চুল থাকুক ধুলোবালিমুক্ত

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০১৩, ১৯:৪৪
রূপকড়চা শীত আসতে বেশি দেরি নেই। এই শুষ্ক আবহাওয়ায় চুলকে পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। বিশেষ করে ধুলোবালিমুক্ত। তার জন্য কিছু কিছু নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হয়। সেই নিয়ম-কানুন নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন। লিখেছেন নওশীন শর্মিলী শীতের আভাস পেয়ে আকাশ ছেড়ে পালিয়েছে মেঘ। মেঘ নেই তো বৃষ্টিও নেই। আর এই সুযোগে রাস্তা-ঘাট, বাড়ির আশপাশ এককথায় সবকিছু দখল করে নিয়েছে ধুলোবালি। এমনকি ঘরের মেঝেও এখন বালির দখলে। আর এসব বালি যে শুধু পায়ের তলায়ই পড়ে থাকে, তা কিন্তু না। বাতাসে ভর করে উঠে আসে উপরেও। আর এতেই অপরিচ্ছন্ন হয় চুল। আর চুল অপরিচ্ছন্ন হওয়া মানেই নানা রকম জটিলতার মুখোমুখি হওয়া। কারণ, খুশকি থেকে শুরু করে চুলের যত রকম সমস্যা আছে, সব সমস্যারই মূল কারণ অপরিচ্ছন্নতা। অতএব, যেকোনোভাবেই হোক চুলকে পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। রাখতে হবে ধুলোবালিমুক্ত। তবে, চুলকে পরিচ্ছন্ন তথা ধুলোবালিমুক্ত করতে গিয়ে চুলের উপর এমন অত্যাচার করা যাবে না, যাতে চুল পড়তে পড়তে পুরো মাথা খালি হয়ে যায়। এর জন্য নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম-কানুন রয়েছে। এগুলো অনুসরণ করলে চুল পরিষ্কারও হবে, আবার চুলের কোনো ক্ষতিও হবে না। অতএব প্রথমেই জেনে রাখা ভালো, কীভাবে ধুলোবালি লাগার হাত থেকে চুলকে রক্ষা করা যায়। কারণ, ধুলোবালি লেগে যাওয়ার পর পরিষ্কার করার চেয়ে আগে থেকেই সতর্ক থাকা ভালো, যাতে ধুলোবালি না লাগতে পারে। এর জন্য কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করা যেতে পারে। যেমন—বাইরে বের হওয়ার আগে চুল বেঁধে নিতে হবে। বেঁধে নিলে চুল যেহেতু ছড়িয়ে থাকার সুযোগ পায় না, অতএব ধুলোবালিও খুব একটা লাগে না। যতটুকু লাগে তা শুধু চুলের উপরিভাগে। ভেতরে প্রবেশের সুযোগ পায় না। চুল বাঁধার সময় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এমনভাবে বাঁধা যাবে না, যাতে চুল ভেঙে বা ফেটে যায়। চুল বাঁধতে হবে নরম বেল্ট অথবা কাঁটা ক্লিপ দিয়ে। যারা স্কার্ফ ব্যবহার করে অভ্যস্ত, তারা স্কার্ফও ব্যবহার করতে পারেন। এতে চুল একেবারেই নিরাপদে থাকবে। আজকাল অনেক আধুনিক ডিজাইনের স্কার্ফ পাওয়া যায়। সঙ্গে ছোট ছাতাও রাখা যেতে পারে। ছাতা শুধু আপনার চুলকেই নয়; পুরো শরীরকেই রক্ষা করবে রোদ থেকে। এতে আপনার ত্বকও থাকবে নিরাপদ। চুলের পরিচ্ছন্নতায় চুলের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে যতই সতর্ক থাকা হোক না কেন, তবু ময়লা লেগে যেতেই পারে। তাই ময়লা লেগে যাওয়ার পর সেটি কীভাবে পরিষ্কার করতে হবে, তা জানা প্রয়োজন। চুলের পরিচ্ছন্নতার জন্য সবাই সবচেয়ে সাধারণ যে পদ্ধতিটি অবলম্বন করেন, তা হলো শ্যাম্পু ব্যবহার করা। তবে সবাই যে প্রতিদিন শ্যাম্পু ব্যবহারের সুযোগ পান, তা কিন্তু নয়। অনেকেই সময় করে উঠতে পারে না, আবার অনেকেরই জানা নেই, শ্যাম্পু ব্যবহারের সঠিক নিয়ম। তবে, রূপবিশেষজ্ঞদের মতে প্রতিদিন শ্যাম্পু ব্যবহার করা উচিত এই জন্য, যেহেতু চুলের গোড়ায় ময়লা ও ঘাম জমে চুলের ও ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি করে। এ ক্ষেত্রে মাইল্ড শ্যাম্পু অথবা ইউভি (অতি বেগুনি) ব্যবহার করা জরুরি। কারণ, এ ধরনের শ্যাম্পুতে রাসায়নিক দ্রব্য কম থাকে। যেমন—বাচ্চাদের শ্যাম্পু, হারবাল বা ফ্রুটস শ্যাম্পুগুলো। শ্যাম্পু করার পর চুলের কন্ডিশনের কোনো বিকল্প নেই। কারণ, ধুলোবালিতে চুলের রুক্ষতা বেড়ে যায়। যত তাড়াতাড়ি চুলের ময়লা পরিষ্কার করে ফেলা যায়, চুলের জন্য ততই ভালো। যারা প্রতিদিন শ্যাম্পু করতে পারেন না, তাদের উচিত সপ্তাহে অন্তত তিন-চার দিন শ্যাম্পু করা। যারা মনে করেন, বাড়িতে তৈরি কিছু হেয়ারপ্যাক দিয়ে চুল পরিষ্কার করবেন, তাও করতে পারেন। এতে চুল আরও বেশি নিরাপদ থাকবে। বাড়িতে হেয়ারপ্যাক তৈরি করতে হলে যেসব উপাদান লাগবে, সেগুলো হলো—অর্ধেক কলা, এক টেবিল চামচ টক দই, এক টেবিল চামচ অলিভ অয়েল অথবা নারকেল তেল। এসব উপাদান একসঙ্গে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে চুলের গোড়ায় লাগিয়ে গরম পানিতে ভেজানো তোয়ালে দিয়ে ১৫-২০ মিনিট বেঁধে রেখে শ্যাম্পু করলে চুল সতেজ ও ঝরঝরে হয়ে যাবে। তবে, ধোয়ার পর অবশ্যই ভালোভাবে খেয়াল রাখতে হবে, যাতে চুলের গোড়ায় হেয়ারপ্যাক না থাকে। হেয়ারপ্যাক থেকে গেলে সেটা চুলের ক্ষতি করবে। গরমের দিনে অতিরিক্ত গরমের কারণে মাথার ত্বকে নানা রকম সমস্যা দেখা দেয়। যেমন—অনেক সময় দেখা যায়, মাথার ত্বকে ছোট ছোট ফোসকা বা ঘামাচি উঠেছে। এই ফোসকা বা ঘামাচি দূর করতে হলে সপ্তাহে একদিন নিমপাতা ভেজানো পানি দিয়ে মাথা ধুয়ে নিতে হবে। যাদের মাথায় ঘামাচির পরিমাণ বেশি, তারা আদার রসও দিতে পারেন। এগুলো মাথার ত্বকে অ্যান্টিসেফটিকের কাজ করে। তবে, এতক্ষণ যেসব যত্নের কথা বলা হলো, সেগুলো চুলের বাহ্যিক যত্ন। চুলকে সব দিক থেকে স্বাস্থ্যকর রাখতে হলে শুধু বাহ্যিক যত্ন নিলেই চলবে না, নিতে হবে আভ্যন্তরীণ যত্নও। আর সেই যত্ন নিশ্চিত হবে স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণের মধ্য দিয়ে। চুলকে সুস্থ রাখতে হলে পানিজাতীয় খাবার, পানি, ফল, শাক-সবজি ইত্যাদি বেশি বেশি খেতে হবে। নিয়মিত এসব খাবার খেলে চুল শুধু ঝলমলে আর সুন্দরই হবে না; চুল ঝরে পড়াও বন্ধ হবে। মনে রাখবেন, আপনার মাথায় যদি ঝলমলে সুন্দর চুল থাকে, তাহলে আপনাকে দেখতে ভালো লাগবেই। কারণ, সৌন্দর্য অনেকটাই নির্ভর করে চুলে। মডেল শায়না ছবি আশীষ সেনগুপ্ত