গত ৩১ অক্টোবর ছিল বিএনপির দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি। সেদিন সকালের মধ্যেই নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির নেতারা বিভিন্নস্থানে বিক্ষোভ মিছিলের ফটোসেশন করেন। তবে সেদিনের আগের তিনদিন ও গত ৪ নভেম্বর থেকে পরের ৬০ ঘণ্টা হরতালে দেখা যায়নি নারায়ণগঞ্জ জেলার ৫টি আসন থেকে গত সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়া ও আগামী দশম সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের। বিএনপির পদধারী অনেক নেতাকেও দেখা মেলেনি আন্দোলনগুলোতে। তাদের স্থানে নতুন ও তরুণ প্রার্থীদের দেখা মিলেছে আন্দোলনকারী হিসেবে।
সাবেক কয়েকজন এমপি বলেছেন, পদ না থাকার কারণেই তারা রিস্ক নেন না।
২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসন থেকে কাজী মনিরুজ্জামান, নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসন থেকে বদরুজ্জামান খান খসরু, নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে রেজাউল করিম, নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনে শাহআলম ও এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) আসনে অ্যাডভোকেট আবুল কালাম অংশগ্রহণ করেন। এর আগে এসব আসনের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের মতিন চৌধুরী মারা গেছেন। নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের আতাউর রহমান আঙ্গুর, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে রেজাউল করিম, নারায়ণগঞ্জ -৪ আসনে গিয়াসউদ্দিন ২০০১ সালের নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হন। তাদের মধ্যে আবার আবুল কালাম, আতাউর রহমান খান আঙ্গুর ও রেজাউল করীম ২০০৭ সালের ওয়ান ইলেভেনের পর সংস্কারবাদী বনে যান।
এ নেতাদের মধ্যে কাজী মনিরুজ্জামান জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আর শাহআলম সহ-সভাপতি। নেতাদের মধ্যে কাজী মনিরুজ্জামান ছাড়া আর কোন নেতাকে সাধারণ আন্দোলনে দেখা যায় না। তবে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে তাদের পাওয়া যায় সামনের কাতারে। ৪ থেকে ৬ নভেম্বরের হরতাল ও এর আগে ২৭, ২৮ ও ২৯ অক্টোবরের ৬০ ঘণ্টার হরতালে বিএনপির অনেক নেতাকেই পাওয়া যায়নি।
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আগামী সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার। সবগুলো হরতালে তার উপস্থিতি সরব। এ আসন থেকে সাবেক এমপি আবুল কালাম মনোনয়ন প্রত্যাশী হলেও আন্দোলনে তাকে পাওয়া যায় না। ২০০৯ সালে জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি থেকে পদত্যাগকারী আবুল কালাম এর আগেও ২বার দল ত্যাগ করেছিলেন। হরতালে থাকেন না আবুল কালাম। তবে বিক্ষোভে কালামকে পাওয়া যায় সবার সামনে ‘ফটোসেশনে’।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে গত নির্বাচনে অংশ নেয়া জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শাহআলমকে মাঝেমধ্যে মাঠে দেখা যায়। বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সরব উপস্থিতি থাকে। এ আসনের সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিনও নীরব। মনোনয়ন প্রত্যাশী কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু মাঝেমধ্যে মাঠে নামেন। প্রতিটি হরতালেই শাহ আলমের মালিকানাধীন ‘শাহ ফতুল্লা গ্রুপের’ সকল শিল্প প্রতিষ্ঠান খোলা ছিল।
নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী কেন্দ্রীয় যুবদলের কোষাধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপুকে সবগুলো হরতালে মাঠে নামতে দেখা গেছে। ২৮ অক্টোবর হরতালেও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন বয়সে তরুণ এ বিএনপি নেতা ও তার লোকজন। অন্যদিকে কাজী মনিরুজ্জামান সমর্থকরা বিচ্ছিন্নভাবে পিকেটিং করে।
নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী কেন্দ্রীয় যুবদলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ ও তার লোকজন নিয়মিত পিকেটিং করে আসছেন। তারা কয়েক দফা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেন। বদরুজ্জামান খান খসরুর লোকজন মিছিল করলেও সাড়া জাগাতে পারছেন না।
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক এমপি রেজাউল করীম এখন পুরোপুরি নিস্ক্রিয়। কিছুটা সক্রিয় আছেন মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতা আবদুল মান্নান। জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, সারাদেশে বিএনপির সংস্কারবাদীদের তৃণমূল নেতাকর্মীরা আস্তাকুঁড়ে ফেলেছেন। নারায়ণগঞ্জেও তাদের আস্তাকুঁড়ে ফেলা হবে।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম বলেন, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেলা বিএনপির নেতারা কর্মসূচি পালন করছে। আমরাতো কমিটিতে নেই। জেলা কমিটির নেতারা আমাদের ডেকে নিয়ে সমাবেশ মঞ্চে অতিথিদের পায়ের নিচে বসতে দেয়।
নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সাবেক এমপি আতাউর রহমান আঙ্গুর জানান, আড়াইহাজারে কেন্দ্র ঘোষিত সকল কর্মসূচিই পালন করেছি। এছাড়া আড়াইহাজার থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী নিয়ে আমি বেগম খালেদা জিয়ার ঢাকার সবগুলো সমাবেশে অংশগ্রহণ করেছি।
