আদালতের রায় অনুযায়ী রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন নেই। এ কারণে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় পরিচয়ে তারা অংশ নিতে পারবে না। গতকাল বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন (ইসি) কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, আদালত বলেছেন যে প্রক্রিয়ায় জামায়াতকে নিবন্ধন দেয়া হয়েছে তা অবৈধ। তবে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের ব্যাপারে আমাদের কোনো নির্দেশনা দেননি আদালত। তাই এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। আদালতের যে আদেশ, তাতে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হয়ে গেছে। নিবন্ধিত দল হিসেবে আপাতত আগামী নির্বাচনে তারা অংশ নিতে পারবে না।
এক প্রশ্নের জবাবে শাহ নেওয়াজ বলেন, নিবন্ধন বাতিলের বিষয়ে জামায়াতকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেয়ার প্রয়োজন নেই। কারণ কোর্টে এ ব্যাপারে জামায়াত রিটের বিরুদ্ধে শুনানিতে অংশ নিয়েছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কমিশনের ওয়েবসাইটে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের তালিকায় অন্যদের সঙ্গে জামায়াতেরও নাম আছে। তবে ওই ওয়েবসাইটে আদালতের রায় সম্পর্কে বলা আছে। হঠাত্ করে আমরা নিবন্ধিত দলের তালিকা থেকে জামায়াতের নাম মুছে ফেলতে চাই না। এ ব্যাপারে কমিশন সভাতে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
নির্বাচনে আগাম প্রচারের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচনী তফসিল থেকে ভোট গ্রহণের পর নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ সময় পর্যন্ত নির্বাচনকালীন সময়। তাই এর আগে কোন প্রার্থী কিংবা দল নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিলে এক্ষেত্রে ইসির করণীয় কিছু নেই।
উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন ২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর জামায়াতকে অস্থায়ী নিবন্ধন দেয়। এই নিবন্ধনের বিরুদ্ধে ২০০৯ সালে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন তরিকত ফেডারেশনের তত্কালীন মহাসচিব রেজাউল হক চাঁদপুরীসহ ২৫ জন। নিবন্ধনকে অবৈধ ঘোষণা করে ওই রিটের ওপর হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় ২ নভেম্বর প্রকাশ করা হয়।
জামায়াতের প্রতিবাদ
জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান গতকাল বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে এক বিবৃতিতে বলেছেন, হাইকোর্টের রায়ই চূড়ান্ত নয়। সুপ্রীম কোর্টে নিষ্পত্তির পূর্বে জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণার কোন সুযোগ নেই। এ অবস্থায় নির্বাচন কমিশনার যে বক্তব্য দিয়েছেন তা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক ও অযৌক্তিক। বক্তব্যটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত।
