সেই ছোটবেলা থেকেই আমরা হাসি সম্পর্কে শুনে আসছি পরস্পরবিরোধী কথা। কেউ বলে, বোকারা নাকি তিনবার হাসে, আবার কেউ বলে হাসি হার্টের জন্যে উপকারী। তবে সব কথার শেষ কথা হলো, হাসির কোনো বিকল্প নেই। নানান কাজের ব্যস্ততায় প্রতিদিন হাঁপিয়ে উঠতে হয় আমাদের। উচ্চস্বরে না বললেও, অন্তত বিড়বিড় করে বলি—এত যন্ত্রণা আর সহ্য হয় না। কখনও কখনও একটু অবসর পেলেই ছুটে যেতে ইচ্ছে করে বন্ধুদের আড্ডায়। মেতে উঠতে ইচ্ছে করে হাসি-আনন্দে। তবে এটা ঠিক যে, সবসময় সুযোগ হয়ে ওঠে না। সেটা নিজের পড়াশোনার চাপের জন্যেও হতে পারে, আবার মা-বাবার শাসনের কারণেও হতে পারে। আবার এটাও ঠিক, হাসি-আনন্দ ছাড়া জীবন চলতে পারে না। কারণ, ভালো থাকা আর ভালো রাখার গুরুত্বপূর্ণ এক উপায় হলো হাসি। শুধুমাত্র হাসির কল্যাণে শত বিষাদের মাঝেও খুঁজে পাওয়া যায় সীমাহীন সুখ। যে সুখ শরীর ও মনের দিক থেকে যে কাউকে সুস্থ রাখবে।
হাসির নানা উপকারিতা
মানুষের মন আর আকাশের মধ্যে নাকি তেমন কোনো তফাত্ নেই। আকাশ যেমন ক্ষণে ক্ষণে রঙ বদলায়, ঠিক তেমনি মানুষের মনও এই ভালো এই খারাপ। তারই ধারাবাহিকতায় আপনার মনটা যখন প্রচণ্ড খারাপ থাকে, তখন একটি হাসির সিনেমা অথবা হাসির নাটক চালিয়ে দিন। দেখবেন, কখন যে হাসতে হাসতে আপনার মন ভালো হয়ে যাবে, আপনি টেরই পাবেন না। হাসির অন্যতম উপকরণ হিউমার। হিউমার আপনাকে উত্সাহিত করে নতুনভাবে জীবন এবং পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি দেখতে; পাশাপাশি নতুন উদ্যমে জীবনের কোনো শঙ্কা, বিপদ এবং দুর্বল মুহূর্তের মোকাবিলা করতে। হিউমার আসলে একধরনের ব্রেন এক্সপেরিয়েন্স। আমাদের মস্তিষ্কে ‘হিউমার মাসল’-এর এমন এক নেটওয়ার্ক আছে, যা বিভিন্ন সময়ে আমাদের মস্তিষ্কে নানারকম সিগনাল পাঠায়। আরও একটি বেশ ভালো দিক আছে হাসির। হাসি আমাদের স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। অতএব, জীবনের প্রতিটি জিনিসকেই অকারণে সিরিয়াসলি নেওয়ার কোনো দরকার নেই। কারণ, সব বিষয়ই সিরিয়াসলি নিতে গেলে মুখটাকে গম্ভীর করে রাখতে হবে। আর এই সুযোগে জীবন থেকে সব হাসি, আনন্দ, ফূর্তি হারিয়ে যাবে। তরুণরা নানা কারণে মোটামুটি সারাদিনই বাইরে থাকে। সেসময় হুট করে মন খারাপ হয়ে গেলে করার কিছুই থাকে না। কারণ, তখন না পাওয়া যায় মজার কোনো বন্ধুকে কিংবা ভালোলাগার মানুষটিকে। তাহলে এই পরিস্থিতিটা মোকাবিলা করার উপায় কী? উপায় হলো, নিজের ব্যাগে দু-একটা হাসির বই রাখা। হতে পারে সেগুলো কৌতুকের বই। তাহলে দেখা যাবে, দু-একটা কৌতুক পড়ামাত্রই বাঁধভাঙা হাসি এসে মন খারাপ ভাবটা উড়িয়ে নিয়ে যাবে। মাঝেমধ্যে তরুণদের জীবনে এমন কিছু পরিস্থিতি আসে, যা কোনো তরুণের পক্ষেই একা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। সেক্ষেত্রে সেইসব পরিস্থিতি নিয়ে অকারণে চিন্তা করার কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ, সবকিছুরই একটা সমাধান আছে। প্রথমে বিষয়টা নিয়ে বন্ধুদের সাথে আলোচনা করা যেতে পারে। মা-বাবার সঙ্গে আলোচনা করার মতো বিষয় হলে, তাদের সঙ্গেও আলোচনা করা যায়। তবু কোনো সমাধান না হলে পুরো বিষয়টাই সময়ের হাতে ছেড়ে দেওয়া যেতে পারে। কারণ, এ নিয়ে বেশি দুশ্চিন্তা করতে গেলে দেখা দেবে নানা রোগের লক্ষণ। তাই এসব থেকে দূরে থাকতে হবে। ঠোঁটের কোণে যেন সব সময় হাসি লেগেই থাকে, সে চেষ্টা করতে হবে। শিশুদের মধ্যে দারুণ এক ক্ষমতা থাকে। এই ক্ষমতাবলে তারা যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতেও যে কারো মুখে হাসি ফোটাতে পারে। তাই যতটা সম্ভব শিশুদের সঙ্গে সময় কাটানোর চেষ্টা করতে হবে। তাদের সঙ্গে গেমস খেলা যেতে পারে এবং বেড়াতে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে এখানে সেখানে। তাহলে আপনি বুঝতেই পারবেন না, আপনার মাথা থেকে কখন দুশ্চিন্তা সরে গেছে। সর্বোপরি জীবন আর পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির প্রতি একটি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে হবে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত ক্যালরি থেকে রক্ষার জন্যও হাসি খুব উপকারি। ফেসিয়াল এক্সারসাইজ হিসেবেও হাসি কার্যকর। কারণ, হাসার সময় আমাদের মুখের ১৫টি ছোট ছোট মাসল কাজ করার ফলে রক্ত সঞ্চালন বেশি হয় এবং এর ফলে মুখের ত্বক উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। হাসি আমাদের নানারকম ব্যথা সহ্য করার শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। অতএব, প্রাণ খুলে হাসতে হবে। বন্ধুদের আড্ডায় তো বটেই; এমনকি নতুন কোনো জায়গায় গিয়েও গোমড়া মুখে বসে থাকা চলবে না। হাসতে হবে এবং হাসাতে হবে।
মডেল শখ
ছবি আশীষ সেনগুপ্ত
