই হবে আগামী নির্বাচন। কেউ কারো কথা আমলে নিচ্ছে না। সর্বোপরি সরকারপক্ষ এবং বিরোধী পক্ষের শান্তিপূর্ণ সমঝোতার ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হতে পারে সুন্দর, সুশৃঙ্খল এবং অংশগ্রহণমূলক একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচন। যা বিশ্ব মানচিত্রে ঠাঁই করে নেয়া স্বাধীন বাংলাদেশে বয়ে আনতে পারে শান্তির সুবাতাস। আবুল কাশেম রাকিব, বিএসএস (সম্মান) ২য় বর্ষ, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা কলেজ