উভয় নেত্রী এক টেবিলে বসে নির্বাচনকালীন সরকার নির্ধারণ করলে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে
বাংলাদেশের নির্বাচন ইতিহাস যতটুকু জেনেছি, দেখেছি নির্বাচন যত সুষ্ঠু নিরপেক্ষই হোক বিজয়ী দলকে পরাজিত দল কোনক্রমেই মেনে নিতে রাজি নয়। তখন তারা মুখে সুর তোলে নির্বাচনে জালিয়াতি হয়েছে। এটা জনগণের রায়কে অবজ্ঞা করার নামান্তর। নির্বাচনে অংশগ্রহণের পর জনগণের রায়কে অবজ্ঞা করা বিবেকের কাজ নয়, আবেগের কাজ। প্রতিটি রাজনৈতিক দলের একটা তাত্পর্যপূর্ণ আদর্শ রয়েছে। এ আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে মতভিন্নতার মাঝেও ঐক্য গড়ে তোলা সম্ভব। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতা, ক্ষমতার অপব্যবহার ইত্যাদি কোন দলের আদর্শ হতে পারে না। প্রত্যেক রাজনৈতিক দল একটি সক্রিয় শক্তি। তাদের রয়েছে রাজনৈতিক অধিকার, সংঘবদ্ধ জনশক্তি। তাদেরকে রূপকথার ‘লিলিপুট’-এর মত তুচ্ছ মনে না করে মূল্যায়ন করি। অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হই। সংকট নিরসনের জন্যই রাজনৈতিক দল। উভয় নেত্রী এক টেবিলে বসে নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে আলোচনা করলে অবশ্যই সমঝোতার পথ বেরিয়ে আসবে। দূর হবে সংকট। পরিশেষে বলতে চাই গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরিহার করে, জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে উল্লিখিত বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হলে সংকট নিরসন হবে। আর সংকট নিরসন হলেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব।
মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম
বি.টি.আই.এস
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
প্রশাসনের ওপর হস্তক্ষেপ রোধ করা গেলে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব
প্রশাসনের ওপর ক্ষমতাসীন দলের হস্তক্ষেপ থাকবে এটি বাংলাদেশের রাজনীতির চিরাচরিত রূপ। নির্বাচনকালীন সরকার প্রধান কর্তৃক প্রশাসনের ওপর হস্তক্ষেপ সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায়। প্রধান বিরোধী দল মূলত এই আশংকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যেতে নারাজ। আর দুই নেত্রীর মধ্যে বিশ্বস্ততার অভাবের কারণে ক্ষমতাসীন দল সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসলেও বিরোধী দল তা বরাবরই প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে হরতালসহ কঠোর কর্মসূচির মধ্যদিয়ে সংঘাতের দিকেই যাচ্ছে দেশ। এতে করে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে সুশীল সমাজ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মাঝেও উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা বাড়ছে। বিজ্ঞজনেরা নানারকম প্রস্তাবনাও তুলে ধরছেন। কিন্তু কার্যকরী ফল মিলছে না কোনোটিতেই। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করে এর ক্ষমতা বাড়িয়ে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর কমিশনের হস্তক্ষেপে নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকার পরিচালনা করলে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব।
রাতুল খান
ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ
অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
বনানী, ঢাকা
দুই দলের সমঝোতা ছাড়া নির্বাচনই
সম্ভব নয়
আওয়ামী লীগ, বিএনপি দুই দলকেই দেশের মানুষের মঙ্গলের জন্য অতি শিগগিরই সমোঝতায় পৌঁছাতে হবে। যদি তা হয় তাহলেই কেবল দেশে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব। আর যদি তা না হয় তাহলে নির্বাচন তো দূরের কথা দেশের নিরীহ মানুষদের কপালে আরও দুর্ভোগ অপেক্ষা করছে। আর এরশাদ সাহেবের উচিত দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে সুবিধার আশায় বসে না থেকে দেশের মানুষের কথা ভেবে দুই দলের সমঝোতায় সাহায্য করা। তাহলে একজন দায়িত্ববান নেতা হিসেবে মানুষ তাকে মনে রাখবে। আর তিনিও যদি ‘কি হয় দেখি’ ভেবে বসে থাকেন এবং পরবর্তীতে সুবিধা অনুযায়ী একটি দলে যোগ দেন তাহলে তার ব্যক্তিত্ব নিয়ে জাতির মনে আরও একবার প্রশ্ন উঠতে পারে।
মিকসেতু মিঠু
লেভেল-২,টার্ম-১
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার মাধ্যমেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব
দেশের নাগরিকদের একটাই প্রত্যাশা দেশে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্যদিয়ে একটি দল ক্ষমতায় আসুক। কিন্তু কিভাবে হবে এই নির্বাচন। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রয়োজন নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থা। দলীয় সরকারের অধীনে কখনো সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। সাধারণ জনগণের বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে দেশের রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন শুধু যে জনগণই মানবে না তা নয়। যে দলের অধীনে নির্বাচন হবে, সে দলের অনেক নেতার কাছেই নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন থাকবে। এ ক্ষেত্রে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য একমাত্র পথ হিসাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারকেই নিরপেক্ষ মনে করা হচ্ছে। আমি কোন রাজনৈতিক দলের পক্ষে বলছি না। শুধুমাত্র নিরপেক্ষ নির্বাচনের পক্ষে বলছি। বাংলাদেশে প্রবর্তিত নিরপেক্ষ এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা উপ-মহাদেশের অনেক দেশেই এখন গুরুত্ব পাচ্ছে। আপনি যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিরোধিতা করেন সেটা আপনার মনের কথা নয়। তাই আমি আবারও বলবো দেশে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব। শুধুমাত্র তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায়।
মন্ডল মোহাম্মদ আরিফ
শিক্ষার্থী, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ,
তৃতীয় বর্ষ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
