টেলিকম মিডিয়া ম্যানেজার

আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০১৩, ১৯:৫০
শিকদার আখতার উজ জামান হেড অব এটিএল মিডিয়া (মার্কেটিং), কমার্শিয়াল ডিভিশন, গ্রামীণফোন শিকদার আখতার উজ জামান ডাকনাম :সোহাগ জন্মতারিখ ও স্থান :২৯ নভেম্বর, ঝালকাঠি মায়ের নাম :জাহান আরা ওহাব বাবার নাম :এফ এ ওহাব প্রথম স্কুল :আদর্শ শিশু নিকেতন প্রিয় মানুষ :আমার বাবা-মা প্রিয় পোশাক :স্বাচ্ছন্দ্যপ্রদায়ী যেকোনো পোশাক অবসর কাটে যেভাবে :মুভি দেখে অথবা গান শুনে সাফল্যের সংজ্ঞা :কাঙ্ক্ষিত সুখময় জীবনের দেখা পাওয়া। পড়াশোনার পাঠ চুকানোর আগেই এশিয়াটিক মাইন্ডশেয়ারে কাজের সুযোগ পান। এখানে কাজের সুবাদেই জামানের পরিচিতি মিডিয়া ম্যানেজমেন্টের সাথে। এই জগতটা যে এত বিশাল আর এখানেও যে কাজের অনেক সুযোগ সেটা অনুধাবন করতে পারেননি আগে। সময়টা ২০০৬ সালের দিকে, মিডিয়াকম ইন্টারন্যাশনালের গ্রুপ হেড হিসেবে কাজ করেন দেশের বাইরে কিছুদিন। এরপর একই ধারার প্রতিষ্ঠান ম্যাক্সাসে যোগ দিলেন দেশে এসে। ছেলেবেলা থেকেই অসাধারণ সাংগঠনিক নৈপুণ্যের অধিকারী জামান দক্ষতার সাথে নিজের দায়িত্ব পালন করে এসেছেন। আর কর্মগুণেই ২০১০ সালে যোগ দেন দেশের শীর্ষস্থানীয় মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোনে। আখতার উজ জামানের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, মিডিয়া ম্যানেজমেন্টের এই বিষয়টি কেমন উপভোগ করেন তিনি? তিনি বলেন, ‘সঠিক তথ্য আর পর্যালোচনার সুযোগ-সুবিধা আমাদের দেশে না থাকায় কিছুটা সমস্যা হয়।’ একটু ব্যাখ্যা করে আবার বলেন, ‘কোন ধরনের পত্র-পত্রিকা বা চ্যানেলে অর্থাত্ যোগাযোগমাধ্যমে গ্রাহকের কাছে কতটা অর্থপূর্ণভাবে পৌঁছানো যায়, সেটা উন্নত বিশ্বে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত থেকেই বের করা যায়। যা এখানে পাওয়া যায় না। তবে আশার ব্যাপার, আমাদের দেশেও এটা শুরু হয়েছে, ধীরে ধীরে দৃশ্যপট পরিবর্তন হচ্ছে। ফলে এ পেশায় চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি সৃজনশীলতা নিয়ে কাজের সুযোগও তৈরি হচ্ছে।’ তরুণদের নিয়ে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘তাদের মাঝে স্পৃহা আছে ভালো কিছু করার, শুধু ধৈর্য্য ধরে কাজ করে যেতে হবে। তাহলেই সাফল্যের দেখা মিলবে।’ প্রজন্মের মেধাবী এই কর্পোরেটের শৈশব-কৈশোর কেটেছে মাদারীপুর এবং ফরিদপুরে। তার বাবা একটি উন্নয়ন সংস্থায় কাজ করছেন, মা শিক্ষকতা থেকে এখন অবসরে। জামান ফরিদপুর জিলা স্কুল এসএসসি পাসের পর সুযোগ পান নটরডেমে। এরপর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে বিবিএ করেন তিনি। বর্তমানে স্ত্রী শিরীন হক তার পথচলার সাথি। দায়িত্বের ফাঁকে বিভিন্ন সংগঠন ও বিশ্ববিদ্যালয়ে মিডিয়ার উপর পড়াচ্ছেনও তিনি। আখতার উজ জামান আশা প্রকাশ করে জানান, একসময় দেশের মিডিয়া আরও এগিয়ে যাবে সামনের দিকে। সেই যাত্রায় একজন গর্বিত অংশীদার হয়ে অবদান রাখতে চান তিনি, শুভকামনা তার জন্য। শেহজাদ এস হোসেন পিআর অ্যান্ড কমিউনিকেশন সিনিয়র ম্যানেজার, বাংলালিংক শেহজাদ এস হোসেন ডাকনাম :শেহজাদ জন্মতারিখ ও স্থান :১০ অগাস্ট, ঢাকা মায়ের নাম :মরহুমা সালেহা নিলুফার বাবার নাম :সরওয়ার হোসেন প্রথম স্কুল :প্লেপেন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল প্রিয় মানুষ :আমার পরিবারের সবাই প্রিয় পোশাক :পোলো টি-শার্ট, জিন্স অবসর কাটে যেভাবে :পরিবারকে সময় দিয়ে, আড্ডায় অথবা মুভি দেখে সাফল্যের সংজ্ঞা :সব কাজের শেষে সুখটাই বড় কথা, সেটাই সফলতার পরিমাপক। বাবার চাকরির সুবাদে ক্যান্টনমেন্টের সুশৃঙ্খল পরিবেশে তার বড় হওয়া। দেশের বিভিন্ন সেনানিবাসে কেটেছে তার শৈশবের উচ্ছল দিনগুলো। প্লেপেন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে তার পড়াশোনার হাতেখড়ি। আর ‘ও’ লেভেল-‘এ’ লেভেল করেন স্কলাস্টিকা থেকে। তারপর নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ সম্পন্ন করেই যোগ দেন এইচএসবিসিতে। বিশ্বের নেতৃস্থানীয় এই ব্যাংকে কাজের সুযোগ পেয়েও একসময় চলে আসেন শেহজাদ, গত্বাঁধা হিসাব-নিকাশের জীবন তার ভালো লাগেনি। ভিন্ন আর চ্যালেঞ্জিং কিছুর প্রতি আগ্রহ থেকেই ইউনিলিভারে যোগ দেন। বহুজাতিক এই প্রতিষ্ঠানের কাজ করার সুবাদে অভিজ্ঞতার ঝুলিটাও ভারি হয় ওঠে। তারপর একসময় কাজের সুযোগ পেয়ে গেলেন দ্রুত অগ্রসরমান মোবাইল অপারেটর বাংলালিংকে। বাংলালিংকে কাজের পরিবেশটা দারুণ এবং সহকর্মীরাও কাজে বেশ সহায়তা করেন বলে জানালেন তিনি। শেহজাদ মনে করেন, যারা এই মাধ্যমে কাজ করতে চান, তাদেরকে অবশ্যই চটপটে হতে হবে, দারুণ তত্পর থাকতে হবে সবকিছুতে, দলবেঁধে কাজ করার মানসিকতা থাকতে হবে। প্রথম দিকে কাজটা খুবই চ্যালেঞ্জিং ছিল শেহজাদের জন্য, তবে সেটা তিনি উপভোগ করেছেন বলেই আজকের অবস্থানে আসতে পেরেছেন। আর এক্ষেত্রেও কৃতিত্বটা তার প্রতিষ্ঠানকেই দিতে চান তিনি। কারণ বাংলা লিংক বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশের সাথে স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করার সুযোগ দিয়েছে সব সময়। প্রজন্মের এই সফল মানুষের কাছে জানতে চেয়েছিলাম নতুনদের জন্য কিছু পরামর্শ। তিনি বললেন, ‘কর্মজীবনে সাফল্যের জন্য প্রথমেই চাই দায়িত্বশীলতা আর নিয়মানুবর্তিতা, এর বাইরে বিশ্লেষণী ক্ষমতাও থাকা চাই। সিদ্ধান্ত নেওয়া আর তা বাস্তবায়নের কৌশলও তরুণদের জানা থাকা দরকার। এ ছাড়া বিভিন্ন কাজে সম্পৃক্ত হয়ে ঝালিয়ে নিতে হবে নিজের নেতৃত্ব দেওয়ার গুণটিকেও। সর্বোপরি এগুলো বাস্তবে প্রয়োগ করতে জানতে হবে, তাহলেই সফলতার পথে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।’ শেহজাদ ব্যস্ত কর্পোরেট জীবনেও যতটা পারেন সময় দেন পরিবারকে। তাই ছুটির দিনগুলো পরিবারের জন্য বরাদ্দ তার। এরই ফাঁকে কখনও কখনও ক্যামেরা নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। ভালোলাগাকে তুলে রাখেন ভালোবাসার ফ্রেমে। স্ত্রী আর তিন সন্তান নিয়ে তার পারিবারিক আবহ। জানালেন, জাফিরাহ, জোহাইব, আর জায়েনাবকে নিয়েই তার প্রতিদিনকার সুখের দিনলিপি রচিত হয়। এর পাশাপাশি সবকিছুতে স্ত্রী শাফিকা হকের স্পর্শ রয়েছে। কর্পোরেট দুনিয়ায় নিজেকে আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি। আর এ কারণেই যে কাজই যখন করেন, দক্ষতার সাথে করে যেতে চান সব সময়। আন্তরিকতার সবটুকু দিয়ে নিজের উপর অর্পিত দায়িত্বটা পালন করে যেতে চান শেহজাদ। তার জন্য শুভকামনা। গাজী এমরান আল আমিন জেনারেল ম্যানেজার, ব্র্যান্ড অ্যান্ড মার্কেট কমিউনিকেশন, রবি গাজী এমরান আল আমিন ডাক নাম :মানিক জন্মতারিখ :১৩ আগস্ট মায়ের নাম :কামরুন নাহার বাবার নাম :গাজী মকবুল আহমেদ প্রথম স্কুল :লিটিল অ্যাঞ্জেলস কিন্ডার গার্ডেন প্রিয় মানুষ :মা প্রিয় উক্তি :মানুষ মুহূর্তটা মনে রাখে সময়টা ভুলে যায়। প্রিয় পোশাক :জিন্স, টি-শার্ট অবসর কাটে :লেখালেখি করে সাফল্যের সংজ্ঞা :নিজের উপর আত্মবিশ্বাস। অনেকটা কৌতূহলের বশবর্তী হয়ে মিডিয়াতে ক্যারিয়ার শুরু করেন তিনি। সেটি ছিল ২০০২ সালের ঘটনা। এশিয়াটিক মাইন্ড শেয়ারের মিডিয়া সেকশনে কাজের সুযোগ পান। তখন তার কাছে তখন মনে হয়েছিল যে, মিডিয়ায় সৃজনশীলতা প্রকাশের অনেক সুযোগ রয়েছে এবং এই পেশাটি অন্যান্য পেশার মতো একঘেয়ে নয়। এশিয়াটিক মাইন্ড শেয়ারে শিখলেন মিডিয়া মানে শুধু টিভি চ্যানেলে বুকিং অথবা দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞাপন ছাপানো নয়। মিডিয়া বিষয়টা বিজ্ঞান আর কলার মিশ্রণ। একদম অঙ্ক কষে পরিকল্পনা করা হয়। তার কাছে মিডিয়া ব্যাপারটি তখন থেকে অনেক আকর্ষণীয় ও চ্যালেঞ্জিং বলে মনে হয়েছে। বিজ্ঞাপনী সংস্থায় কাজ করেছেন ২০০৮ পর্যন্ত। তারপর কর্পোরেট দুনিয়ায় মিডিয়া এবং কমিউনিকেশনে কাজ শুরু করেন। তবে তিনি বিশ্বাস করেন বিজ্ঞাপনী সংস্থাগুলোতেই তার মিডিয়া ও কমিউনিকেশনে শক্ত ভিত গড়ে উঠেছিল। বলছিলাম এ প্রজন্মের মেধাবী মিডিয়া ম্যানেজার, টেলিকম কোম্পানি রবির ব্র্যান্ড অ্যান্ড মার্কেট কমিউনিকেশনের জেনারেল ম্যানেজার গাজী এমরান আল আমিন সম্পর্কে। তার শৈশব ও কৈশোর কেটেছে আজিমপুর কলোনিতে অনেক ধরনের বন্ধু, কালচার ও খেলাধুলা নিয়ে। মা-বাবা, ভাই-বোন, স্ত্রীকে নিয়ে তার পারিবারিক আবহ। তার কাজ সম্পর্কে জানতে চাইলে এমরান আল আমিন বলেন, ‘আমার প্রধান কাজ হচ্ছে আমার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনগুলোকে আমাদের কাঙ্ক্ষিত গ্রাহকদের মাঝে পৌঁছে দেওয়া এবং তাদের মিডিয়া অভ্যাস ও পছন্দের সাথে তাল মিলিয়ে বিজ্ঞাপনটা উপস্থাপন করা। আমাদের এই কাজে গ্রাহকের মিডিয়া অভ্যাসের উপর যথেষ্ট পরিমাণ গবেষণা করে সায়েন্টিফিক মিডিয়া প্ল্যান করতে হয়। কারণ টেলিকম্যুনিকেশন সেক্টরটা অন্যান্য সেক্টর থেকে অনেক প্রতিযোগিতামূলক এবং প্রতিদিন নতুন কিছু কেউ না কেউ পরিবেশন করে যা অন্যান্য সেক্টরে সচরাচর ঘটে না। তাই আমরা সব সময় টান টান মিডিয়া-উত্তেজনায় থাকি।’ নতুনদের কাজের সম্পর্কে নিজের মূল্যায়নে এমরান আল আমিন বলেন, ‘আমার মতে নতুনরা অনেক সৌভাগ্যবান। কারণ তারা মিডিয়ার এই রেনেসাঁর যুগে কাজ শুরু করেছে এবং অনেক প্লাটফর্ম তারা তৈরি পাচ্ছে, যা আমরা পাইনি। সৃজনশীলতার দিক দিয়ে এদেশে অনেক আগে থেকেই উন্নত ছিল কিন্তু মিডিয়াতে খুব দক্ষ লোকের অর্থাত্ সায়েন্টিফিক মিডিয়া প্ল্যানারের সংখ্যা অনেক কম ছিল, যা এখন অনেক আছে বলে আমার বিশ্বাস। নতুন প্রজন্মকে অনেক পড়াশোনা করতে হবে আন্তর্জাতিকমানের মিডিয়া ও কমিউনিকেশনের উপর, যা এই ইন্টারনেটের যুগে অনেক সহজই বটে। প্রত্যেকটি মিডিয়াকর্মীকে কয়েকটা বিষয়ে দক্ষ থাকতে হবে—মাইক্রোসফট এক্সেল, পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন ও মার্কেট রিসার্চে।’ সবশেষে তার ভবিষ্যত্ স্বপ্ন হলো দেশের মিডিয়া ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র হলেও কিছু অবদান রাখা, যা ভবিষত্ প্রজন্মের কিছুটা হলেও কাজে দেবে। একইসাথে যা আন্তর্জাতিক মিডিয়া অঙ্গনে উদাহরণ থাকবে।