শেষ হলো ৬০ ঘণ্টার হরতাল

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০১৩, ২২:৪৬
ঢিলেঢালাভাবে শেষ হয়েছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের ডাকা টানা ৬০ ঘণ্টার হরতাল। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া শেষ দিন গতকাল বুধবার রাজধানীর জনজীবন অনেকটাই ছিল স্বাভাবিক। আগের দুই দিনের তুলনায় বাড়ে যানবাহন চলাচল। বিমান, রেল ও লঞ্চ চলাচল ছিল স্বাভাবিক। তবে দূরপাল্লার রুটে কোন বাস ছেড়ে যায়নি। পিকেটিংকালে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে গতকাল ২২ জনকে আটক করে পুলিশ। এর মধ্যে ৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল সকালে হাতিরঝিল এলাকায় একটি অটোরিক্সায় আগুন ধরিয়ে দেয় হরতাল সমর্থকরা। সংসদ ভবন এলাকায় হরতালের সমর্থনে মিছিল করে বিএনপির সংসদ সদস্যরা। এ সময় বিএনপির চিফ হুইপ জয়নুল আবদীন ফারুক সময় না বাড়িয়ে সংসদ অধিবেশন শেষ করার দাবি জানান। সকাল সাড়ে ১০টায় ফার্মগেটের আল রাজি হাসপাতালের সামনে শিকড় পরিবহনের একটি গাড়িতে আগুন দেয় পিকেটাররা। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গ্রিন রোডে গ্রিন লাইফ হাসপাতালের সামনে হরতাল সমর্থকরা ৮/১০টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। প্রায় একই সময়ে তেজগাঁওয়ে সাত রাস্তার মোড়ে হরতাল সমর্থকরা মিছিল বের করে। এ সময় স্থানীয় যুবলীগ ও শ্রমিক লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে হরতাল সমর্থকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। পরে হরতাল সমর্থকরা একটি সিএনজি অটোরিক্সায় আগুন ধরিয়ে দেয়। সকাল পৌনে ৬টার দিকে তেজগাঁও চ্যানেল-২৪ এর গলিতে যায় একটি সিএনজি অটোরিক্সা। সিএনজি থেকে দু’জন বের হলে একজন পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। পুলিশ তাদের ধরতে গেলে একজন পালিয়ে যায়। তবে চালক আক্তার হোসেনকে আটক করে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দুটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। বিএনপি কার্যালয়ের পাশে অবস্থিত হোটেল মিডওয়ের ভবন থেকে ককটেল দুটি ছোঁড়া হয়েছে বলে পুলিশ ধারণা করছে। এ ব্যাপারে মতিঝিল জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মেহেদী হাসান জানান, হোটেল মিডওয়ের মালিকসহ ১১ কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পল্টন থানায় আনা হয়েছে। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কাওরান বাজারে পেট্রোবাংলা অফিসের গলিতে চারটি ককটেল ও পৌনে সাতটায় তিব্বতের গলিতে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ডেমরা চৌরাস্তায় ১০/১২ জন জামায়াত-শিবির কর্মী ঝটিকা মিছিল বের করে। পরে তারা স্থানীয় শ্রমিক লীগ কার্যালয়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। কার্যালয়টি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। সকাল ৬টার দিকে টিকাটুলি এলাকায় র্যাব-৩ কার্যালয়ের সামনে শিবির কর্মীরা কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। বেলা আড়াইটার দিকে মালিবাগে আবুল হোটেল সংলগ্ন পদ্মা সিনেমা হলের সামনে ১০/১২ জন ছাত্রদল কর্মী সেখানে কর্তব্যরত পুলিশের দিকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ চার রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। দুপুর সোয়া ২টার দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে হরতাল সমর্থকরা একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। দুপুর ১টার দিকে জুরাইন মুন্সিবাড়ি এলাকায় ২টি ককটেলসহ কাইয়ুম নামে ছাত্রদলের এক কর্মীকে আটক করে পুলিশ। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা জেলা জজ কোর্টের সামনে একটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায় দুর্বৃত্তরা। এতে ওই এলাকায় কিছুটা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও কেউ হতাহত হয়নি। একই সময়ে পুরান ঢাকার নবাবপুর রোডে মিছিল শেষে তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় পিকেটাররা। সকালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে যুব সংগ্রাম পরিষদের প্রতিবাদ সভার পাশে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এ ঘটনায় রাসেল নামক একজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সূত্রাপুর এলাকায় ঝটিকা মিছিল বের করে শিবির কর্মীরা। এ সময় তারা ৪টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। সকাল ১০টার দিকে খিলগাঁও এলাকায় স্থানীয় ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা পরপর ৩টি ককটেল নিক্ষেপ করে। তবে ককটেলগুলো অবিস্ফোরিত থাকে। পরে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ককটেলগুলো উদ্ধার করে। সকাল পৌনে ৮টার দিকে সোনারগাঁও ক্রসিংয়ে কে বা কারা পরপর চারটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। সকাল সাড়ে ৮টায় মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের সামনে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায় শিবির কর্মীরা। সকাল সাড়ে ৬টায় গুলশানের শাহজাদপুরে ঝটিকা মিছিল বের করে শিবির কর্মীরা। এ সময় তারা পরপর ৮/১০টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়।