বিশ্বকাপ শেষেই সিমন্সের বিদায়

আপডেট : ২০ মে ২০১৯, ২০:৫০

স্পোর্টস ডেস্ক

আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (এসিবি) সঙ্গে একেবারেই বনিবনা হচ্ছে না। তাই, বিশ্বকাপ শেষে আফগানিস্তান ক্রিকেট দলের কোচের দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন ফিল সিমন্স। বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র দিন দশেক আগেই এই ঘোষণা দিয়ে রাখলেন সাবেক এই ক্যারিবিয়ান ওপেনার।

হঠাত্ করেই গত এপ্রিলে অধিনায়ক পরিবর্তনের বিষয়টি ভালো চোখে দেখেননি সিমন্স। বরাবরই, তিনি কোচ হিসেবে স্বাধীনচেতা, ফলে, আসগর আফগানকে সরিয়ে তিন ফরম্যাটে তিনজন ভিন্ন ভিন্ন খেলোয়াড়কে অধিনায়ক করার সিদ্ধান্তে ক্ষোভ ছিল তার। এমনকি, এই সিদ্ধান্ত জানানোর টুইটারে প্রকাশ্যেই সমালোচনা করেছিলেন মোহাম্মদ নবী ও রশিদ খানের মতো শীর্ষ খেলোয়াড়রা।

ফলে, দায়িত্ব ছাড়ার ভেতরের কারণ এটাই। যদিও, ফিল সিমন্স বলছেন ভিন্ন কথা। তিনি জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পাইয়ে দেওয়ার অংশ হিসেবে তাকে আনা হয়েছিল। সেই লক্ষ্য অর্জন হয়েছে বলেই তিনি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গেল ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে তিনি দলের দায়িত্ব নেন। মানে মাত্র দেড় বছরেই আফগানিস্তানের হয়ে তার যাত্রাটা থেমে যাচ্ছে।

সিমন্স অবশ্য কোনো আক্ষেপের কথা শোনালেন না। বরং, চলে যাওয়ার জন্য এটাকেই সবচেয়ে আদর্শ সময় বলে মানছেন তিনি। ক্রিকেট বিষয়ক গণমাধ্যম ইএসপিএন ক্রিকইনফোকে এই ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কদিন হলো চিন্তা করছি। চুক্তির মেয়াদ আর বাড়াবো না বলে এসিবিকে জানিয়েও দিয়েছি। ১৫ জুলাই মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আমি অন্য কিছু করতে চাই।’

পদত্যাগ করার কারণ দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি দেড় বছরের চুক্তি করেছিলাম। আমি মনে করি, এই সময়ে দলের জন্য চেষ্টার কোনো কমতি রাখি নি। এখন আমার অন্য কিছু নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময়। আমাকে নিয়োগ দেওয়ার সময় বোর্ডের লক্ষ্য ছিল বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করা। সেই লক্ষ্যমাত্রা আমি অর্জন করতে চেয়েছি। আমি শুধু এটুকু বলতে পারি যে, দায়িত্ব নেওয়ার সময় দলটা যে অবস্থায় ছিল এখন নিঃসন্দেহে তার চেয়ে অনেক ভালো অবস্থানে আছে।’

তবে, তাকে না জানিয়ে অধিনায়ক পাল্টানোর সিদ্ধান্তটা যে তার আত্মসম্মানে লেগেছে সেটাকে গোপন করলেন না তিনি। বললেন, ‘এ বিষয়ে (অধিনায়ক পরিবর্তন—আমি কিছু জানতাম না। কোনো কারণ বোর্ডের পক্ষ থেকে আমাকে দেখানো হয়নি। এটা পুরোপুরি বোর্ড এবং নির্বাচকদের সিদ্ধান্ত। আমি কীভাবে এটা মেনে নেই? তাই, আমিও নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকব।’

বিশ্বকাপ শুরু হবে আগামী ৩০ মে। আগামী এক জুন বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে টেস্ট ক্রিকেটের নবীন এই দলটি। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ব্রিস্টলে।