বিদেশি ক্রেতারা আসছেন না রাজনৈতিক অস্থিরতায়

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০১৩, ২২:৪১
হরতালসহ রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিদেশি ক্রেতা বা তাদের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে আসতে অনীহা প্রকাশ করছেন। এতে রফতানি বাণিজ্যের সাথে সংশ্লিষ্টরা যেমন অসুবিধার মধ্যে পড়েছেন, সাথে সাথে দেশের তারকা হোটেলগুলোর ব্যবসাও কমছে। অন্যান্য বছর যখন এই সময়ে যেসব তারকা হোটেলে শতভাগ রুম বুকিং থাকতো বর্তমানে সেগুলোর অধিকাংশই এখন অতিথি সংকটে ভুগছে। রফতানি বাণিজ্যের সাথে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সাধারণত: এই সময়ে বিদেশি ক্রেতারা সারাবছরের অর্ডার দিয়ে থাকে। এজন্য ক্রেতা বা তাদের প্রতিনিধিরা বেশ কয়েকদিন বাংলাদেশে অবস্থান করে। এর মধ্যে তারা রফতানিকারকদের সাথে বৈঠকসহ তাদের কারখানা পরিদর্শন করেন। কিন্তু হরতাল, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ক্রেতারা এখন বাংলাদেশে আসতে চাইছেন না। জরুরি বৈঠক থাকলে ক্রেতারা রফতানিকারকদের তৃতীয় কোন দেশে যেতে বলছেন। অধিকাংশ রফতানিকারক এখন তাদের ক্রেতাদের সাথে বৈঠকের জন্য হংকং, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, চীনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যাচ্ছেন। রফতানিকারকদের সাথে কথা বললে তারা জানান, গত দুই সপ্তাহে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা অধিকাংশ সংবাদমাধ্যমে প্রধান খবর হয়েছে। হরতালের কারণে নানা জায়গায় সংঘর্ষ ক্রেতাদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা এসব খবর অনুবাদ করে তাদের প্রধান অফিসে পাঠাচ্ছেন। আর এতেই অনেকে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। পোশাক রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ-র সাবেক সহ-সভাপতি এবিএম সামছুদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, বাংলাদেশে যেসব বড় ক্রেতা প্রতিষ্ঠান কাজ করে তাদের অধিকাংশেরই এশিয়া ডেস্ক অফিস আছে। অনেকে বাংলাদেশে অফিসও খুলেছেন। কিন্তু সারা বছরের অর্ডার তৈরি করার আগে কোম্পানির হেড অফিসের বড় বড় কর্মকর্তারা বাংলাদেশে আসেন। তাদের সফরের উদ্দেশ্য বহুবিধ। তিনি বলেন, ক্রেতাদের সাথে অনলাইনে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ থাকলেও সামনা সামনি যেসব কথা বলা যায়, ই-মেইলে তা বলা যায় না। সামনাসামনি কথা বললে দুপক্ষের মধ্যে বোঝাপড়া বাড়ে। এছাড়া ক্রেতারা বাংলাদেশে আসলে সরাসরি কারখানা পরিদর্শন করতে পারেন। বিজিএমইএ-র সাবেক এই নেতার মতে, বাংলাদেশের একজন বড় রফতানিকারক শুধু একজন বায়ারের কাজ করেন না। ভিন্ন ভিন্ন দেশের বেশ কয়েকজন বায়ারের সাথে কাজ করতে হয় তাকে। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ক্রেতারা বাংলাদেশে না আসায় একজন উদ্যোক্তাকে বৈঠকের জন্য একই সময়ে বিভিন্ন দেশ ঘুরতে হয়। এটা খুবই দুরূহ ব্যাপার। বিদেশিরা না আসায় দেশের তারকা হোটেলগুলোর রুম বুকিং এর হার কমে গেছে। ওয়েস্টিন, র্যাডিসন, সোনারগাঁওসহ বড় বড় হোটেলগুলোর অর্ধেকই এখন খালি। এই সময়কে হোটেল কর্তৃপক্ষ পিক-সিজন হিসেবে বিবেচনা করলেও বিদেশিরা না আসায় অনেক রুম খালি থাকছে। র্যাডিসন হোটেলের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, গত সোমবার হোটেলের মোট রুমের মাত্র ৬০ শতাংশে অতিথি ছিলো। প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের জনসংযোগ কর্মকর্তা সালমান কবির ইত্তেফাককে বলেন, নভেম্বর ডিসেম্বর হোটেল ব্যবসার জন্য পিক সিজন। কিন্তু ক্রমাগত হরতাল এবং রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে অনেকে তাদের বুকিং প্রত্যাহার করেছেন।