বিডিআর কয়েদিদের দেখতে স্বজনদের জেলগেটে ভিড়

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০১৩, ২২:৪৭
আমার ভাইয়ের কোন দোষ নেই। বিদ্রোহের সময় তার ছুটি নিয়ে বাড়ি আসার কথা ছিল। ঐ সময় বিদ্রোহের ঘটনা ঘটনায় তিনি পিলখানায় আটকে পড়েন। বিদ্রোহের ঘটনায় তিনি কাউকে গুলি করে হত্যা করেছেন এমন কোন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেননি। এরপরও আদালত তাকে ফাঁসি দিয়েছে। এ রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করবো। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত সিপাহী হারুনুর রশিদ মিয়ার সঙ্গে তার ভাই নওশাদ মিয়া দেখা করেন। এরপর তিনি বাইরে এসে এই আকুতি জানান সাংবাদিকদের কাছে। বিডিআর বিদ্রোহ মামলায় রায় হওয়ার পর গতকাল দুই শতাধিক আসামির সঙ্গে স্বজনরা দেখা করেছেন কারাগারে । সকাল থেকেই কারাগারের স্বজনদের সাক্ষাত্ কেন্দ্রে ছিল অনেক ভীড়। ১৫/২০ জনের এক একটি গ্রুপ তৈরি করে সাক্ষাত্ কেন্দ্রে তাদের প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়। এ সময় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত নায়েক সুবেদার আলী আকবরের সঙ্গে তার স্ত্রী রেহেনা আক্তার দেখা করেন। পরে তিনি দাবি করেন তার স্বামীর কোন দোষ না থাকা সত্ত্বেও তাকে ফাঁসির দণ্ড দেয়া হয়েছে। অথচ তার কয়েকজন সহকর্মী যারা বিদ্রোহের সময় গুলি করে সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা করেছেন, রায়ে তাদের খালাস দেয়া হয়েছে। কারা অধিদফতরের উপ-মহাপরিদর্শক (ঢাকা রেঞ্জ) গোলাম হায়দার জানিয়েছেন, ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে এখনও কনডেম সেল ঘোষণা করা হয়নি। আদালতের রায়ের কপি পাওয়ার পরই এই ঘোষণা দেয়া হবে। কারাগারের অন্য একটি সূত্র জানায়, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটটি কনডেম সেল রয়েছে। একটি কনডেম সেলে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত একজন আসামিকে রাখার নিয়ম। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ১৩৯ জন বর্তমানে বন্দী রয়েছেন। আদালতের রায়ের কপি কারাগারে পৌঁছার পর কনডেম সেলের জন্য এসব ফাঁসির আসামিদের অন্যান্য কারাগারের কনডেম সেলে পাঠানো হবে। এদিকে, বৃহস্পতিবার রাতেই হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত সাবেক সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে।