সকালের নাস্তা থেকে শুরু করে রাতের খাবার, সংসারের সব কাজ এক হাতে সামলাতে হয়। আর ঝটপট সেই কাজ আজকালকার গৃহিণীরা সেরে ফেলছেন বাজারে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য হোম অ্যাপ্লায়েন্সের মাধ্যমে। যা আমাদের কাছে পরিচিত গ্যাজেটস নামে। শুধু দেখে নেওয়া প্রয়োজন কোনটা আপনি কিনবেন, কেন কিনবেন আর কীভাবেইবা তা ব্যবহার করবেন। এইসবের খোঁজখবর দিচ্ছেন সাজেদুল ইসলাম শুভ্র
কেনার আগে যা দেখে
নেওয়া প্রয়োজন
জিনিসটি আদৌ আপনার প্রয়োজন কি না দেখে নিন।
কত দামের মধ্যে কিনবেন ঠিক করে নিন। একটু বেশি দাম দিয়ে হলেও ভালো মানের পণ্য কিনুন।
প্রতিদিনের ব্যবহারের জন্য হলে জটিল কোনো গ্যাজেট না কেনাই ভালো।
একবারে বেশি ক্যাপাসিটির গ্যাজেট কিনলে সুবিধা হয়, তবে তা বাসায় রাখার জায়গা আছে কি না দেখে নিন।
গ্যাজেটটি যিনি ব্যবহার করবেন তিনি ঠিকমতো সেটি পরিচালনা করতে পারবেন কি না দেখে নিতে হবে। ছোটদের বিদ্যুত্ চালিত গ্যাজেটস ব্যবহার না করতে দেওয়াই ভালো।
মাইক্রোওয়েভ ওভেন
কী কী সুবিধা পাবেন
প্রায় সব ধরনের খাবার বানানো যায়।
ফ্রিজ থেকে বের করে খুব সহজে অল্প সময়ে খাবার গরম করা যায়।
রান্নাঘরে তাপ, ঝাঁঝ অনেকটাই কমে যায়।
কেনার আগে যা দেখে নেওয়া প্রয়োজন :
পরিবারের লোকসংখ্যা এবং রাখার জায়গা বুঝে ওভেন কিনুন।
একবারে একটু বড় সাইজের কিনলে বেশি লোকের রান্না একসাথে করতে পারবেন।
যদি আপনি রান্না করতে ভালোবাসেন আর নিত্যনতুন রান্না করতে চান তাহলে গ্রিল আর কনভেকশন সুবিধা দেখে ওভেন কিনুন। শুধু খাবার গরম করতে চাইলে অথবা সাধারণ রান্নার জন্য অল্প দামেই ভালো ওভেন পাবেন।
মাইক্রোওভেনের জন্য তাপসহায়ক আলাদা বাসন কিনুন। সাধারণ বাসন দিলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
কেমন দাম পড়বে
সাধারণ ওভেন ৮ থেকে ১০ হাজারের মধ্যে পাবেন, গ্রিল আর কনভেকশন সুবিধাসহ দাম পড়বে ১০ হাজার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২০ হাজার পর্যন্ত।
বিটার
কী কী সুবিধা পাবেন
বিটার দু’ধরনের হয়, ম্যানুয়াল আর ইলেকট্রিক। ম্যানুয়াল বিটারে নিজের ইচ্ছেমতো হাত দিয়ে গতি নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
ইলেকট্রিক বিটার অনেক সুবিধাজনক, এতে অনেক জিনিস একসাথে বিট করা যায়।
কেনার আগে যা দেখে নেওয়া প্রয়োজন
বিটার যেন শকপ্রুফ হয়।
প্লাস্টিক না স্টিল কোনটা ভালো হবে দেখে নিন।
কেমন দাম পড়বে
ম্যানুয়াল বিটার হাতের কাছে খুব সস্তায় পাওয়া যায় ৫০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে। ইলেকট্রিক বিটারের দাম পড়বে প্রকারভেদে ৭০০ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত।
ইলেকট্রিক চিমনি
কী দেখে কিনবেন
প্রথমেই জেনে নিন, আপনার রান্নাঘরের জন্য কেমন ক্ষমতার চিমনি প্রয়োজন।
মেটাল গ্রিজ ফিল্টার বেছে নিন। খুব বেশি তেল মশলার ঝামেলা না থাকলে চারকোল ফিল্টারই সুবিধাজনক।
খুব বেশি গন্ধ বা রান্নাঘরের আয়তন ছোট হলে ব্লোয়ার কিনুন।
ফিল্টার যেন পরিষ্কার ও পরিবর্তন করা যায় সেদিকে খেয়াল রাখুন। বছরে অন্তত দু’বার ফিল্টার পাল্টে ফেলুন।
স্যান্ডউইচ মেকার
বাসায় ঝটপট অল্প সময়ে স্যান্ডউইচ তৈরি করতে এর জুড়ি নেই। বাচ্চারাও ইচ্ছে করলে করে নিতে পারে নিজেদের টিফিন।
কেনার আগে যা দেখে নেওয়া প্রয়োজন
বড় পরিবার হলে কিনুন ওভাল সাইজের মেকার।
তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করার সুবিধা দেখে নিন।
ননস্টিক প্লেটের মেকার কিনুন, এতে পরিষ্কার করতে সুবিধা হবে।
স্পেশাল লক সিস্টেম থাকলে সুবিধা হয়।
কেমন দাম পড়বে
মানভেদে স্যান্ডউইচ মেকারের দাম পড়বে ৯০০ টাকা শুরু করে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত।
ব্লেন্ডার
কী কী সুবিধা পাবেন
ব্লেন্ডারের মাধ্যমে খুব সহজে আপনি জুস, লাচ্ছি তৈরি করতে পারবেন। আলাদা গ্রাইন্ডার ব্যবহার করে করতে পারেন মসলা। তাই রান্নাঘরের ঝামেলা অনেকটাই কমে যাবে।
কেনার আগে যা দেখে নেওয়া প্রয়োজন
ব্লেন্ডার কেনার সময় অবশ্যই ক্যাপাসিটি দেখে নিন।
জুসারের সাথে বাড়তি কী সুবিধা আছে তা দেখে নিতে হবে।
বডি যেন শকপ্রুফ হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন।
এমন মিক্সিং কিনুন যাতে গতি বাড়ানোর জন্য আলাদা আলাদা সুইচ রয়েছে।
কেমন দাম পড়বে
শুধু জুস ব্লেন্ডারের জন্য কিনলে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০-এর মধ্যে পড়বে, আর যদি গ্রাইন্ডার ও অন্যান্য সুবিধাসহ কিনেন তাহলে পড়বে ২ হাজার থেকে শুরু করে ৫ হাজার পর্যন্ত।
ওয়াশিং মেশিন
কী কী সুবিধা পাবেন
টপ লোডার (যেটাতে উপর দিয়ে কাপড় ভরা হয়) ওয়াশিং মেশিন থেকে ফ্রন্ট লোডার (যেটাতে সামনে দিয়ে কাপড় ভরা হয়) মেশিন বেশি সুবিধাজনক।
ফ্রন্ট লোডার মেশিনে কাপড় পরিষ্কারের সময় পানি কম খরচ হয়।
কাপড়ের সংখ্যা অনুযায়ী ওয়াটার লেভেল ঠিক করে নিতে হবে।
কেনার আগে যা দেখে নেওয়া প্রয়োজন
পরিবারের সদস্য সংখ্যা অনুযায়ী মেশিন কিনুন।
সেমি অটোমেটিক মেশিনে কাপড় কাচা ও শুকানো আলাদাভাবে করতে হয়। আর অটোমেটিক মেশিনে একসাথেই এই কাজ সারতে পারবেন।
অপারেট করতে সহজ এমন মেশিন কিনুন।
কেমন দাম পড়বে
প্রকারভেদে দাম পড়বে ১০ হাজার থেকে শুরু করে ২৫ হাজার পর্যন্ত।
ভ্যাকুয়াম ক্লিনার
কী কী সুবিধা পাবেন
পরিষ্কার করতে পারবেন মেঝে ও কার্পেট দুটোই।
পর্দা, কুশন, সোফা, বালিশে লুকিয়ে থাকা ময়লা খুব সহজে পরিষ্কার করতে পারবেন।
নানা রকম অ্যাটাচমেন্টের মাধ্যমে পরিষ্কার করতে পারবেন সিলিং, খাটের তলা, এমনকি উঁচু দেয়ালের কোণও।
কেনার আগে যা দেখে নেওয়া প্রয়োজন
হাল্কা ক্লিনার কিনুন, এতে সহজে টেনে নেওয়া যায়।
প্রতিটির সাথেই আলাদা অ্যাটাচমেন্ট থাকে, দেখে নিন আপনার কোনগুলো জরুরি।
ক্লিনারের চাকায় ঠিকমতো প্যাড লাগানো আছে কিনা দেখে নিন।
প্লাস্টিকের চেয়ে মেটাল অ্যাটাচমেন্ট বেশি দিন টেকে, তাই কেনার সময় তা দেখে নিন।
দাম কেমন পড়বে
প্রকারভেদে দাম পড়বে ২ হাজার থেকে ৫ হাজার পর্যন্ত।
এয়ার কন্ডিশনার
কী কী প্রস্তুতি লাগবে
এয়ার কন্ডিশনার দু’রকম হয়ে থাকে। উইন্ডো এসি আর সিপ্লট এসি। ছোটঘরের জন্য উইন্ডো এসি যথেষ্ট। তবে এই এসি লাগানোর জন্য দেয়াল খানিকটা কাটতে হয়।
বড় ঘরের জন্য আদর্শ হলো সিপ্লট এসি। এতে দেয়াল কাটা লাগে না, ছোট একটা ছিদ্র করলেই হয়।
ঘরের আয়তন দেখে সে অনুযায়ী এসি কিনুন। অযথা বড় এসি কিনবেন না।
দাম কেমন পড়বে
উইন্ডো এসির দাম তুলনামূলক বেশ কম। আকারভেদে ৩০ হাজার থেকে ৬০ হাজার। সিপ্লট এসির দাম পড়বে আকার অনুযায়ী ৪৫ হাজার থেকে ৯০ হাজার পর্যন্ত।
