রাজনৈতিক কর্মসূচিতে শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবহার চলছেই

আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০১৩, ২১:৫৬
রাজনৈতিক কর্মসূচিতে শিশুদের ব্যবহার বন্ধ হচ্ছে না। যার প্রমাণ মিলছে প্রতিটি হরতালে শিশুদের আহত ও নিহত হওয়ার ঘটনায়। সমাবেশ, মিছিল, পিকেটিং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে শিশুরা অবাধে ব্যবহূত হচ্ছে। দরিদ্র এই শিশুদের সামান্য কিছু টাকা বা খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে এসব ঝুঁকিপূর্ণ কাজে ব্যবহার করছে রাজনৈতিক দলগুলো। শিশু সুরক্ষা বিষয়ক সংগঠনগুলো ক্রমাগতভাবে এ বিষয়ে বলে আসলেও কোন রাজনৈতিক দলই তা মানছে না। শনিবার সকালে অপরাজেয় বাংলাদেশ এর নিজস্ব কার্যালয়ের সেমিনার কক্ষে ‘শিশু সুরক্ষা’ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। প্ল্যান বাংলাদেশ’র ‘গাল পাওয়ার প্রকল্প’র সহযোগিতায় অপরাজেয় বাংলা আয়োজন করে এই মতবিনিময় সভার। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অপরাজেয় বাংলাদেশ’র প্রোগ্রাম ম্যানেজার আমিনুল ইসলাম, সাংবাদিক শাহনাজ শারমিন, প্ল্যান বাংলাদেশ’র ‘গাল পাওয়ার প্রকল্প’র প্রোগ্রাম অফিসার শিরীন আক্তার, বিলকিস নাহার প্রমুখ। আমিনুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা কেন্দ্র (বিআইডিএস) এর তথ্য অনুযায়ী এখনো পথে বসবাস করে প্রায় ১০ লাখ শিশু। ৭৫ লাখ শিশু শ্রমের সঙ্গে জড়িত। এরমধ্যে ১৪ লাখ শিশু ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমের সঙ্গে জড়িত। তিনি বলেন, ক্ষুধার কারণে এখনো লক্ষ শিশু প্রতিদিন কাজে যোগ দিচ্ছে। শিশুরা ঝুঁকিপূর্ণ কাজের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। এসব হতদরিদ্র শিশুদেরই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করছে রাজনৈতিক দলগুলো। এরমধ্যে অনেক বেশি নাজুক অবস্থায় আছে মেয়ে শিশুরা। আমাদের দেশের এখনো ৬৬ ভাগ বাল্য বিয়ে হয়। অথচ শিশু আইনে বলা আছে যে, ১৮ বছরের নিচে কোন শিশুর বিয়ে নয়। বাল্য বিয়ে শিশুর জন্য শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। এসব বিষয়ে নিয়মিত লেখনির মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানোর কথা বলেন তিনি। শাহনাজ শারমিন বলেন, জেন্ডার বলতে আমরা বুঝি এটা কেবল মেয়েদের বিষয়। কিন্তু জেন্ডার বিষয়ে উভয়কে সচেতন হতে হবে। তিন সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের যে বৈষম্যগুলো করা হয় এবং নৈতিকতা ঝেড়ে ফেলে যেসব কাজ করা হয় সে বিষয়গুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমরা মনের অজান্তেই কিছু বিষয়ে ছেলে-মেয়েতে বৈষম্য করে থাকি। জানার পর সেসব বিষয় সচেতন ভাবে মন থেকে দূর করতে হবে।