পহেলা মহররম থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন অনুষ্ঠান পালনের মাধ্যমে আশুরা উদযাপনের জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন বাংলাদেশের শিয়া সম্প্রদায়। হোসেনী দালান থেকে যে অনুষ্ঠানসূচি নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে সেই মোতাবেক প্রত্যেকটি ইমামবাড়ায় পহেলা মহররম থেকে ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে তা পালন হয়ে আসছে। গতকাল হোসেনী দালান থেকে দুপুর ২টায় একটি শোক মিছিল বের হয়। মিছিলটি চানখাঁরপুল-গুলিস্তান-নবাবপুর রোড, বংশাল, নাজিমুদ্দীন রোড হয়ে হোসেনী দালানে প্রত্যাবর্তন করে। এই মিছিলটি হোসেনী দালান থেকে বের হলেও এখানে সুন্নী সম্প্রদায়ের লোকেরাও আলম (পতাকা সদৃশ ঝাণ্ডা) নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া পুরাতন ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত পারিবারিক ও ওয়াক্ফ ইমামবাড়াগুলোতে তাদের সময়মত শোক মজলিশ বা শোকসভা ও মর্সিয়া মাতম অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যা আগামী ১০ মহররম পর্যন্ত চলতে থাকবে। অনুষ্ঠান উদযাপন কর্তৃপক্ষীয় সূত্রে বলা হয়: যেহেতু আশুরার দিনেই সবাই শহীদ হয়েছেন তথাপিও বিভিন্ন দিনে একেক জনের স্মরণে নির্দিষ্টভাবে আমরা মহররম উদযাপন করে থাকি। সেহেতু গতকাল আমরা আসহাবে নবী যারা কারবালায় শহীদ হয়েছেন তাদের স্মরণে মহররম উদযাপন করেছি। আজ ৬ মহররম বিবি জয়নাবের দুই পুত্র আউন ও মুহাম্মদ স্মরণে উদযাপন করবো। আজ দিবাগত রাতে বিশেষ করে ইমাম হাসানের পুত্র কাসেম ও ইমাম হোসাইনের মেয়ের সাথে কথিত বিবাহ উপলক্ষে মেহেদী অনুষ্ঠান হবে। যেখানে হাজার হাজার শিয়া সম্প্রদায় মেহেদীসহ অংশগ্রহণ করবেন।
অন্যবারের মত এবারো ১০ মহররম সকাল ১০টায় দুলদুল তাজিয়া মিছিলটি আলম, নিশানাসহ বিভিন্ন সরঞ্জামে সজ্জিত হয়ে বের হবে। এটা হোসেনী দালান থেকে বের হয়ে বকশিবাজার, লালবাগ, আজিমপুর, নিউমার্কেট, সায়েন্সল্যাব মোড় হয়ে-ধানমন্ডি-২ এর রাইফেল স্কয়ারের সম্মুখস্থ লেকের পাশে গিয়ে কারবালার স্মরণে অবস্থান করা হবে। সেখানে একসঙ্গে যোহরের নামাজ, আমল, দোয়া ও অন্যান্য ইবাদত করে আশুরা দিবস পালনের মিছিলের সমাপ্তি হবে। এরপর আসরের নামাজের পর হোসেনী দালান ইমামবাড়ায় ফাঁকা শিকানী অর্থাত্ অনশন ভঙ্গ করে খিচুড়ি খাওয়া হবে। তাজিয়া মিছিলে যারা জিঞ্জির, কামা, ব্লেড দিয়ে মাতম করেন তাদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়েছে: তারা যেন মহররমের মিছিলের ভাবগাম্ভীর্য ও পবিত্রতা রক্ষার প্রতি খেয়াল রাখেন। এ ব্যাপারে প্রশাসনের সহযোগিতাও কামনা করা হয়েছে।
