অর্থঋণ আদালতে বিচারক সংকটের কারণে চট্টগ্রামের হাজার হাজার অর্থঋণ মামলার গতি স্থবির হয়ে পড়েছে। ব্যাংক, বীমাসহ সরকারি, বেসরকারি ব্যাংকিং কোম্পানির অর্থ আদায়ের কয়েক হাজার কোটি টাকার অর্থঋণ মামলা ও জারি মামলা বিচারকের অভাবে পড়ে আছে। বিচারক সংকটের কারণে ঋণখেলাপী ও ব্যাংক লুটেরাদের পোয়াবারো হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন।
আদালত সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালতের বিচারক মাহবুবুর রহমান গত বছরের অক্টোবরে বিদায় নেয়ার পর দীর্ঘ ৩ মাস এই আদালত বিচারক শূন্য ছিল। গত ৩১ জানুয়ারি বিচারক এ কিউ এম নাছির উদ্দীনকে নিয়োগ দেয়া হলে উক্ত আদালতে মামলার জট খুলতে শুরু করে। কিন্তু গত ২৪ অক্টোবর তিনিও পদোন্নতি পেয়ে চলে যান। এরপর নতুন জজ নিয়োগ না দেয়ায় মামলার জট আবার দীর্ঘতর হচ্ছে এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ মামলা শুনানির অভাবে পড়ে আছে। ফলে দেশ ও জনগণ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
জানা গেছে, বর্তমানে ১,৭৫৬টি মামলা বিচারের অপেক্ষায় আছে। তার মধ্যে ৫৮৫টি অর্থঋণ মামলা। প্রতিদিন গড়ে ৪/৫টি মামলা হয়। বর্তমানে ১ম যুগ্ম জেলা জজ বাহাউদ্দিন আহাম্মেদ এর আদালত নিজের আদালত ছাড়াও অর্থঋণ আদালত এবং ৩য় যুগ্ম জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত চার্জ কোর্ট-এর দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অতিরিক্ত কাজের চাপে গলদঘর্ম হচ্ছেন।
শুধু অর্থঋণ আদালতে প্রতিদিন ১০/১২টি গুরুত্বপূর্ণ মামলা শুনানির জন্য দিন ধার্য্য থাকে। বিচারক না থাকায় এগুলো প্রায়ই তারিখ পড়ছে। অর্থঋণ আদালতসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আদালতে বিচারক সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আইনজীবীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা অবিলম্বে বিচারক নিয়োগ দেয়ার জন্য প্রধান বিচারপতি ও আইনমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান।
