পিলখানা হত্যা মামলার রায়ে ১৫২ জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির মধ্যে পলাতক ১৩ জন বাদে ১৩৯ জনকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার রায় ঘোষণার পর ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তদের পৃথক কয়েকটি সেলে রাখা হয়। আদালতের রায়ের কপি কারা কর্তৃপক্ষের হস্তগত হওয়ার পর ঐ সেলগুলোকে ‘কনডেম সেল’ ঘোষণা করা হবে।
এর মধ্যে আদালতে সাবেক সংসদ সদস্য নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টুর যাবজ্জীবন রায় হওয়ার পরও কারাগারে তার ডিভিশন (প্রথম শ্রেণীর মর্যাদা) বহাল রয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রায়ের কপি পাওয়ার পর তার ডিভিশন বাতিল করা হবে। কারা অধিদফতরের উপ-মহাপরিদর্শক (ঢাকা রেঞ্জ) গোলাম হায়দার বলেন, মঙ্গলবারের রায়ের বিষয়টি তারা জানার পর আদালত থেকে ঐসব আসামিকে একসঙ্গে করে প্রিজন ভ্যানে করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়। তাদেরকে পৃথক সেলে রাখা হয়। ঐসব সেলকে কনডেম সেল ঘোষণা করার প্রস্তুতি কর্তৃপক্ষ নিয়েছে। আদালত থেকে রায়ের কপি কারাগারে পৌঁছার পর এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র সুপার ফরমান আলী বলেন, বিডিআর হত্যা মামলায় ফাঁসি, যাবজ্জীবন সাজা, বিভিন্ন মেয়াদের জেল ও খালাসপ্রাপ্ত ৮৪৬ জন আসামিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে। এদের মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের বিশেষ নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ১৩৯ জন আসামিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা নিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কারাগারের একজন কর্মকর্তা জানান, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের যেসব সেলে রাখা হয়েছে সেগুলোতে কারারক্ষীরা বেশি নজরদারি করছে। কর্মকর্তা জানান, মঙ্গলবারের রায়ের পর সেলগুলোতে অনেক আসামি নিজেদের নির্দোষ দাবি করে বিলাপ করেছেন। কেউ কেউ চিত্কার করে আল্লাহর কাছে বিচার চেয়েছেন।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ইতিহাসে একসঙ্গে এতসংখ্যক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রাখার রেকর্ড এটা সবচেয়ে বড়। তবে আদালতের রায়ের কপি পাওয়ার পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের অনেককেই বিভিন্ন কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হবে। মঙ্গলবার দুপুরে অস্থায়ী বিশেষ আদালত থেকে সাবেক সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়ার পর তাকে ডিভিশন দেয়া হয়। কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, আদালতে তার যাবজ্জীবন সাজা হলেও রায়ের কপি না পাওয়া পর্যন্ত ডিভিশন বলবত্ থাকবে।
