‘নতুন প্রযুক্তি প্রয়োগ করে তৈরি করা হয়েছিল বোমা। আর এ বোমা দিয়ে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু অসাবধানতায় তা ভণ্ডুল হয়ে যায়। নিক্ষেপ করার আগেই বোমা বিস্ফোরিত হয়। এতে মারাত্মকভাবে আহত হয় বহনকারী আনোয়ার হোসেন। আমি সামান্য আহত হলেও পালাতে সক্ষম হয়েছিলাম।’ ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য জানিয়েছেন বোমা প্রস্তুককারক সফিকুল ইসলাম সফিক।
গত তিন নভেম্বর রাজধানীর কাঁটাবন মোড়ের ফুটপাতে বোমা বিস্ফোরণে মারাত্মকভাবে আহত হয় সফিকের সহকর্মী আনোয়ার হোসেন। বর্তমানে পুলিশ পাহারায় আনোয়ার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ বুধবার খিলগাঁয়ের মেরাদিয়া এলাকা থেকে সফিককে গ্রেফতার করে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গতকাল গোয়েন্দা পুলিশ তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে।
এ দিকে গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিসি ডিবি (দক্ষিণ) কৃষ্ণপদ রায় জানান, আহত আনোয়ারের ভাষ্য মতে শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চে হামলার লক্ষ্যে তাকে বোমা দিয়েছিল বোমা প্রস্তুতকারী সফিক। তাদের পরিকল্পনা ছিল বড় ধরনের নাশকতার। এর সঙ্গে আর কারা কারা জড়িত রয়েছে তাদের সনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
অভিযান পরিচালনাকারী দলের প্রধান এডিসি (দক্ষিণ) মোহাম্মদ ছানোয়ার জানান, সফিকুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি বরিশাল। তবে তারা এখন খিলগাঁয়ের স্থায়ী বাসিন্দা। নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করা সফিক কম্পিউটারে পারদর্শী। সে জিহাদি চেতনায় আনোয়ার হোসেনকে উদ্বুদ্ধ করে। সফিক কয়েকটি উত্স থেকে ম্যানুয়াল এবং সরঞ্জামাদি সংগ্রহ করে বোমা তৈরি করে। বোমা তৈরির পর (দুই মাস আগে) প্রথম পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণ ঘটানো হয় বাড্ডার আফতাব নগরে (গভীর রাতে)। দ্বিতীয় দফায় (মাস খানেক আগে) খিলগাঁও এলাকায়। এতে কয়েকজন আহত হয়েছিল। এ ঘটনায় খিলগাঁও থানায় মামলাও হয়েছে।
তিনি আরো জানান, বড় ধরনের নাশকতার জন্য সফিক ও আনোয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত তিন নভেম্বর সকালের দিকে শাহবাগ মোড়ে দু’টি বোমা স্থাপনের জন্য স্থান নির্ধারণ করে। এরপর তারা বোমা দুইটি বিস্ফোরণ উপযোগী করার জন্য নিরাপদ জায়গা খুঁজতে কাঁটাবন মোড়ে গিয়ে একটি চায়ের স্টলের পাশে বসে। কিন্তু অসাবধানতা বশতঃ একটি বোমা সেখানেই বিস্ফোরিত হয় এবং অপর বোমাটি অবিস্ফোরিত অবস্থায় ছিটকে পড়ে। এসময় আনোয়ার গুরুতর আহত হয়ে ফুটপাতে পড়ে থাকে এবং অল্প জখম নিয়ে সফিক পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে গোপনে চিকিত্সা নিয়ে সে আত্মগোপনে চলে যায়।
