দরিদ্র মানুষের ব্যাংক ‘পল্লী সঞ্চয়ী ব্যাংক’ গঠনে আর কোন বাধা নেই। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের একদিন পরই একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পকে ‘পল্লী সঞ্চয়ী ব্যাংক’-এ রূপান্তরের ক্ষেত্রে অনাপত্তি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ বৃহস্পতিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত হবে আন্ত:মন্ত্রণালয় বৈঠক। এতেই চূড়ান্ত হবে পল্লী সঞ্চয়ী ব্যাংক আইন। ইতিপূর্বে ব্যাংক আইনের নীতিগত সম্মতি দিয়েছে মন্ত্রিসভা। আগামী সোমবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে আইনটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হবে। এ ধরনের ব্যাংক প্রতিষ্ঠার অভিজ্ঞতা ভাল নয় উল্লেখ করে এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আপত্তি জানিয়েছিল। এ নিয়ে গত প্রায় পাঁচ মাস ধরে চিঠি চালাচালি চলছিল।
গত সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ ধরনের ব্যাংক প্রতিষ্ঠার বিষয়ে রুলস অব বিজনেসের ২১(৩) বিধি অনুযায়ী প্রস্তাব উত্থাপন করেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবীর নানক। পরে এ প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন দিয়ে কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, পরিবেশ ও বনমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব এমএ কাদের সরকার বক্তব্য দেন। সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পটি কোন ব্যবসা করার জন্য করা হয়নি। এর জন্য গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দেয়াই সরকারের উদ্দেশ্য। তাই এ প্রকল্পের ভবিষ্যত্ নিশ্চিত করতেই ব্যাংক করা দরকার।’ এ জন্য তিনি অর্থমন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন।
প্রসঙ্গত, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পে গ্রাম উন্নয়ন কমিটির মাধ্যমে ব্যাংকে সঞ্চয় করা হয়। এ কমিটির সদস্যরা প্রত্যেকে মাসে ২০০ টাকা করে দেন এবং সরকার থেকে দেয়া হয় ২০০ টাকা। এইভাবে প্রতিজনের নামে মাসে জমা হয় ৪০০ টাকা।
বর্তমানে ১৭ হাজার ৩০০ গ্রামে এই প্রকল্প চালু রয়েছে। ১০ লাখ ৩৮ হাজার পরিবার এর সুবিধাভোগী। বর্তমানে ব্যাংকে জমা সম্মিলিত তহবিলের পরিমাণ ১ হাজার ৩৩২ কোটি টাকা। এক বছরে প্রতিজনের মাসিক আয় বেড়েছে ১০ হাজার ৯২১ টাকা। গ্রাম উন্নয়ন কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এর সদস্যরা ঋণ নিতে পারেন এবং তা ক্ষদ্র ব্যবসায় বিনিয়োগ করে স্বাবলম্বী হতে পারেন। এ প্রকল্পের সঙ্গে কাজ করছেন তিন হাজার ৬০০ কর্মকর্তা ও কর্মচারী।
সম্প্রতি একনেক সভায় এ প্রকল্পের পরিধি বিস্তৃত করার প্রস্তাব অনুমোদন হয়েছে। এর ফলে ৪০ হাজার ৫২৭ টি গ্রামের ২৪ লাখ পরিবার এ সুবিধার আওতায় আসবে। অর্থাত্ প্রতিটি ওয়ার্ডের একটি করে গ্রাম এ প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হবে। আর আগামী দুই বছরে সঞ্চয়ের পরিমাণ দাঁড়াবে ৩ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্পের পরিধি বিস্তৃত করায় আরও আড়াই হাজার কর্মকর্তা ও কর্মচারীর নিয়োগও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে প্রকল্প পরিচালক ড. প্রশান্ত রায় ইত্তেফাককে বলেন, ‘পল্লী সঞ্চয়ী ব্যাংক হলে এ প্রকল্পের সবকিছু স্থায়ী রূপ নেবে। কেউ ইচ্ছা করলে এটি বন্ধ করতে পারবে না। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অর্থ কেউ আত্মসাত করতে পারবে না। সবকিছুতেই স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিও স্থায়ী হবে। ফলে তারা নিশ্চিন্ত মনে চাকরি করতে পারবেন। তিনি বলেন এটি দরিদ্রবান্ধব ব্যাংক। দরিদ্রদের টাকায় এই ব্যাংক পরিচালিত হবে।
