খালেদা জিয়া সংলাপে রাজি, শেখ হাসিনাও প্রস্তাব বাতিল করেননি

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০১৩, ২২:৪৫
আসন্ন নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে খালেদা জিয়া এখনো শেখ হাসিনার সঙ্গে সংলাপে বসতে রাজি আছেন। শেখ হাসিনাও এই প্রস্তাব বাতিল করেননি। দুই নেত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত্ শেষে সাংবাদিকদের একথা জানিয়েছেন মার্কিন কংগ্রেসম্যান স্টিভ শ্যাবট। এই কংগ্রেসম্যান দু’দিনের সফরে ঢাকায় এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, জামায়াত নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। গতরাতে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাবার আগে বিকালে আমেরিকান সেন্টারে কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জন ভ্যানিলুইস ও অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মার্কিন কংগ্রেসের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল সংক্রান্ত পররাষ্ট্র বিষয়ক সাব কমিটির চেয়ারম্যান স্টিভ শ্যাবট এখানকার রাজনৈতিক সংকট, সহিংসতা, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে মতামত তুলে ধরেন। সহিংসতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা বলেছি। একান্তভাবে আহ্বান জানিয়েছি, নিজ নিজ দলের সমর্থকদের নিবৃত্ত করতে যাতে সহিংসতা না হয়। সহিংসতার কোন স্থান নেই। নির্বাচন আসছে, এখানে সহিংসতাও চলছে। এটা কাম্য নয়। নির্বাচন হোক বা না হোক উভয় পক্ষকে সহিংসতা বন্ধের কথা বলেছি। উভয়ে বড় মাপের জ্ঞানী নেতা। তারা সবই বুঝেন। এমন জটিল অবস্থা থেকে উত্তরণের পথ খুঁজে বের করবেন। আমি সেই প্রত্যাশা করি। কংগ্রেসম্যান আরো বলেন, খালেদা জিয়া সংকট নিরসনে শেখ হাসিনার সঙ্গে বসতে আগ্রহী। আলোচনায় মহাসচিব বা অন্য নেতৃবৃন্দকেও নিতে পারেন। এই আগ্রহের কথা শেখ হাসিনাকে বলেছি। তিনিও এ প্রস্তাব বাতিল করেননি। নেতৃবৃন্দের দায়িত্ব আছে সংঘাত এড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করার। আশাকরি উভয়পক্ষ অবাধ, সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন। যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচনে কোন পক্ষ নেয় না। যুক্তরাষ্ট্রে রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেট সদস্যরা বিতর্ক করেন। একে অপরের বিরোধিতা করেন। শারীরিকভাবে আক্রমণ করেন না। এখানকার রাজনীতি বিপজ্জনক ও উদ্বেগজনক। বিজয়ীদের সব পাওয়ার প্রবণতা আছে এখানে। ক্ষমতায় গেলে বিরোধীদের পরোয়া করা হয় না। স্টিভ শ্যাবট আরো বলেন, নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে এখানে দুই মত আছে। একপক্ষ তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতি চায়। আগে এই ব্যবস্থা ছিল। অন্যপক্ষ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নির্বাচন করতে চায়। দুইপক্ষ দেশের স্বার্থে একসাথে কাজ করবেন আশা করি। তিনি আরো বলেন, আমেরিকা বাংলাদেশে শীর্ষ বিনিয়োগকারী দেশ। স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা না থাকলে বিনিয়োগ বাড়বে না। বিনিয়োগের জন্য স্থিতিশীলতা দরকার। আশা করি দুই নেত্রী সরাসরি অথবা প্রতিনিধিদের মাধ্যমে আলোচনা করবেন সবকিছু নিয়ে। নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যেই আসুক আমরা পরিস্থিতির উন্নয়ন দেখতে চাই। যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রসঙ্গে কংগ্রেসম্যান বলেন, ৪০ বছর পরও হত্যাযজ্ঞ ও নৃশংসতার বিচার হওয়া দরকার। দায়ীদের শাস্তি হতে হবে। আইনমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি জানালেন, সবকিছু ঠিক আছে। অন্যদের সঙ্গে আলোচনায় বুঝলাম উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ আছে। কেউ বলেন, নির্দোষ ব্যক্তি অভিযুক্ত হয়েছে। আসামীপক্ষের সাক্ষীরা সমান সুযোগ পায়নি। নূন্যতম আন্তর্জাতিক ও দেশীয় মান বজায় রাখতে হবে। সুশীল সমাজের সঙ্গে মতবিনিময় মার্কিন কংগ্রেসম্যান গতকাল সকালে ও দুপুরে দুই দফা সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। গুলশানের একটি হোটেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তাসনিম সিদ্দিক, বদিউল আলম মজুমদার, আদিলুর রহমান খান, নূর খান প্রমুখের সঙ্গে প্রাতঃরাশ বৈঠক এবং মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সের বাসভবনে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমান, আওয়ামী লীগ নেতা সাবের হোসেন চৌধুরী, বিএনপি নেতা শমশের মবিন চৌধুরী, ফারুক সোবহান, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, আক্কু চৌধুরী প্রমুখের সঙ্গে মধ্যাহ্ন ভোজে মিলিত হন।