নাসিমের গাড়িবহরে হামলা ও কুদ্দুছ হত্যার চার্জশিট

আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০১৩, ২২:৩১
অবশেষে আদালতে গৃহীত হয়েছে, বহুল আলোচিত বেলকুচি থানার কুদ্দুছ হত্যা মামলার তৃতীয় চার্জশিট। জনাকীর্ণ আদালতে সিরাজগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট গত সোমবার প্রদত্ত আদেশে মোহাম্মদ নাসিমের গাড়িবহরে হামলা ও কুদ্দুছ হত্যা মামলার চার্জশিট গ্রহণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গ্রহণ করেছেন। বেলকুচি উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাজী জামালউদ্দিন ভুঁইয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক মন্ডলসহ পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন। ২০০২ সালের ২৫ মে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ নাসিম এমপি বেলকুচি উপজেলার দৌলতপুর হাইস্কুল মাঠে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসাবে ভাষণ দিয়ে সফরসঙ্গীদের নিয়ে সিরাজগঞ্জ ফেরার পথে বিকাল পৌনে পাঁচটায় বেলকুচি উপজেলা সদরের মুকুন্দগাতী বাজারে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন। সন্ত্রাসীরা মোহাম্মদ নাসিমের গাড়ি ভাংচুর করে এবং তার সফরসঙ্গী জেলা আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল কুদ্দুছকে হত্যা করে পালিয়ে যায়। রাতেই বেলকুচি থানার এসআই মজিবর রহমান বাদি হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরদিন জেলা আওয়ামী লীগ নেতা মো. নাসিউদ্দিন তালুকদার বাদি হয়ে ৩৬ বিএনপি নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে বেলকুচি থানায় একটি এজাহার করেন। বেলকুচি থানার পুলিশ উভয় এজাহার একত্রে তদন্তের পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এসআই মজিবুর রহমান ২০০২ সনে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের স্থানীয় ১৯ জন নেতাকর্মীকে আসামি করে প্রথম চার্জশিট দাখিল করেন। বাদিপক্ষের নারাজির প্রেক্ষিতে মোকদ্দমাটি পুনঃতদন্তের আদেশ হয়। এসআই সাইফুল ইসলাম পুনরায় তদন্ত করে ২০০৪ সালে ২য় চার্জশিট দাখিল করেন। আওয়ামী লীগ নেতা নইদুল ও ঘোষণসহ বিএনপি ও আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের নাম উল্লেখ করে ২৯ জনকে আসামি করে ২য় দফা চার্জশিট দাখিল করেন। ২য় দফা চার্জশিটের বিষয়ে বাদিপক্ষ নারাজি দিলে আদালত তা না-মঞ্জুর করে। পরে উচ্চ আদালতের নির্দেশে মামলাটির তৃতীয় দফা তদন্ত শুরু হয়। তৃতীয় দফা তদন্তশেষে বেলকুচি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) কেএম সামছুদ্দিন পূর্বের চার্জশিটে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অব্যাহতি প্রার্থনা করে বেলকুচি উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাজী জামালউদ্দিন ভুঁইয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আ. রাজ্জাক মন্ডল ও বাঙ্গাবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম গোলামসহ মোট ৩১ জনকে আসামি করে ১৭ জুন ৩য় দফা চার্জশিট দাখিল করেন। তৃতীয় দফা চার্জশিট দাখিলের পর আসামিপক্ষ মোকদ্দমা কোয়াশমেন্ট বাতিলের জন্য হাইকোর্টে আবেদন করে। উল্লিখিত কোয়াশমেন্ট পিটিশন বর্তমানে হাইকোর্টে শুনানির অপেক্ষায় আছে। গত ৩ নভেম্বর জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে আসমিপক্ষ হাইকোর্টের আদেশ দাখিল করে মোকদ্দমাটি কার্যক্রম মূলতবি রাখার প্রার্থনা করে। পরেরদিন ৪ঠা নভেম্বর বাদিপক্ষ মোকদ্দমাটির চার্জশিট গ্রহণের জন্য জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে আবেদন করলে বিচারক শুনানি অন্তে মোকদ্দমার সর্বশেষ চার্জশিট গ্রহণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেন এবং আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ইস্যু করেন।