মোহাম্মদ মিজানুর রহমান
ডাক নাম :রতন
জন্মতারিখ ও স্থান :০৩ অক্টোবর, ঢাকা
মায়ের নাম :মিসেস নুরজাহান বেগম
বাবার নাম :আব্দুর রশীদ
প্রথম স্কুল :মিতালী শিশু বিদ্যাপীঠ
প্রিয় মানুষ :বাবা
প্রিয় উক্তি :বাবার উপদেশ, ‘মানুষ হও এবং মানুষকে সেবা করো।’
প্রিয় পোশাক :জিন্স ও টি-শার্ট
র্অবসর কাটে যেভাবে :মেয়ের সাথে খেলা করে এবং কার্টুন দেখে।
সাফল্যের সংজ্ঞা :সততা, নিষ্ঠা এবং পরিশ্রম—এই তিনটির সমন্বয়ে সফলতা অর্জন করা যায়।
ছোটেবেলা থেকেই সবার সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। খুব সহজেই সবার সাথে মিশে যাওয়ার ক্ষমতা রয়েছে তার। ছোটবেলায় প্রায় সবাই জীবনের লক্ষ্য নিয়ে অনেক রচনাই লিখেছেন, সেখান থেকেই হয়তো শুরু জীবনের ছক কষা। কিন্তু তিনি কখনোই নিজেকে এই ছকে ফেলেননি। জীবনকে কখনোই কোনো নির্দিষ্টতায় আটকে ফেলতে চাননি, বরাবরই নিজের ভালো লাগাকেই প্রাধান্য দিয়ে এসেছেন, সকলকে নিয়ে কাজের মাঝে নিজের তৃপ্তি খুঁজেছেন। শুধুমাত্র নিজের মেধা এবং প্রচেষ্টার মাধ্যমেই নিজেকে পৌঁছে দিয়েছেন সফলতার প্রান্তে। বলছিলাম প্রজন্মের সফলজন পূবালী ব্যাংক লি.-এর পাবলিক রিলেশন অফিসার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান সম্পর্কে। তার সফলতার পেছনের গল্পই উঠে এসেছে আমাদের এবারের আয়োজনে। তাকে নিয়ে লিখেছেন রিয়াদ খন্দকার ও ছবি তুলেছেন দীপঙ্কর দীপু
একজন ব্যাংকার হিসেবে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে পূবালী ব্যাংক লি.-এ অফিসার গ্রেডে ২০০২ সালে ব্যবসা উন্নয়ন বিভাগে যোগদান করেন মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। ব্যবসা উন্নয়ন বিভাগের একটি অংশ ছিল জনসংযোগ সেল। এই বিভাগের কাজের অংশ হলো প্রচার মাধ্যমগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা। এই বিভাগে জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে তার পথচলা শুরু।
মিজানুর রহমান শৈশব ও কৈশোর ঢাকায় কেটেছে। তিন ভাই ও দুই বোন, স্ত্রী, মেয়ে ও মাকে নিয়ে তার পারিবারিক আবহ। নিজের কাজ সম্পর্কে মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমার প্রধান কাজ হলো প্রেস এবং ইলেক্ট্রোনিক্স মিডিয়ার সাথে সু-সম্পর্ক বজায় রাখা। দৈনন্দিন কার্যক্রমের রিপোর্ট গণমাধ্যমগুলোতে পাঠানো এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি বাড়ানোর সহায়ক কাজগুলো করা। এ ছাড়া যারা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন তথ্য ও কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে আগ্রহী তাদেরকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করা। পাশাপাশি প্রচার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কাজ যেমন—বিজ্ঞাপন তৈরি, প্রচার ও প্রচার কার্যক্রমের মূল্যায়ন করাও একজন জনসংযোগ কর্মকর্তার কাজ। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের সঙ্গে সংগতি রেখে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের উপযোগী করে উপস্থাপন করতে হয়।’
জনসংযোগ কর্মকর্তার কাজই হলো জনসংযোগ করা। এই পেশায় তার স্বাচ্ছন্দ্য বোধের জায়গাটি বিশাল বলে জানালেন মিজানুর রহমান। কারণ প্রতিদিন নতুন নতুন মানুষের সাথে কথা হয়, যোগাযোগ হয় তার—এ বিষয়টি তিনি উপভোগ করেন। যেকোনো প্রতিষ্ঠানের সফলতার জন্য মার্কেটিং দরকার। আর মার্কেটিংয়ের একটা বিরাট অংশ রিলেশনশিপ। এই রিলেশনশিপটা করে থাকেন জনসংযোগ কর্মকর্তারা। একবিংশ শতাব্দীতে অর্থনৈতিক কারনে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। এই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানিকে তাদের পণ্যের বা দ্রব্যের গুণগত মান বজায় রাখার পাশাপাশি মিডিয়াতে তা প্রচারের ব্যবস্থা করতে হয়। এই চাহিদা পূরণ করেন জনসংযোগ কর্মকর্তা। পেশা হিসেবে এটা আমাদের দেশে কতটা উপযোগী? এমন প্রশ্নের উত্তরে মিজানুর রহমান বলেন, ‘পেশা হিসেবে জনসংযোগ বা পাবলিক রিলেশন একটি চ্যালেঞ্জিং ও রোমাঞ্চকর পেশা। আধুনিক বিজ্ঞানের যুগে জনসংযোগ বা যোগাযোগের মাত্রা সম্প্রসারিত হওয়ার এই পেশার প্রতি মানুষের আগ্রহও বাড়ছে। জনসংযোগ জ্ঞান ও দক্ষতা থাকলে যে কেউ এ পেশায় আসতে পারেন।’ নতুনদের কাজের প্রতি নিজের মূল্যায়ন এবং তাদের প্রতি পরামর্শে তিনি বলেন, ‘আপনার যদি ভালো শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকে (অবশ্যই মাস্টার্স পাস) আর থাকে মানুষের সাথে সুন্দর করে কথা বলার ও মানুষকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা তাহলে আপনি জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে ক্যরিয়ার গড়তে পারেন। জনসংযোগ কর্মকর্তাকে অনেক দায়িত্ব পালন করতে হয়। একজন দক্ষ জনসংযোগবিদ হতে হলে বহুমাত্রিক যোগ্যতা ও গুণাবলির অধিকারী হতে হয়। থাকতে হয় প্রখর ব্যক্তিত্ব, বুদ্ধিমত্তা, দক্ষতা এবং সৃজনশীলতা। একজন জনসংযোগ কর্মকর্তার মাঝে কয়েকটি গুণ থাকলে সে একজন দক্ষ এবং সফল জনসংযোগবিদ হতে পারে। গুণগুলো হলো—ইতিবাচক মনোভাব, কঠোর পরিশ্রম করার মানসিকতা, নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা ও প্রভাবিত করার ক্ষমতা।’ মিজানুর রহমান লায়ন্স ক্লাবস ইন্টারন্যাশনাল, ৩১৫ এ ১-এর ডিস্ট্রিক্ট চেয়ারপারসন এবং লায়ন্স ক্লাব অব ঢাকা দিলকুশা গ্রিনের চার্টার প্রেসিডেন্ট। এই লায়ন্স ক্লাবের মাধ্যমে দেশের দারিদ্র দূরীকরণ করে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। একদিন বাংলাদেশে কোনো গরিব থাকবে না, এই স্বপ্নই দেখেন তিনি। ভবিষ্যতে একজন সফল ও দক্ষ জনসংযোগ কর্মকর্তা হওয়াই তার লক্ষ্য। এর পাশাপাশি মিডিয়া ব্যক্তিত্ব হওয়ার ইচ্ছে পোষণ করেন প্রজন্মের মেধাবী এই জনসংযোগ কর্মকর্তা।
