দরকারি
অনেকেই মনে করে থাকেন, তরুণরা শুধু স্টাইলের জন্যই ক্যাপ ব্যবহার করে। না, ক্যাপ শুধু স্টাইল কিংবা ফ্যাশনের জন্যই নয়। ক্যাপ অত্যন্ত দরকারি একটি জিনিসও বটে। বিশেষ করে অতিরিক্ত ধুলোবালি থেকে চুলকে রক্ষা করতে ক্যাপের চেয়ে নিরাপদ জিনিস আর নেই। এ ছাড়া যারা ছাতা ব্যবহার করে অভ্যস্ত না, তারা খুব সহজেই ছাতার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন ক্যাপ। এতে মাথা ও মুখ দুইই রোদের হাত থেকে রক্ষা পায়। অথচ রোদ থেকে এই দুটি অঙ্গ রক্ষা করা না হলে মাথাব্যথা তো হতেই পারে; পুড়ে যেতে পারে মুখের ত্বকও। শীতের সময় ছেলেমেয়েরা ক্যাপ ব্যবহার করে আরও একটি কারণে। সেটি হলো, শীত থেকে মাথা রক্ষা। ক্যাপ মাথায় দিলে মাথা পুরোপুরি না ঢাকলেও শিশির পড়ে না। বাজারে এখন বিভিন্ন রং এবং ডিজাইনের ক্যাপ পাওয়া যায়। বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এখন আধুনিক ডিজাইনের ক্যাপের পাশাপাশি পুরোনো ফ্যাশনের কিছু ক্যাপের চাহিদাও বেশ, বিশেষ করে সত্তর-আশির দশকের নায়কেরা যেসব ক্যাপ ব্যবহার করতেন। এবার তাহলে জেনে নেওয়া যাক বিভিন্ন ডিজাইনের ক্যাপের নাম এবং বাজার দর।
সান ক্যাপ
সান ক্যাপ নামটি শুনলেই বুঝা যায়, এটি সূর্য-সংশ্লিষ্ট একটি ক্যাপ। আসলেও তাই। সূর্যের কিরণ থেকে শুধুমাত্র মুখমণ্ডল রক্ষাই হচ্ছে এই ক্যাপের প্রধান কাজ। আমরা সাধারণত যেসব ক্যাপ অহরহ দেখি, সেগুলো থেকে এই ক্যাপ একটু আলাদা। এই ক্যাপের উপরের অংশ একেবারেই খোলা থাকে। খোলা রাখা হয় মূলত মাথায় যাতে সহজেই আলো-বাতাস লাগে, সে জন্য। আর এই জাতীয় ক্যাপ দেখতেও বেশ চমত্কার। প্রথম দেখাতেই যে কারও দৃষ্টি কাড়ে। সান ক্যাপের দাম পড়বে ৭০ থেকে ১০০ টাকা।
নেট ক্যাপ
ক্যাপের নাম নেট ক্যাপ বলে পুরো ক্যাপ কিন্তু নেট তথা জালের তৈরি নয়। বরং এর পেছনের দিকটা নেটের তৈরি থাকে। কোনো কোনোটার সামনের অংশেও নেট থাকে। নেট দিয়ে তৈরি এসব নেট ক্যাপ যারা পরে, তারা এই উদ্দেশ্যে পরে, যাতে মাথায় আলো-বাতাস প্রবেশ করতে পারে। আবার পুরোপুরি রোদটাও না লাগে। একেকটি নেট ক্যাপ পাওয়া যাবে ১৫০ থেকে ২০০ টাকায়।
স্পোর্টস ক্যাপ
স্পোর্টস ক্যাপগুলো যেহেতু খেলোয়াড়দের জন্য বানানো হয়, তাই এসব ক্যাপে বিভিন্ন ক্লাবের নাম, লোগো ইত্যাদি দেওয়া থাকে। যারা খেলাধুলা করেন, তাদের এই ক্যাপ ছাড়া চলেই না। স্পোর্টস ক্যাপের দাম পড়বে ১৫০ থেকে ৫৫০ টাকা।
গলফ ক্যাপ
সাধারণত গলফ খেলোয়াড়রা গলফ খেলার সময় যে ক্যাপ পরে থাকেন, সেই ক্যাপই গলফ ক্যাপ নামে পরিচিত। তবে শুধু যে গলফ খেলোয়াড়রাই এখন এসব ক্যাপ পরে থাকেন, তা না। এখন অনেকেই এই ক্যাপ পরেন শুধু মাত্র ফ্যাশনের জন্য। প্রতিটি গলফ ক্যাপের দাম পড়বে ১৪০ থেকে ১৭০ টাকা।
রেকসিন ও জিন্স ক্যাপ
রেকসিন ক্যাপগুলো সাধারণত চামড়া দিয়ে বানানো হয়। আর জিন্স ক্যাপ বানানো হয় জিন্সের কাপড় দিয়ে। এসব ক্যাপে বিভিন্ন ধরনের ডিজাইন থাকে। থাকে নানা রকম ছবির ছাপ। ফ্যাশন সচেতন তরুণ-তরুণীদের কাছে এসব ক্যাপ এখন দারুণ জনপ্রিয়। এসব ক্যাপের দাম পড়বে ১২০ থেকে ২২০ টাকা।
জনসন ক্যাপ
জনসন ক্যাপের বেশ কয়েকটা নাম প্রচলিত আছে বাজারে। কেউ কেউ এই ক্যাপকে বলে জনসন, আবার কেউ কেউ বলে জনসিনা। তবে যে নামেই এই ক্যাপকে ডাকা হোক না কেন, এই ক্যাপগুলো বাহারি রং ও প্যারাসুট, গ্যাবার্ডিং, সুতি ইত্যাদি কাপড়ের হওয়ায় ক্রেতাদের খুব আকর্ষণ করে। এগুলো পাওয়া যাবে ১৮০ থেকে ২৫০ টাকায়।
হ্যাট
হ্যাট নামটি শুনলে যাদিও এটিকে ক্যাপ বলে মনে হয় না, তবে এটিও মূলত ক্যাপই। একটু আলাদা, এই যা। বাংলায় বললে হ্যাটকে বলা যায় সাহেবি টুপি। বাজারে নানা রকম হ্যাট পাওয়া যায়। হ্যাটের দাম নির্ভর করে মূলত ডিজাইনের উপর। নরম কাপড়ের তৈরি হ্যাট পাওয়া যায় ১০০ থেকে ১৮০ টাকায়। আর চামড়ার তৈরি হ্যাট পাওয়া যায় ৫৫০ থেকে ৯৫০ টাকায়।
যেখানে পাবেন
ক্যাপ পাওয়া যায় রাজধানীর সবগুলো অভিজাত শপিংমলেই। এ ছাড়া নিউ মার্কেট, বঙ্গবাজার, গুলিস্তান—এসব স্থানেও ক্যাপ পাওয়া যায়। তবে, একেবারেই কম দামে ক্যাপ কিনতে চাইলে খোঁজ করতে পারেন ফুটপাতের দোকানগুলোতে।
